ঢাকা,  শনিবার   ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

হত্যার পর ‘খেলার ছলে ফাঁস’ নাটক সাজালো ইকরার আপন বাবা-মা

ময়নাতদন্তে খুলল জট
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১০:৫৪, ১৬ নভেম্বর ২০২০
হত্যার পর ‘খেলার ছলে ফাঁস’ নাটক সাজালো ইকরার আপন বাবা-মা
আকিলা ওসমান ইকরা

চার মাস আগে খেলতে গিয়ে ফাঁস লেগে শিশু আকিলা ওসমান ইকরার মৃত্যু হয়। কিন্তু ময়নাতদন্তে ‘শ্বাসরোধে হত্যা’ প্রমাণিত হওয়ায় এটি হত্যা মামলায় রূপান্তর হয়।

তদন্তে জানা যায়, ইকরাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে ফাঁস লেগে মৃত্যুর নাটক সাজানো হয়েছিল। আর এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলেন শিশুটির বাবা, সৎমা ও মামা। মৃত্যুর পর অপমৃত্যু মামলা নথিভুক্ত করেছিল থানা পুলিশ।  শিশুটিকে হত্যার বিচার চেয়েছেন তার নানি ও প্রবাসী মা। 

তাদের দাবি, ইকরাকে বাবার সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করতে হত্যা করা হয়েছে। ইকরা চট্টগ্রামের পোস্তারপাড় আছমা খাতুন সিটি করপোরেশন বালিকা বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

আরো পড়ুন: হিজড়াকেও ছাড়লো না ‘ভণ্ড’ প্রেমিক

৭ জুলাই ইকরার মৃত্যুর পর তার বাবা ও সৎমা দাবি করেছিলেন, জানালার গ্রিলের সঙ্গে ওড়না দিয়ে দোলনা বানিয়ে খেলতে গিয়ে ফাঁস লেগে অসুস্থ হয়ে পড়ে ইকরা। পরে তাকে উদ্ধার করে আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। 

বিষয়টি পুলিশের কাছে বিশ্বাসযোগ্য না হওয়ায় ওই দিন রাত ২টার দিকে মেয়েটির লাশ উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। পরদিন বিকেল ৩টার দিকে ময়নাতদন্ত শেষে লাশটি পরিবারকে বুঝিয়ে দেয়া হয়। 

চার মাস পর গত ১০ নভেম্বর ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পায় পুলিশ। প্রতিবেদনে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক ফারহানা রহমান শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে জানান। প্রতিবেদন পাওয়ার পর ওই দিনই শিশুটির নানি হাসমত আরা কহিনুর তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরদিন অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ।

আরো পড়ুন: লাশ থেকে কঙ্কাল আলাদা করতে গভীর অরণ্যে যেত বাপ্পি

হত্যাকাণ্ডে জড়িত তিনজনকেই গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা হলেন- ইকরার বাবা ডবলমুরিং থানার দেওয়ানহাট ১ নম্বর সুপারিওয়ালাপাড়ার রফিক সওদাগরের বাড়ির ওসমান ফারুক বিবলু, তার স্ত্রী শিরিন আক্তার, শিরিনের ভাই চন্দনাইশ উপজেলার গাছবাড়িয়া গ্রামের কাঞ্চনপাড়ার মো. মুছা।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডবলমুরিং থানার এসআই মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, শিশুটির মৃত্যুর পর পুলিশকেও খবর দেয়া হয়নি। গোপনে দাফনের চেষ্টা করেছিল পরিবার। খবর পেয়ে শিশুটির লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা নেয় পুলিশ।

কয়েক দিন আগে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেয়েছি। সেখানে শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যার কথা উল্লেখ রয়েছে। এরপরই অভিযান চালিয়ে জড়িতদের গ্রেফতার করা হয়। তাদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদে শিশুটিকে হত্যার কারণ বের করার চেষ্টা করা হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/জেএস/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!