প্রেমের ছলনায় প্রাণ গেল কলেজছাত্রীর
প্রেমের ছলনায় পড়ে প্রাণ গেল দেলোয়ারা বেগম দিলু নামে এক কলেজছাত্রীর। মর্মস্পর্শী এ ঘটনাটি ঘটেছে ফরিদপুরের শহর সংলগ্ন ডিক্রিরচর ইউপির সিএন্ডবি ঘাট এলাকায়।
চার দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে শনিবার বিকেল তিনটার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে তার মৃত্যু হয়।
নিহত দিলু ফরিদপুরের উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনএস দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিল। সে সিএন্ডবি ঘাট এলাকার বেল্লাল শেখের বড় মেয়ে।
.png)
নিহতের ভাই রাকিব হোসেন বলেন, আমার বড় বোন দিলুর সঙ্গে একই এলাকার শেখ কুদ্দুসের ছেলে আল-আমীন ওরফে স্বাধীন নামে এক যুবকের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। প্রায় পাঁচ বছর তাদের এ সম্পর্ক বজায় ছিল। এ সময়ে স্বাধীন প্রেমের ছলনায় তার বোনের কাছ থেকে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার মতো হাতিয়ে নেয়।
সম্প্রতি স্বাধীনের অন্যত্র বিয়ে ঠিক হয়। একথা জানতে পেরে আমার আপু গত ২৬ নভেম্বর সন্ধ্যার পর কেরোসিন ভর্তি একটি বোতল নিয়ে স্বাধীনদের বাড়িতে যায়। এ সময় আপু বলে‘ আমাকে বিয়ে করতে হবে নইলে গত পাঁচ বছর ধরে যে টাকা নিয়েছে সে টাকা ফেরত দিতে হবে। নইলে আমি গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেব। একথা বলে স্বাধীনের পরিবারকে সতর্ক করেন আপু। কিন্তু স্বাধীনের মা আপুকে নিবৃত্ত না করে উল্টো গায়ে আগুন লাগিয়ে ঘরে ঢুকিয়ে দিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়।
আপুর চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এসে বালি দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। রাত ১০টার দিকে আপুকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। অবস্থা খারাপ হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
রাকিব জানান, শনিবার বিকেলে ঢাকার শাহবাগ থানায় তার বোনের মৃত্যুর ঘটনায় তার মা মমতাজ বেগম বাদী হয়ে মামলা করেছেন। মামলায় স্বাধীন সহ তার বাবা বেল্লাল শেখ ও মা মনোয়ারা বেগমকে আসামি করা হয়েছে।
নিহতের সহপাঠী পাপড়ি জানান, নিহত দেলোয়ারা ফরিদপুরের বেসরকারি শমরিতা হাসপাতালে চাকরি করতো। পাশাপাশি সে উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করতো। স্বাধীন ও দেলোয়ারা একই সঙ্গে নাচ করতো। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তারা একসঙ্গে নাচে অংশ নিয়েছে। সেখান থেকেই তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে।
এ ব্যাপারে কোতোয়ালী থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই বেলাল হোসেন বলেন, এ ঘটনায় থানায় কেউ লিখিত কোনো অভিযোগ করেনি। তবে লোকমুখে তিনি ঘটনাটি শুনেছেন। কেউ মামলা করলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব।