ঢাকা,  শনিবার   ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩

[ ক্যাম্পাস ]

নোবিপ্রবির সমাবর্তনে নিবন্ধন ফি ৫ হাজার টাকা, শিক্ষার্থীদের অসন্তোষ

নোয়াখালী প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৪:৪৪, ১০ অক্টোবর ২০২৬
নোবিপ্রবির সমাবর্তনে নিবন্ধন ফি ৫ হাজার টাকা, শিক্ষার্থীদের অসন্তোষ
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) তৃতীয় সমাবর্তনের নিবন্ধন ফি ৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। তাঁদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের আগের দুই সমাবর্তন এবং দেশের কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় এ ফি বেশি। এতে সদ্য স্নাতক ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য সমাবর্তনে অংশ নেওয়া আর্থিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এ অবস্থায় নিবন্ধন ফি যৌক্তিক পর্যায়ে কমানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো. তামজিদ হোসাইন চৌধুরী স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে তৃতীয় সমাবর্তনের নিবন্ধন ফি ও নিবন্ধনের সময়সীমা ঘোষণা করা হয়।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, স্নাতক, স্নাতকোত্তর, পোস্টগ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা (আইআইটি ও আইআইএস) এবং প্রফেশনাল মাস্টার্স (আইআইএস) ডিগ্রি বা প্রোগ্রামের জন্য নিবন্ধন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার টাকা। আর দুটি ডিগ্রি বা প্রোগ্রামের জন্য একসঙ্গে নিবন্ধন করলে দিতে হবে ৬ হাজার টাকা।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নোবিপ্রবির প্রথম সমাবর্তনে স্নাতক ডিগ্রির নিবন্ধন ফি ছিল ২ হাজার ৫০০ টাকা। স্নাতক ও স্নাতকোত্তর দুই ডিগ্রির জন্য ফি ছিল ৩ হাজার টাকা। দ্বিতীয় সমাবর্তনে স্নাতকের জন্য ৩ হাজার ৫০০ টাকা এবং দুটি ডিগ্রির জন্য ৪ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। সে হিসাবে তৃতীয় সমাবর্তনে একক ডিগ্রির নিবন্ধন ফি আগেরবারের তুলনায় ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং দুটি ডিগ্রির ফি ১ হাজার ৫০০ টাকা বেড়েছে।

দেশের অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনের ফি কাঠামোর সঙ্গেও তুলনা করছেন শিক্ষার্থীরা। তাঁদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৩তম সমাবর্তনে ব্যাংক চার্জসহ মূল সনদ ও নিবন্ধন ফি বাবদ মোট ৩ হাজার ৩২০ টাকা নেওয়া হয়েছিল। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ষষ্ঠ সমাবর্তনে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রির জন্য নিবন্ধন ফি ছিল ২ হাজার ৫০০ টাকা এবং উভয় ডিগ্রির জন্য ৪ হাজার টাকা।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পঞ্চম সমাবর্তনে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রির জন্য ৩ হাজার টাকা এবং পিএইচডি ও এমফিলসহ অন্যান্য ডিগ্রির জন্য ৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অষ্টম সমাবর্তনে স্নাতক পর্যায়ে ১ হাজার ৫০০ টাকা, স্নাতকোত্তরে ২ হাজার টাকা এবং পিএইচডি ডিগ্রির জন্য ৪ হাজার টাকা ফি নেওয়া হয়।

অন্যদিকে, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ সমাবর্তনে একটি ডিগ্রির জন্য ৩ হাজার টাকা এবং দুটি ডিগ্রির জন্য একসঙ্গে ৪ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তন আগামী ২৩ জানুয়ারি ২০২৭ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ সমাবর্তনের নিবন্ধন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার টাকা।

শিক্ষার্থীদের মতে, এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের ফি কাঠামো বিবেচনায় নিয়ে নোবিপ্রবির তৃতীয় সমাবর্তনের নিবন্ধন ফি পুনর্বিবেচনা করা উচিত। তাঁদের আশঙ্কা, আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক শিক্ষার্থী দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত এ আয়োজনে অংশ নেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।

নিবন্ধন ফি নিয়ে অসন্তোষ জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং (বিজিই) বিভাগের ১৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী জাহেদুল হক বলেন, তাঁর মাত্র ডিফেন্স শেষ হয়েছে, এখনো ফল প্রকাশিত হয়নি। সমাবর্তনের আগে ফল প্রকাশিত হলে তিনি সদ্য স্নাতক হিসেবে এতে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। কিন্তু নির্ধারিত ফি তাঁর মতো সদ্য স্নাতকদের জন্য কষ্টসাধ্য।

তিনি বলেন, ‘গ্র্যাজুয়েট হলে পুরো পরিবার তাকিয়ে থাকে, কখন তাদের ছেলে চাকরি পাবে, জব করবে। সেখানে পরিবার থেকে ৫ হাজার টাকা এনে সমাবর্তনে অংশ নেওয়া একটা বোঝাস্বরূপ। যেখানে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ২-৩ হাজার টাকার মধ্যে সমাবর্তনে অংশ নেওয়া যায়, সেখানে আমরা কেন পারব না? আশা করি, আমাদের প্রশাসন বিষয়টি আমলে নেবে।’

পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের ১৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সাজিদ ইবনে জামাল ফয়সাল বলেন, সমাবর্তন তাঁর মতো অনেক সদ্য স্নাতকের জীবনের অন্যতম কাঙ্ক্ষিত ও আবেগঘন মুহূর্ত। এটি দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ও স্বপ্নপূরণের স্বীকৃতি বহন করে। কিন্তু ৫ হাজার টাকা ফি নির্ধারণ করায় অনেকের পক্ষে এ আয়োজনে অংশ নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়জীবন শেষে কর্মজীবনে প্রবেশের সময় অনেক শিক্ষার্থীর পক্ষে এত টাকা ব্যয় করা সম্ভব নয়। আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে কেউ যেন সমাবর্তনে অংশ নেওয়ার সুযোগ হারান, সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ফি কমানোর জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

শিক্ষার্থীদের অসন্তোষের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রাব্বানী বলেন, সাত বছর আগে সমাবর্তনের ফি ছিল ৩ হাজার ৫০০ টাকা। এর মধ্যে বিভিন্ন পণ্যের দাম ও আয়োজনের ব্যয় বেড়েছে। সবকিছুর বাজারদর বিবেচনায় নিয়েই এবারের ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, নোবিপ্রবি ঢাকায় অবস্থিত নয়। ফলে সমাবর্তনের জন্য ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ও প্রয়োজনীয় উপকরণ বাইরে থেকে আনতে অতিরিক্ত ব্যয় হয়। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন উপহার দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে, যার জন্য অর্থ ব্যয় করতে হবে।

উপাচার্য আরও বলেন, সমাবর্তন থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো আয় করছে না। বরং নির্ধারিত নিবন্ধন ফির চেয়ে আয়োজনের মোট ব্যয় অনেক বেশি হবে। এ অতিরিক্ত ব্যয় মেটানো বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই সমাবর্তন আয়োজনের চেষ্টা চলছে।

নোবিপ্রবির তৃতীয় সমাবর্তন আগামী বছরের ২৪ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
ট্যাগ: নোয়াখালী
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!