ধুলোর রাজ্য সিরাজদিখান
ধুলোর রাজ্যে পরিণত হয়ে উঠেছে মুন্সিগঞ্জের সিরাজদীখান উপজেলা। আকাশে-বাতাসে যেন শুধু ধুলো উড়ছে। উপজেলার ফসলি জমির মাটি কেটে তা মাহেন্দ্রতে করে উন্মুক্তভাবে বহন করা হচ্ছে। আবার সর্বত্র চলছে খুঁড়াখুঁড়ির কাজ। এই দুইয়ে মিলে জেলার সিরাজদিখান উপজেলার ১৪টি ইউপির সর্বত্র ধুলো ছড়াচ্ছে বাতাসের সঙ্গে।
এতে উপজেলার হাজার হাজার মানুষ বর্তমানে শ্বাসকষ্ট, ফুসফুসের ক্যান্সার, হাঁপানি ও যক্ষ্মাসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ছে। ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে বসন্তের বাতাসে উড়ে আসা ধুলোবালির কবলে পড়ছেন মানুষজন। আর এ থেকে রক্ষা পেতে খুব কম সংখ্যক মানুষই মাস্ক ব্যবহার করছেন। আর বেশির ভাগই অসচেতনায় ধুলোবালির সঙ্গে যুদ্ধ করেই জীবনযাপন করে যাচ্ছেন। ফলে শ্বাসকষ্ঠসহ চুলকানি, হাঁপানি ও যক্ষ্মার মতো নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ছেন।
চিকিৎসকদের মতে, শ্বাসনালী দিয়ে এসব ধুলোবালি প্রবেশের কারণে ফুসফুসের ক্যান্সারের মতো জটিল রোগও হতে পারে।
উপজেলার বালুচর, লতব্দী, বাসাইল কেয়াইন, চিত্রকোট, রশুনয়া, বয়রাগাদী ও শেখরনগর ইউনিয়নে ধূলার অত্যাচারে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। এ থেকে রেহাই পাচ্ছে না ট্রাফিক পুলিশও। পাশাপাশি বসত বাড়ি, স্কুল-কলেজ, মাদরাসা-মসজিদ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, চায়ের দোকান, মুদি দোকান, খাবার হোটেল, সরকারি- বেসরকারি ক্লিনিক ব্যাংক বীমাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের চিত্রও ধুলোবালিতে ঢাকা পড়ে যাচ্ছে।
বিক্রমপুর কে বি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ সামছুল হক হাওলাদার বলেন, নাক চেপেও রেহাই পাওয়া যায় না ধুলোবালি থেকে। সব সময় মাস্ক ব্যবহার করতে হয়।
বাজারের মুদির দোকানদার আক্তার হোসেন বলেন, সড়কে গাড়ি এসে থামার সঙ্গে-সঙ্গে পিছন দিক থেকে ধুলো এসে ভরে যায়। মিনিটের মধ্যে দোকান ধুলোয় সাদা হয়ে যায়। এসব নিয়ন্ত্রণ করা বা দেখার কেউ নেই। যতো দুর্ভোগ সব জনগণের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার ১৪ টি ইউপির বেশিরভাগ ফসলি জমির মাটি কেটে ও বালু দিয়ে বিভিন্ন ডোবা-নালা ও জমি ভরাটের কাজ করা হচ্ছে। ওই মাটি ও বালি বহনে ব্যবহার করা ৭ শতাধিক অবৈধ মাহেন্দ্রগুলোর কারনে ধুলোবালি বাতাসে উড়ছে বেশি।