তজুমদ্দিনে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা পরিচয়ে ‘টর্চার সেল’ চালানোর অভিযোগ
ভোলার তজুমদ্দিনে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা পরিচয়ে আব্দুল গফুর নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে মারধর, নির্যাতন ও বৈদ্যুতিক শক দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার মুচিবাড়ির কোনা এলাকায় তার ব্যক্তিগত কার্যালয়ে ‘টর্চার সেল’ রয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
সর্বশেষ বুধবার দুপুরে শম্ভুপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গোলকপুর এলাকার বাসিন্দা বাবুল ফরাজীকে মারধর ও বৈদ্যুতিক শক দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আব্দুল গফুর ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। আহত বাবুল বর্তমানে তজুমদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুরে মুচিবাড়ির কোনা এলাকার জাফরের দোকানে ওষুধ কিনতে যান বাবুল ফরাজী। এ সময় আব্দুল গফুরসহ কয়েকজন তাকে মারধর করেন এবং বৈদ্যুতিক শক দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
.png)
ঘটনার পর বাবুলের ছেলে রায়হান জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন। খবর পেয়ে তজুমদ্দিন থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাবুলকে উদ্ধার করে। পরে স্বজনরা তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় বাবুলের স্ত্রী জোসনা বেগম থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
এর আগের দিন মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় স্থানীয় শামসুল হককেও মারধর ও বৈদ্যুতিক শক দেওয়ার অভিযোগ ওঠে আব্দুল গফুরের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শামসুল হকও তজুমদ্দিন থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েক মাস আগে ছোট ডাওরী এলাকায় নুর হোসেন মাঝির মুদি দোকানে ঢুকে তাকে ও তার ছেলেকে রড দিয়ে মারধর করেন আব্দুল গফুর। পরে নুর হোসেন মাঝির পক্ষ থেকে মামলা করা হলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায়। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে জামিনে মুক্ত হয়ে তিনি আবারও বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয় বাসিন্দা মিজানুর রহমান, রায়হান, আব্দুর রব ও শরীফসহ কয়েকজন বলেন, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ কারও নেই। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আব্দুল গফুর। তার দাবি, নুরউদ্দিন, বাবুল, শামসুল হক ও রায়হানসহ কয়েকজন তাকে মারধরের উদ্দেশ্যে লাঠিসোঁটা নিয়ে মুচিবাড়ির কোনা বাজারে আসেন। এ সময় তিনি ও তার পক্ষের লোকজন তাদের ধাওয়া দেন। তিনি নিজেও হামলার শিকার হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানান।
এ ঘটনায় তিনিও তজুমদ্দিন থানায় অভিযোগ করবেন বলে জানিয়েছেন।
তজুমদ্দিন থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে আব্দুল গফুরকে কিছুটা আহত অবস্থায় পাওয়া যায়। অন্যদিকে বাবুল ফরাজীকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছিল।
ওসি বলেন, আব্দুল গফুরের বিরুদ্ধে বাবুল ফরাজী ও শামসুল হকের দুটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগগুলো তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে অন্য কোনো অভিযোগের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে সেগুলোও যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।