লাশ থেকে কঙ্কাল আলাদা করতে গভীর অরণ্যে যেত বাপ্পি

ঢাকা, সোমবার   ১৪ জুন ২০২১,   আষাঢ় ১ ১৪২৮,   ০২ জ্বিলকদ ১৪৪২

লাশ থেকে কঙ্কাল আলাদা করতে গভীর অরণ্যে যেত বাপ্পি

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১১:১৯ ১৬ নভেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৩:৫৬ ১৬ নভেম্বর ২০২০

উদ্ধার হওয়া মাথার খুলি ও হাড়, ইনসেটে বাপ্পি

উদ্ধার হওয়া মাথার খুলি ও হাড়, ইনসেটে বাপ্পি

বাপ্পিকে কঙ্কাল সরবরাহ করত চক্রের আরো ৭-৮ জন সদস্য। সেসব কঙ্কাল কখনো নিজ বাসায়, কখনো গভীর অরণ্যে কিংবা জনশূন্য পাহাড়ে নিয়ে কেমিক্যাল মিশিয়ে মাংস পচিয়ে হাড় থেকে আলাদা করত সে। শনিবার রাতে ময়মনসিংহ নগরীর রামকৃষ্ণ মিশন রোডের বাসা থেকে বাপ্পিকে আটক করেছে পুলিশ। ওই সময় উদ্ধার করা হয়েছে ১২টি মানুষের মাথার খুলি ও দুই বস্তা হাড়।

ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি ফিরোজ তালুকদার জানান, নিজের বাসায়ই কঙ্কাল রাখত বাপ্পি। সেখান থেকে পাচার করা হত বিভিন্ন স্থানে। জেলা-উপজেলার বিভিন্ন কবরস্থান থেকে লাশ চুরি করে তার কাছে পাঠাত চক্রের বাকি সদস্যরা। বাপ্পী সেসব লাশ নির্জন স্থান, গভীর অরণ্য কিংবা দূরের পাহাড়ে নিয়ে কেমিক্যাল ব্যবহার করে লাশ থেকে মাংস পচিয়ে হাড় আলাদা করত। এরপর সেসব হাড় গরম পানি দিয়ে পরিষ্কার করে তুলে দিত পাচারকারীদের হাতে। তাদের মাধ্যমেই কঙ্কাল চলে যেত নেপাল ও ভারতে।

আরো পড়ুন>>> শ্বাসরোধে হত্যা করে খেলার ছলে ফাঁস দেয়ার ঘটনা সাজায় ইকরার বাবা-মা

তিনি আরো জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে- দেশেও এসব কঙ্কালের ক্রেতা রয়েছে। বাপ্পিকে জিজ্ঞাসাবাদে তার চক্রের সাত সদস্যে নাম পাওয়া গেছে। তাদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে। এছাড়া বাপ্পির ক্রেতাদেরও খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।

আরো পড়ুন>>> বাংলার বধূর সিরিয়াল কিলার হয়ে ওঠার পেছনে করুণ ইতিহাস

স্থানীয়রা জানায়,  বাপ্পির বাসার দোতলার বারান্দা পুরোটাই একটা পর্দা দিয়ে ঢাকা থাকত। বাসার জানালাও কখনো খোলা থাকতে দেখা যায়নি। বাপ্পিকেও ঘরের বাইরে খুব একটা বের হতে দেখেনি কেউ। তবে সে অনেক রাত জাগতো। রাত ৩টা-৪টা পর্যন্ত তার বাসার লাইট জ্বলতো। ভেতরে এত কিছু হতো তা কারো ধারণাতেই ছিল না।

আরো পড়ুন>>> ব্যাংক থেকে ‘উধাও’ মাহমুদার ২৫ বছরের স্বপ্ন

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর