ঢাকা,  শনিবার   ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ ক্যাম্পাস ]

নোবিপ্রবিতে ‘সেশনের’ নামে ডেকে শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ

নোবিপ্রবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৭:৩৪, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নোবিপ্রবিতে ‘সেশনের’ নামে ডেকে শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ
মারধরের অভিযোগ ওঠা নোবিপ্রবির শিক্ষার্থী রিয়াজ উদ্দিন চৌধুরী।

নিজের নাম লেখাকে কেন্দ্র করে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) পরিসংখ্যান বিভাগের ২১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী জহিরুল ইসলাম রকিকে শ্রেণিকক্ষে আটকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে একই বিভাগের ২০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. রিয়াজ উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, এর আগে বিভিন্ন সময়ও তাকে নানা ধরনের শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্তা করা হয়েছে।

 

Advertisement

গত বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ‘সেশনের’ কথা বলে ২১তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের বিভাগে ডেকে নেওয়া হয়। ভুক্তভোগী রকির দাবি, সেশনের একপর্যায়ে ২১তম ব্যাচের নারী শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষ থেকে বের করে দেওয়া হয়। এরপর তাকে একটি কক্ষে আটকে রেখে রিয়াজ সবার সামনে মারধর করেন।

 

রকি বলেন, “আমাকে ডিপার্টমেন্টের মধ্যে আটকে রেখে সবার সামনে মারধর করা হয়েছে। ওই সময় আমি খুব ভয় পেয়ে যাই। এখনো বিষয়টি মনে পড়লে আতঙ্ক লাগে।”

 

রকির ভাষ্য, এর আগে বিভাগের দেয়ালে নিজের নাম লেখার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাকে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে ২০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও ২১তম ব্যাচের কয়েকজন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। ওই সময় তাকে কান ধরে বেঞ্চের ওপর এক পায়ে দাঁড় করিয়ে রাখা, এক হাত উঁচু করে রাখা এবং বিভিন্ন ধরনের অঙ্গভঙ্গি ও হাসি দিতে বাধ্য করাসহ নানা আচরণের মাধ্যমে হেনস্তা করা হয়।

 

এ ছাড়া তাকে বিভাগের নোটিশ গ্রুপসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি গ্রুপ থেকে প্রায় ২০ থেকে ২৫ দিন সরিয়ে রাখা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন রকি। এতে সিটি পরীক্ষার সময়সূচি, ক্লাসের সময় এবং বিভাগের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানতে সমস্যায় পড়েন বলে জানান তিনি।

 

রকি বলেন, “আমি কোনো নোটিশ গ্রুপে ছিলাম না। তাই অনুমান করে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসতাম। এমনও হয়েছে, দুই দিন শুধু শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছি। ডিপার্টমেন্টে এসে জানতে পারি কখন ক্লাস হবে, কখন পরীক্ষা। প্রায় ২০ থেকে ২৫ দিন এভাবে ডিপার্টমেন্টের কোনো খবর পাইনি।”

 

বর্তমানে নিজের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগের কথা জানান রকি। তিনি বলেন, “আমি বর্তমানে মানসিক বিপর্যয়ের মধ্যে আছি। সবসময় ভয় ও আতঙ্ক কাজ করছে। ডিপার্টমেন্টে যেতেও এখন ভয় লাগে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর স্যার এবং কোর্স কো-অর্ডিনেটর স্যারকে জানিয়েছি।”

 

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ২১তম ব্যাচের নারী শিক্ষার্থীদের কক্ষ থেকে বের করে দেওয়ার পর রিয়াজ রকিকে চড় মারেন। এ সময় রিয়াজের কয়েকজন সহপাঠী তাকে থামানোর চেষ্টা করলেও তিনি রকিকে আরও আঘাত করেন বলে দাবি তাদের।

 

পরে বিষয়টি সমাধানের জন্য ২০তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা ১৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের ডেকে আনেন। তারা ২১তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। একপর্যায়ে রকি ছাড়া অন্য শিক্ষার্থীদের কক্ষ থেকে বের হয়ে যেতে বলা হয়।

 

অভিযোগের বিষয়ে মো. রিয়াজ উদ্দিন চৌধুরী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, “আমাদের ২০ ব্যাচ ও ২১ ব্যাচের মধ্যে একটি অভ্যন্তরীণ সমস্যা তৈরি হয়েছিল। আসলে ঘটনাটি হঠাৎ উত্তেজনার মুহূর্তে ঘটে গেছে। আমিই হাত তুলে ফেলেছি। আমি বুঝতে পারছি, এটা আমার ভুল হয়েছে। এমনটা আমার করা উচিত হয়নি।”

 

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এ.এফ.এম. আরিফুর রহমান বলেন, “আমার কাছে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ফোন করে বিষয়টি জানিয়েছে। আমি তাকে বিভাগীয় চেয়ারম্যানকে জানানোর কথা বলেছি এবং লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছি। অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা ব্যবস্থা নেব।”

ডেইলি-বাংলাদেশ/এম ইউ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!