ঢাকা,  রোববার   ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩

[ ক্যাম্পাস ]

৪ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য যবিপ্রবির খেলার মাঠ মাত্র একটি

যবিপ্রবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৮:০৬, ১১ অক্টোবর ২০২৬
৪ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য যবিপ্রবির খেলার মাঠ মাত্র একটি
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি)

প্রতিষ্ঠার ১৯ বছর পেরোলেও শিক্ষার্থীদের এখনো পর্যাপ্ত খেলার মাঠ দিয়ে পারেনি যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি)। প্রতিষ্ঠালগ্নের এতো বছরেও বিশ্ববিদ্যালয়টিতে খেলার মাঠ মাত্র একটি। পর্যাপ্ত মাঠের অভাবে নিয়মিত চর্চা ও প্রতিযোগিতা আয়োজনে তীব্র সংকটে পড়ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়াবিদ ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রমতে, বর্তমানে ২৮টি বিভাগে চার হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর বিপরীতে মাত্র একটি কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ রয়েছে। একটি মাত্র মাঠে একই সময়ে বিভিন্ন বিভাগ ও হলের ফুটবল, ক্রিকেটসহ নানা খেলার অনুশীলন চলায় প্রায়শই স্থান সংকুলান হয় না। এতে নতুন কোনো টুর্নামেন্ট বা বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজন করতে গিয়ে শিডিউল মেলাতে হিমশিম খেতে হয় শরীরচর্চা শিক্ষা দপ্তরকে। 

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ক্যাম্পাসে আয়োজিত আন্তঃবিভাগ ও অন্তঃহল টুর্নামেন্টগুলোর সময় মাঠের সর্বোচ্চ ব্যবহার হলেও নিয়মিত অনুশীলনের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা পাওয়া যায় না। মাঠের অপ্রতুলতা আমাদের ক্রীড়া থেকে বিমুখ করে দিচ্ছে। তাই শিক্ষার্থীদের ক্রীড়া কার্যক্রমের স্বার্থে অতি দ্রুত আরও খেলার মাঠের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। 

এ বিষয়ে যবিপ্রবির ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন বায়োসায়েন্স বিভাগের তৃতীয় বর্সের প্রথম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী আসিফ হাসান বলেন, এখন আন্তঃবিভাগ ফুটবল টুর্নামেন্ট চলছে। ২৮টি বিভাগ টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছে। ফলে মাঠে শুধু ম্যাচ নয়, প্রতিটি দলের অনুশীলনেরও প্রয়োজন হচ্ছে। কিন্তু একটি মাঠ হওয়ায় সবাইকে সময় ভাগ করে নিতে হচ্ছে। এতে নিয়মিত অনুশীলন করা কঠিন হয়ে পড়ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে আরও মাঠ থাকলে একসঙ্গে বিভিন্ন খেলার অনুশীলন করা সম্ভব হতো এবং শিক্ষার্থীরাও খেলাধুলায় আরও বেশি সুযোগ পেত।

খেলার মাঠের এই তীব্র সংকট নিরসনে যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবির বলেন, মাঠ পাওয়ার জন্য আমাদের পরিকল্পনা আছে। তবে এর জন্য আগে জায়গার ব্যবস্থা করতে হবে। আমরা জায়গার জন্য সরকারের কাছে বলেছি এবং সরকারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করছি। সরকার জায়গা দিলে তখনই মাঠ তৈরি করা সম্ভব। এর আগে আলাদাভাবে মাঠ করার মতো সুযোগ আমাদের নেই।

মাঠ তৈরির সম্ভাব্য সময়সীমা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ মুহূর্তে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা বলা সম্ভব নয়। কারণ এটি সরকারের একটি প্রক্রিয়ার বিষয়। আমরা প্রায় ৫০০ কোটি টাকার একটি ডিপিপি দিয়েছি। সেটি যাচাই-বাছাই হবে। আমাদের পক্ষ থেকেও ডিপিপি সংশোধন করে দেওয়া হচ্ছে। এরপর ইউজিসির কমিটি বিষয়টি পর্যালোচনা করবে। সেখান থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে প্রক্রিয়াটি এগোবে। পরবর্তীতে জায়গা অধিগ্রহণের বিষয় রয়েছে। এসব ধাপে সময় প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, আমি যদি এখন বলে দিই যে দুই মাসের মধ্যে বা দুই বছরের মধ্যে মাঠ হয়ে যাবে, পরে যদি বিভিন্ন কারণে সেটা না হয় তাহলে আবার সমস্যা তৈরি হবে। তাই সুনির্দিষ্ট সময় বলা ঠিক হবে না। তবে আমরা চেষ্টা করছি। সরকারের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ রয়েছে এবং তারাও বিষয়টি জানে। একটি বিশ্ববিদ্যালয় এত কম জায়গার মধ্যে চলতে পারে না- এ বিষয়টিও তারা অনুধাবন করছে। সরকারও আমাদের বিষয়টি বিবেচনা করছে। তবে পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে যথেষ্ট সময় লাগবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!