ঢাকা,  বুধবার   ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ ধর্ম ]

পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদহম কী এবং কেন?

ডেইলি-বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:০১, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদহম কী এবং কেন?
আবদুল কাদের জিলানীর মাজার। ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম আজ বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর)। সারা দেশে যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদায় ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে দিবসটি পালিত হচ্ছে। গাউসুল আযম বড় পীর হজরত আবদুল কাদের জিলানি (রহ.)-এর ওফাত দিবস বিশ্বের মুসলমানদের কাছে ‘ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম’ নামে পরিচিত।

‘ইয়াজদাহম’ ফারসি শব্দ, যার অর্থ এগারো। ‘ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম’ বলতে রবিউস সানি মাসের এগারো-এর ফাতেহা শরিফকে বোঝায়। এই পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম শরিফ ইমামুল আউলিয়া পীরানে পীর গাউসুল আযম দস্তগীর হজরত মুহিউদ্দিন আবদুল কাদের জিলানি (রহ.)-এর স্মরণে পালিত হয়।

Advertisement

ইসলামের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ধর্মনেতা হজরত আবদুল কাদের জিলানী (রহ.) এর নাম প্রত্যেক মুসলমানের কাছে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয়। মুসলমানদের ধর্মীয় জীবনে তার প্রভাব অপরিসীম। তার জীবনী ও কীর্তিগাথা মুসলমানদের হৃদয়ে চিরদিন জীবন্ত হয়ে থাকবে।

একজন আদর্শ পুরুষ হিসেবে বিশ্ব জগতে মুসলমানদের কাছে হজরত বড়পীর আবদুল কাদের জিলানীকে (রহ.) পরম ভক্তি, শ্রদ্ধার সঙ্গে চিরকাল স্মরণ করবে। পৃথিবীতে আল্লাহ পাকের প্রেরিত নবী-পয়গম্বর এসেছেন ১ লাখ বা ২ লাখ ২৪ হাজার। 

অন্যদিকে, কামেল পীর, অলি, দরবেশ, ফকির যে কত এসেছেন তার ইয়ত্তা নেই। কিন্তু সব পীর, ফকির, দরবেশ, অলির সেরা ছিলেন হজরত আবদুল কাদের জিলানী (রহ.) মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ওফাতের প্রায় ৫০০ বছরপর জন্মগ্রহণ করেন। তখন ইসলাম ধর্ম এক নাজুক অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছিল।

পবিত্র কুরআন ও আল্লাহর রাসুল মুহাম্মদ (সা.)- এর আদর্শ ভুলে মানুষ বিপথে পা বাড়িয়েছিল, ঠিক এমনই সময় হজরত বড়পীর ইসলামের পথে মানুষকে ডাক দিয়েছিলেন।

হজরত আবদুল কাদের জিলানী (রহ.)-এর বাবার নাম সৈয়দ আবু সালেহ এবং মায়ের নাম বিবি ফাতেমা। হজরত আবদুল কাদের জিলানি (রহ.) ৪৭০ হিজরিতে ইরানের জিলান নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বাগদাদের মহান পীর হজরত আবু সাঈদ ইবনে আলী ইবনে হুসাইন মাখরুমির (রহ.) কাছে মারেফাতের জ্ঞানে পূর্ণতা লাভ করেন এবং খেলাফত প্রাপ্ত হন।

ইয়াজদহম পালন 
এ কথা অনস্বীকার্য হজরত আবদুল কাদির জিলানী (রহ.) এর অবদান বিশ্বে অনন্য। তিনি মুসলিমদের কাছে চির স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। তবে তার ওফাত উপলক্ষ্যে ঘটা করে দিনটি পালন করাকে উলামায়ে কেরাম জায়েজ মনে করেন না। কেননা ইসলাম এ ধরনের অনুষ্ঠানসর্বস্ব বিষয়কে স্বীকৃতি দেয় না। তবে এ দিনে তার শান্তির জন্য দোয়া মোনাজাত ও তার জীবনী আলোচনা করা যেতে পারে। এতে দোষের কিছু নেই। 

ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষে দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়, সরকারি-বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ছুটি থাকে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ওপর এ ছুটি নির্ভর করে। দিবসটিতে বিশ্ববিদ্যালয় ছুটি থাকলে সাধারণত আগে নোটিশ দেওয়া হয়।

ডেইলি-বাংলাদেশ/একেকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!