ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

স্ত্রীকে ভালোবেসে কোটিপতি থেকে পথের ভিখারি

মো. রাকিবুর রহমান, চট্টগ্রাম
প্রকাশিত: ১৫:৫৮, ১৬ নভেম্বর ২০২০
স্ত্রীকে ভালোবেসে কোটিপতি থেকে পথের ভিখারি
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

স্ত্রীকে ভালোবেসে একে একে ছেড়েছিলেন মা, বাবা ও ভাইদের। প্রবাসে কষ্টার্জিত টাকায় দেশে স্ত্রীর নামে জমি কিনে গড়েছিলেন বাড়ি। আর সেই স্ত্রীই নারী নির্যাতনের মামলায় পাঠালেন কারাগারে। এ ধাক্কাই শেষ ছিল না তার জীবনে। কারাগার থেকে বেরিয়ে হলেন আরো বড় ধাক্কার সম্মুখীন। তার জমি-বাড়ি বিক্রি করে বাবার বাড়ি পাড়ি জমিয়েছেন স্ত্রী! ক্ষোভে, দুঃখে, অভিমানে আর ফিরে যাননি স্ত্রী-সন্তানদের কাছে। ভিখারি হয়ে ঘুরে বেড়াতেন মাজারে-মাজারে।

বলছিলাম চট্টগ্রাম নগরীর কোতোয়ালি থানার কাজির দেউড়ি এলাকার বাসিন্দা মো. আবু জাফরের কথা। গত সোমবার (৯ নভেম্বর) দুপুরে নগরীর আমানত শাহ মাজারের সামনের সড়কে পড়ে ছিল তার নিথর দেহ। পাশে ছিল মানুষের দেয়া কিছু ভাংতি টাকা। এমনই করুণ মৃত্যু হলো এক সময়ের কোটিপতি আবু জাফরের।

আরো পড়ুন>>> নাম ধরে গালি দেয়ায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তুমুল সংঘর্ষ

Advertisement

মোবাইলে স্ত্রী-সন্তানদেরও জানানো হয়েছিল বাবা আবু জাফরের মৃত্যুর খবর। মৃত্যুর পরও কঠিন নির্মমতা থেকে মুক্তি পাননি তিনি। শেষ দেখা দেখতেও এগিয়ে আসেনি স্ত্রী কিংবা সন্তানরা। বারবার যোগাযোগ করেও সাড়া পাওয়া যায়নি তাদের। মানুষের দেয়া অর্থে সম্পন্ন হয় দাফন।

আরো পড়ুন>>> লাশ থেকে কঙ্কাল আলাদা করতে গভীর অরণ্যে যেত বাপ্পি

জানা গেছে, দীর্ঘদিন কুয়েতে ছিলেন আবু জাফর। সেখানে দিনরাত পরিশ্রম করে অর্জিত সব টাকা পাঠাতেন স্ত্রী রোজি আক্তারের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে। আর সেই টাকায় নগরীর কাজির দেউড়ি এলাকায় স্ত্রীর নামে জমি কিনে গড়েছিলেন বাড়ি। পরবর্তীতে দেশে ফিরে শিকার হন নির্মমতার। ১০/১২ বছর আগে নারী নির্যাতনের অভিযোগ এনে আবু জাফরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন স্ত্রী রোজি আক্তার। সেই মামলায় কারাগারে যেতে হয় তাকে। পরে কারাগার থেকে বেরিয়ে জানতে পারেন- তার জমি-বাড়ি বিক্রি করে তিন সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়ি নোয়াখালীর মাইজদীতে পাড়ি জমিয়েছেন রোজি।

আরো পড়ুন>>> মানুষ মরলেই মুচকি হাসতো বাপ্পি, রাতের আঁধারে গায়েব করতো লাশ

আবু জাফরের আদি বাড়ি ছিল নগরীর আলকরণ এলাকায়। বাবার মৃত্যুর পর ভাইদের মধ্যে সম্পত্তি ভাগ হয়ে যায়। ভালোবেসে রোজি আক্তারকে বিয়ের পরই ভাইদের সঙ্গে দূরত্ব বেড়ে যায় তার। মৃত্যুর পর ভাইদের সঙ্গে যোগাযোগ করে চৈতন্যগলি কবরস্থানে দাফন করা হয় তাকে।

আরো পড়ুন>>> দুই বস্তা মাথার খুলি ও হাড় নিয়েই ঘুমাত ‘ভয়ংকর’ বাপ্পি

আমানত শাহ মাজারে থাকা ভবঘুরেরা জানায়, মাজারে মাজারে ঘুরে বেড়াতেন আবু জাফর। ভিক্ষা করে যা পেতেন, তা দিয়েই পেট চালাতেন। দুই মাস ধরে নিয়মিত মাজারে আসতেন আবু জাফর। একবার এলে থাকতেন ২-৩দিন। এবারও এসেছিলেন দুদিন আগে। রাস্তার পাশে বসে থাকতে থাকতে একসময় শুয়ে পড়েন। সবাই ভেবেছিল ঘুমাচ্ছেন আবু জাফর, কিন্তু অনেকক্ষণ সাড়া শব্দ না পেয়ে পুলিশকে জানানো হয়।

আরো পড়ুন>>> ব্যাংক থেকে ‘উধাও’ মাহমুদার ২৫ বছরের স্বপ্ন

কোতোয়ালি থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীন বলেন, আমানত শাহ মাজারের সামনের সড়কে পড়েছিলেন পঞ্চাশোর্ধ্ব আবু জাফর। খবর পেয়ে  তাকে দ্রুত উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। আবু জাফরের পরিবারকে বারবার খবর দেয়া হলেও কেউ আসেনি। পরে স্থানীয়রা তার ভাইদের সঙ্গে যোগাযোগ করে দাফন কাজ সম্পন্ন করে।

আরো পড়ুন>>> চা বাগানে কাজ পেয়েছেন অপু বিশ্বাস, দেখতে মানুষের ঢল

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!