ঢাকা,  রোববার   ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তা নির্দেশনা ফাঁস তদন্তে কমিটি গঠন

খুলনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৮:৪৮, ১১ অক্টোবর ২০২৬
পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তা নির্দেশনা ফাঁস তদন্তে কমিটি গঠন
পুলিশ সদস্যদের রাতে একা চলাচলে নিষেধাজ্ঞার ফাঁস হওয়া নির্দেশনা। ছবি: সংগৃহিত

পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তায় জারি করা অভ্যন্তরীণ নির্দেশনা জনসমক্ষে প্রকাশের ঘটনায় দায়িত্বহীনতা বা বিধিবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে খুলনা জেলা পুলিশ।

নির্দেশনাটি কীভাবে প্রকাশ্যে এল, তা খতিয়ে দেখে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি। রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় খুলনা জেলা পুলিশের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

গত ৮ অক্টোবর দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে ছিনতাইকারীদের চাপাতির কোপে এক পুলিশ পরিদর্শকের দুই হাত গুরুতর জখম হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে ওই নির্দেশনা জারি করা হয়েছিল।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. শাহ আলম দায়িত্ব পালন শেষে গভীর রাতে সাদা পোশাকে রূপসা ফেরি পার হয়ে রিকশায় খুলনা মহানগরীর পুলিশ ক্লাবে যাচ্ছিলেন। পথে কলেজিয়েট স্কুলের কাছে তিন ছিনতাইকারী তার মানিব্যাগ ও দুটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। বাধা দিলে একজন চাপাতি দিয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি কোপায়। আত্মরক্ষায় হাত দিয়ে আঘাত ঠেকাতে গিয়ে তার দুই হাত গুরুতর জখম হয়।

প্রথমে তাকে পুলিশ হাসপাতাল ও পরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তাকে এক ব্যাগ রক্ত দিতে হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে পাঠানো হয় তাকে। অবস্থার অবনতি হলে শেষ পর্যন্ত এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তার দুই হাতে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলেও কয়েকটি আঙুলের কর্মক্ষমতা স্থায়ীভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গত শুক্রবার সকালে পুলিশ সুপারের স্বাক্ষরে আন্তবিভাগীয় নির্দেশনামূলক অফিস আদেশ জারি করা হয়। এতে বিশেষ করে গভীর রাতে সাদা পোশাকে চলাচলের সময় পুলিশ সদস্যদের সতর্ক ও সচেতন থাকার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

খুলনা জেলা পুলিশের দাবি, নির্দেশনাটি ছিল কেবল সদস্যদের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য। জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে নেতিবাচক বার্তা দেওয়া কিংবা পুলিশের নিয়মিত কার্যক্রম সীমিত করা এর উদ্দেশ্য ছিল না।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, জেলার বিভিন্ন থানায় অপরাধ দমনে অভিযান, চেকপোস্ট স্থাপন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার অব্যাহত রয়েছে। নির্দেশনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সৃষ্ট বিভ্রান্তি নিয়ে অপতথ্য না ছড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে তদন্তে কারও দায়িত্বহীনতা বা বিধিবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের প্রমাণ মিললে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/খুলনা
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!