পাবনায় শিশু কলি ধর্ষণ ও হত্যার রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার ২
পাবনা সদর উপজেলার কুলোনিয়ায় চতুর্থ শ্রেণির স্কুলছাত্রী কামরুন নাহার কলি (১০) হত্যার চাঞ্চল্যকর রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। গত ৯ সেপ্টেম্বর আইসক্রিম কিনতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া শিশুটির বস্তাবন্দি মরদেহ গত বুধবার তার বাড়ির পাশের ডোবা থেকে উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় আল ফালাহ একাডেমির চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী কলি স্থানীয় পাওয়ারলুম তাঁত কারখানার মালিক কামাল প্রামাণিকের মেয়ে ছিল। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে প্রতিবেশী এক ব্যক্তি ও তার এক ভাড়াটিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পাবনা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ। তিনি জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মোস্তফা প্রামানিক (৫৫) ও তার ভাড়াটিয়া ইয়াছিন আলী (২৫)। ইয়াছিন নিহত কলির বাবার কারখানায় শ্রমিকের কাজ করতেন এবং মোস্তফার বাড়ির নিচতলায় ভাড়া থাকতেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা শিশুটিকে ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।
.png)
পুলিশ জানিয়েছে, মোস্তফা আগে থেকেই বিকৃত চরিত্রের মানুষ ছিলেন এবং দোকানে আসা নারীদের বিভিন্ন ছবি তুলে রাখতেন। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় কলি আইসক্রিম কিনতে মোস্তফার দোকানে যায়। এ সময় মোস্তফা তাকে ফ্রিজ থেকে আইসক্রিম দেওয়ার কথা বলে নিজের বাড়ির ভেতরে ডেকে নেন। পরে মোস্তফা ও ইয়াছিন মিলে তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন। মেয়েটি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তারা তাকে গলাটিপে হত্যা করে। এরপর মরদেহ বস্তায় ভরতে গিয়ে তার দুপা কেটে ফেলা হয় এবং লাশটি ঘরের ভেতরেই লুকিয়ে রাখা হয়।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, কলি নিখোঁজের পর তার পরিবার যখন চারদিকে খোঁজাখুঁজি করছিল এবং মানববন্ধন করছিল, তখন খুনিরাও তাদের সাথে খোঁজাখুঁজির নাটক করে। একপর্যায়ে ঘর থেকে দুর্গন্ধ ছড়ালে এবং তল্লাশির সময় স্যাভলনের গন্ধ ও মোস্তফার আচরণে সন্দেহ হয় পুলিশের। পরে সন্দেহভাজন হিসেবে তাদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে লোমহর্ষক এই হত্যাকাণ্ডের সত্যতা বেরিয়ে আসে।
নিহত কলির বাবা কামাল প্রামাণিক বাদী হয়ে এ ঘটনায় পাবনা সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ সুপার আরও জানান, শুক্রবার আসামিদের আদালতে সোপর্দ করা হবে এবং অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের পাঁচ দিনের রিমান্ড চাওয়া হবে।