ভুল চিকিৎসায় চোখ হারাতে বসেছেন দিনমজুর সামছুল
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বাউরা বাজারে রিয়াজুল করিম (দাদুল) নামে এক পল্লী চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসায় চোখ হারাতে বসেছেন সামসুল হক নামে এক বৃদ্ধ।
দাদুল নামে ওই চিকিৎসকের কোনো সনদ পত্র না থাকলেও তার পরামর্শ পত্রে নিজেকে জেনারেল প্রাকটিশনার ও চক্ষু চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। চক্ষু চিকিৎসকদের মতে সঠিক চিকিৎসা না হওয়ার কারণে সামসুল হক নামে ওই বৃদ্ধের চোখ নষ্ট হয়ে যাওয়ার পথে।
বাউরা ইউপির জমগ্রাম এলাকার আব্দুল করিমের পুত্র দিনমজুর সামসুল হক জানান, প্রায় এক মাস আগে বিছানায় শুয়ে থাকা অবস্থায় তার ডান চোখে ময়লা পড়ে। সমস্যা দেখা দিলে বাউরা বাজারের পল্লী চিকিৎসক ডা. রিয়াজুল করিমের শরণাপন্ন হন।
.png)
চোখের মাংস বেড়ে গেছে বলে দুদফা ওষুধ পরিবর্তন করেও তার চোখের পরিবর্তন করতে পারেননি ডা. দাদুল। একপর্যায়ে দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণ হয়ে আসতে থাকে সামসুল হকের।
পরে আরডিআরএস’র চক্ষু চিকিৎসক শ্যামল চন্দ্রের কাছে গেলে ভুল চিকিৎসায় তার চোখ নষ্ট হয়ে যাওয়ার পথে বলে জানান। এ সময় তাকে উন্নত চিকিৎসার পরার্মশ দেন।
বাউরা বাজারে গিয়ে দেখা যায়, একটি টিনের চালায় চেম্বার দিয়ে বসেছেন ডা. রিয়াজুল করিম (দাদুল)। নিজের কোনো সনদ পত্র না থাকলেও তার পরামর্শ পত্রে নিজেকে জেনারেল প্রাকটিশনার ও চক্ষু চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। যা দেখে অনেকেই চক্ষু চিকিৎসক ভেবে তার কাছ থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
ডা. রিয়াজুল করিম (দাদুল) জানান, তার বড় ভাই বাংলাদেশ রেলওয়ের চক্ষু চিকিৎসক ছিলেন। তার সঙ্গে চলাফেরা করে চক্ষু চিকিৎসার উপর সামান্য ধারণা নিয়েছেন তিনি। সামসুল হকের চোখের বিষয়ে তিনি বলেন, এটা আমার ভুল হয়েছে। তার উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি।
পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. অরুপ পাল বলেন, বিষয়টি জানলাম। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।