ঢাকা,  রোববার   ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

দাকোপে ঢাকী নদীর ভাঙনে বেড়িবাঁধ বিলীন

খুলনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৮:৪২, ১১ অক্টোবর ২০২৬
দাকোপে ঢাকী নদীর ভাঙনে বেড়িবাঁধ বিলীন
দাকোপে নদী ভাঙনে ওয়াপদার বেড়িবাঁধের একাধিক স্থানে ধস ও ফাটল। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

খুলনার দাকোপ উপজেলায় ঢাকী নদীর ভয়াবহ ভাঙনে ওয়াপদার বেড়িবাঁধের একাধিক স্থানে ধস ও ফাটল দেখা দিয়েছে। বটবুনিয়া ও পানখালী ইউনিয়নের খোনা এলাকায় বাঁধের অংশবিশেষ নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় হুমকির মুখে পড়েছে বসতবাড়ি, সড়ক ও ফসলি জমি। দীর্ঘ তিন দশক ধরে নদীভাঙনের সঙ্গে লড়াই করেও স্থায়ী সমাধান না পাওয়ায় চরম উদ্বেগ ও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

রোববার ( ১১অক্টোবর) বটবুনিয়ার মোল্লাবাড়ি সংলগ্ন    এলাকার পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রায় ৪০ মিটার ওয়াপদা বেড়িবাঁধ ভেঙে ঢাকি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এর ফলে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ভয়াবহ এ ভাঙ্গনের ফলে এলাকা জুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আসাদ  বলেন, প্রায় ৩০ বছর ধরে আমরা এ ভাঙন দেখে আসছি। প্রতি বছরই দু-একবার বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢোকে। ভাঙতে ভাঙতে আমাদের ও আশপাশের বহু মানুষের বাড়িঘর এবং প্রায় ৩০০ বিঘা ফসলি জমি নদীগর্ভে চলে গেছে।

পানখালী ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রাশেদুল ইসলাম বাবু বলেন, গত ২ অক্টোবর খোনা মোল্লাবাড়ির সামনে বেড়িবাঁধে ফাটল ধরে। এরই মধ্যে সড়কের অর্ধেক অংশ নদীতে চলে গেছে। পাউবোকে বারবার জানানোর পরও স্থায়ী প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

দাকোপের ৩১ নম্বর পোল্ডারের আওতাধীন খোনা এলাকায় প্রায় ১০০ মিটার সড়কের বড় অংশ ধসে পড়েছে। এ ছাড়া জাবেরের খেয়াঘাট, কামিনীবাসিয়া, গড়খালী, আন্ধারমানিক, সুতারখালীর গুণারীর কালীবাড়ি লঞ্চঘাট, কালাবগী বাজার, বানীশান্তা ও তেলিরকোনা বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে বাঁধে ফাটল ও ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অমাবস্যা ও পূর্ণিমার জোয়ারেও বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। গত বছর বটবুনিয়ায় বাঁধ ভেঙে রোপা আমন ধান ও পুকুরের মাছ ভেসে যায়। অপরিকল্পিত ও নিম্নমানের সংস্কারকাজের কারণে বারবার এ পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে বলে দাবি তাঁদের। পাউবোর কর্মকর্তা ও ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগও করেছেন তারা।

দাকোপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বোরহান উদ্দিন মিঠু বলেন, পাউবোর সঙ্গে সমন্বয় করে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ দ্রুত সংস্কারের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

খুলনা পাউবোর বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাশিদুর রহমান বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো পরিদর্শন করা হয়েছে। শিগগিরই সেখানে কাজ শুরু করা হবে। তবে স্থানীয়দের দাবি, জরুরি সংস্কারের পাশাপাশি নদীভাঙন ঠেকাতে টেকসই ব্যবস্থা নিতে হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/খুলনা
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!