ঢাকা,  শুক্রবার   ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

শজিমেক হাসপাতাল দালাল মুক্ত করার দাবি

বগুড়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৭:০৭, ১২ নভেম্বর ২০২১
শজিমেক হাসপাতাল দালাল মুক্ত করার দাবি
শজিমেক হাসপাতাল দালাল মুক্ত করার দাবি ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

‘শজিমেক (বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ) হাসপাতাল দালাল মুক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে হাসপাতালের প্রতিটি কর্মকর্তা কর্মচারির ড্রেস  (পোশাক) নির্ধারণ করতে হবে। রোগী-স্বজনরা যেন সহজেই বুঝতে পারেন যে, কে চিকিৎসক এবং কে কোনো শাখায় কর্মরত কর্মী।’

বগুড়ায় চার দফা দাবিতে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা এসব কথা বলেন।

শুক্রবার বেলা ১১ টার দিকে শহরের সাতমাথা এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করে ছাত্র ইউনিয়নের জেলা সংসদ। সমাবেশ শুরুর আগে সংগঠনটির মিছিল শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে সাতমাথা এলাকায় সমাবেশ করা হয়।

সংগঠনটির জেলা সংসদের সাধারণ সম্পাদক সোহানুর রহমান সোহানের সঞ্চালনায় এ সময় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ফরিদ, যুব ইউনিয়নের জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শাহনিয়াজ কবির খান পাপ্পু, ছাত্র ইউনিয়নের জেলা সংসদের সাংগঠনিক সম্পাদক ছাব্বির আহম্মেদ রাজ, কোষাধ্যক্ষ বায়েজিদ রহমান, দপ্তর সম্পাদক নিয়ামুল ইসলাম আকিব, সাংস্কৃতিক সম্পাদক আব্দুল হামিদ সুজন, শিক্ষা ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক নাঈম ইসলাম, আজিজুল হক কলেজ সংসদের সভাপতি আরমানুর রশিদ আকাশ, পৌর শাখার যুগ্ন আহ্বায়ক মিলন হোসেনসহ আরো অনেকে।

শজিমেকে কম বকশিশ পেয়ে রোগী হত্যাকাণ্ডের বিচার ছাড়াও চার দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো না মানা হলে রাজপথে লড়াই সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন বক্তারা।

গত মঙ্গলবার রাতে ৫০ টাকা বকশিশ কম পেয়ে অক্সিজেন মাস্ক খুলে দেওয়ায় ১৮ বছর বয়সী বিকাশ চন্দ্র কর্মকার নামে এক রোগীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটে শজিমেক হাসপাতালে। ঐ হাসপাতালের অস্থায়ী কর্মচারী আসাদুল ইসলাম মীর ধলু রোগীর অক্সিজেন মাস্ক খুলে দিয়ে তাকে হত্যা করেন।

এ ঘটনায় মামলার পর ধলুকে বৃহস্পতিবার ভোরে ঢাকার আব্দুল্লাহপুর থেকে তাকে গ্রেফতার করে র‌্যাব।

ধলু গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কুমিরাডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবার নাম মৃত জয়নুদ্দিন মীর।

মৃত বিকাশ গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা উপজেলার পুটিমারী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি স্থানীয় একটি ওয়ার্কশপে গ্রীল ওয়েল্ডিং এর কাজ করতেন।

জানা গেছে, সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহন হন বিকাশ। তাকে শজিমেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে (নিচ তলা) চিকিৎসা শেষে মাথায় ব্যান্ডেজ এবং মুখে অক্সিজেন মাস্ক দিয়ে স্ট্রেচারে করে সার্জারি বিভাগে (তৃতীয় তলা) নেন হাসপাতালের কর্মচারী ধলু। তৃতীয় তলায় গিয়ে বিকাশের বাবা বিশু চন্দ্র কর্মকারের কাছে বকশিশ হিসেবে ২০০ টাকা দাবি করেন ধলু। ওই সময় বিশু কর্মচারী ধলুকে ১৫০ টাকা দেন।  কিন্তু ৫০ টাকা কম পেয়ে ধলু ক্ষিপ্ত হয়ে মুমূর্ষু রোগী বিকাশের অক্সিজেন মাস্ক খুলে দেন। এতে শ্বাসকষ্টজনিত কারণে বিকাশের মৃত্যু হয়। ওই সময়  হাসপাতালে অন্যান্য রোগী ও তাদের  স্বজনরা ঘটনাস্থলে জড়ো হন। পরে বিকাশের মুখে অক্সিজেন মাস্ক লাগিয়ে পালিয়ে যান ধলু।

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০ টার দিকে শজিমেক হাসপাতালে এই ঘটনা ঘটে। বিকাশের মৃত্যুর ঘটনায় বুধবার মধ্যরাতে বগুড়া সদর থানায়  মামলা করে শজিমেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। মামলায় ধলুকে আসামি করা হয়।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!