আবারো মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে অধরা সিন্ডিকেট
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আবার খোলার খবরে দেশের লাখো অভিবাসনেচ্ছু শ্রমিক ও জনশক্তি রপ্তানিকারকদের মধ্যে নতুন করে স্বস্তি ফিরেছে। কিন্তু সেই স্বস্তির আড়ালে এখনো ঘুরপাক খাচ্ছে এক অধরা সিন্ডিকেটের কালো ছায়া। ২৮ আগস্ট মালয়েশিয়ার বিদেশি কর্মী নিয়োগ প্ল্যাটফর্ম এফডব্লিউসিএমএস-এ ৩৩৮টি বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা প্রকাশের পর খাত সংশ্লিষ্টদের মধ্যে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। সাধারণ ব্যবসায়ী ও অভিজ্ঞ রিক্রুটাররা বলছেন, পুরোনো সিন্ডিকেট প্রথা নতুন মোড়কে ফিরে আসার আশঙ্কা এখন প্রবল। বহুপ্রতীক্ষিত এই শ্রমবাজারে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হতে না হতেই তালিকা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তা কেবল ব্যবসায়িক স্বার্থের সংঘাত নয়—বরং দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, মধ্যস্বত্বভোগী চক্র এবং শ্রমিক শোষণের পুনরাবৃত্তি কি না, সেই অনুসন্ধানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তথ্য বিশ্লেষণে জানা যায়, প্রকাশিত তালিকায় ২৫টি প্রধান এজেন্সি, তাদের অধীনে ২৫০টি সহযোগী এজেন্সি এবং সরকারি প্রতিষ্ঠান বোয়েসেলের অধীনে ৬২টি এজেন্সিকে যুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু এই তালিকার একটি বড় অংশে এমন প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে যাদের বিদেশে কর্মী পাঠানোর ন্যূনতম অভিজ্ঞতা নেই। অনেক প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স পাওয়ার পর থেকে অদ্যাবধি একটি লোকও বিদেশে পাঠায়নি। এমনকি ১০ বছর আগে লাইসেন্স নেওয়া কিছু প্রতিষ্ঠানকে ‘প্রধান এজেন্সি’ হিসেবে প্রাধান্য দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ ব্যবসায়ী ও বিএমইটির কর্মকর্তারা। জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সংগঠন বায়রার পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, অতীতেও প্রায় ১৪০০টি রিক্রুটিং এজেন্সি মালয়েশিয়ার সিস্টেমে তালিকাভুক্ত ছিল, কিন্তু কাজ করার সুযোগ পেয়েছিল মাত্র হাতে গোনা কয়েকটি। এবার ২৫টি মূল এজেন্সির অধীনে থাকা সহযোগী এজেন্সিগুলো সরাসরি কাজের চাহিদাপত্র এনে কর্মী পাঠাতে পারবে, নাকি কেবল প্রধান এজেন্সির সাব-এজেন্ট বা মধ্যস্বত্বভোগী হিসেবে কাজ করবে—সে বিষয়ে এখনো কোনো রূপরেখা তৈরি হয়নি। এই ধোঁয়াশাই সিন্ডিকেটের পুনরুত্থানের আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে।
.png)
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারকে কেন্দ্র করে অতীতে একাধিকবার বিশাল আর্থিক দুর্নীতি, অতিরিক্ত টাকা আদায় এবং চক্র গড়ে ওঠার ইতিহাস রয়েছে, যা প্রতিবারই এই বড় শ্রমবাজারটির পতন ঘটিয়েছে। ২০০৮ সালে প্রথমবার বাজার বন্ধ হয়। ২০১৬ সালে পুনরায় চালু হলেও সেখানে ১০টি নির্ধারিত এজেন্সির একটি বিশেষ চক্র বা সিন্ডিকেট তৈরি করে কর্মী পাঠানো হয়। সরকারিভাবে খরচ ৩৩ হাজার ৩৭৫ টাকা নির্ধারণ করা হলেও ওই সময় কর্মীদের কাছ থেকে আড়াই থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। আনুমানিক আর্থিক পরিমাণ ছিল প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকা। এরপর ২০১৮ সালে দুর্নীতি ও প্রতারণার অভিযোগে মালয়েশিয়া সরকার শ্রমিক নেওয়া পুরোপুরি স্থগিত করে দিলে টানা চার বছর বাজার বন্ধ থাকে।
পরবর্তীতে ২০২১ সালের ১৮ ডিসেম্বর নতুন সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর ২০২২ সালের আগস্ট থেকে কর্মী যাওয়া শুরু হলেও আবারও প্রথমে ২৫টি এবং পরবর্তীতে বাড়িয়ে ১০০টি এজেন্সির হাতেই পুরো বাজার বন্দি হয়ে পড়ে। উক্ত সময়ে সিন্ডিকেট ফি বাবদ প্রতি কর্মীর কাছ থেকে অতিরিক্ত দেড় লাখ টাকা আদায় করে প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকা এবং দেড় বছরে মোট ১৮ হাজার কোটি টাকার বিশাল বাণিজ্য গড়ে তোলার চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে। মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত কিছু বিশেষ প্রভাবশালী ব্যক্তির নামও সে সময় উঠে এসেছিল। সিন্ডিকেটের এই চক্রে মূলত কয়েকটি প্রভাবশালী রিক্রুটিং এজেন্সি, তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী মধ্যস্বত্বভোগী এবং মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশি ব্যবসায়ী গোষ্ঠী জড়িত ছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়। তারা নিয়োগ প্রক্রিয়াকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে সাধারণ এজেন্সি ও শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা চাপিয়ে দিত। এই অধরা সিন্ডিকেটের কারণে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার মোট প্রায় আট বছরেরও বেশি সময় বন্ধ বা সীমিত অবস্থায় ছিল।
নতুন তালিকা প্রকাশের পরও এই পুরোনো চিত্রের পুনরাবৃত্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তালিকায় নাম থাকা ২৫টি মূল এজেন্সির কয়েকটির বিএমইটির ক্লিয়ারেন্স ডেটাবেজে পূর্বে কর্মী পাঠানোর কোনো তথ্য বা রেকর্ড নেই। এমন অখ্যাত প্রতিষ্ঠানকে প্রাধান্য দেওয়ায় অভিজ্ঞ ব্যবসায়ীরা ক্ষুব্ধ। তারা বলছেন, অভিজ্ঞতাহীন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বাজার পরিচালনা করতে গিয়ে নতুন করে প্রতারণা এবং কর্মী হয়রানির বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। সহযোগী এজেন্সিগুলোর আসল ভূমিকা কী হবে—তা নিয়ে পুরো খাতেই এখন চরম ধোঁয়াশা বিদ্যমান।
সরকার অবশ্য বিষয়টিকে বিদ্যমান সীমাবদ্ধতার মধ্যে একটি ‘ঐতিহাসিক অর্জন’ বলে অভিহিত করেছে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২২ সালে স্বাক্ষরিত দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারকের বাধ্যবাধকতার কারণেই এজেন্সি নির্বাচনের পুরো সিদ্ধান্ত মালয়েশিয়া সরকার একা গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশের হাতে সেখানে হস্তক্ষেপের সুযোগ ছিল সীমিত। তবে সরকার নিজস্ব কূটনৈতিক চ্যানেলে সর্বোচ্চ তৎপরতা চালিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরের সময় দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ও রাজা সুলতান ইব্রাহিম ইস্কান্দারের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে শ্রমবাজার চালুর গতি ত্বরান্বিত হয়।
সরকারের বিশেষ অনুরোধের প্রেক্ষিতে মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ প্রাথমিক ধাপে আগামী তিন মাসের মধ্যে সরকারি প্রতিষ্ঠান বোয়েসেলের মাধ্যমে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বা ‘জিরো কস্টে’ ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মীকে সেবা খাতে নিয়োগ দিতে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে। এই ১০ হাজার কর্মীর বিমান ভাড়াসহ যাবতীয় অভিবাসন ব্যয় মালয়েশিয়ার নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান বহন করবে এবং জুনে যেতে না পারা প্রায় ৫ হাজার কর্মীকে এই তালিকায় অগ্রাধিকার দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
এছাড়া আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সুবিধাভোগী বিতর্কিত ও অনিয়মিত স্বাস্থ্যপরীক্ষা কেন্দ্রগুলো বাদ দিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে সরকারি অনুমোদিত ১৬টি মেডিকেল সেন্টারের মাধ্যমে কর্মীদের শারীরিক পরীক্ষা কার্যক্রম শুরুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। সরকার সিন্ডিকেট দমনে আরও কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে—যেমন এজেন্সি তালিকা সম্প্রসারণ, বোয়েসেলের মাধ্যমে সরাসরি নিয়োগ, মেডিকেল সেন্টার সংস্কার এবং অতিরিক্ত ফি আদায়ের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেবল তালিকা বড় করাই মূল সমাধান নয়।
শ্রমমন্ত্রী নূর-ই-আলম সিদ্দিকী বলেন, “সিন্ডিকেট ভাঙতে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। নতুন তালিকায় অভিজ্ঞ ও অভিজ্ঞতাহীন উভয় ধরনের এজেন্সি রাখা হয়েছে যাতে প্রতিযোগিতা বাড়ে। সহযোগী এজেন্সিগুলোর ভূমিকা স্পষ্ট করতে মালয়েশিয়ার সঙ্গে আলোচনা চলছে। আমরা চাই কোনো শ্রমিক যেন অতিরিক্ত টাকা না দেয়। অতীতের মতো সিন্ডিকেট যেন আর মাথাচাড়া দিতে না পারে, সেজন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।” শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবুল হোসেন বলেন, “বিএমইটির ক্লিয়ারেন্স ডেটাবেজ যাচাই করে দেখা গেছে কিছু প্রধান এজেন্সির পূর্বে কোনো কর্মী পাঠানোর রেকর্ড নেই। এ বিষয়ে আমরা মালয়েশিয়াকে অবহিত করেছি। ভবিষ্যতে অভিজ্ঞতাভিত্তিক নির্বাচন নিশ্চিত করতে চাই। সিন্ডিকেটের পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর মনিটরিং চালু থাকবে। বোয়েসেলের মাধ্যমে জিরো কস্টে কর্মী পাঠানোর উদ্যোগ সিন্ডিকেট ভাঙার অন্যতম বড় পদক্ষেপ।”
বায়রার সভাপতি রুহুল আমিন বলেন, “পুরোনো সিন্ডিকেটের ছায়া এখনো রয়ে গেছে। ২৫টি প্রধান এজেন্সির অধীনে সহযোগীদের রাখা হলে আবার মধ্যস্বত্বভোগী তৈরি হবে। সব বৈধ এজেন্সির জন্য উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা চাই। অতীতে সিন্ডিকেটের কারণে শ্রমিকরা ভয়াবহ শোষণের শিকার হয়েছে। এবারও যদি একই চিত্র ফিরে আসে, তাহলে বাজার আবার বন্ধ হয়ে যাবে।”
বায়রার মহাসচিব শামীম আহমেদ চৌধুরী নোমান বলেন, “সিন্ডিকেটের কারণে শ্রমিকরা অতিরিক্ত টাকা দিয়েছে। এবার স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে বাজার আবার বন্ধ হয়ে যেতে পারে। আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি, সহযোগী এজেন্সিগুলোকে সরাসরি কাজের সুযোগ দিতে হবে। অধরা সিন্ডিকেটের কালো ছায়া দূর করতে হলে সব এজেন্সির সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।”
মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে একাধিক বক্তব্য পাওয়া গেছে। মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, “এজেন্সি নির্বাচন সম্পূর্ণ আমাদের নিয়ন্ত্রণে। আমরা অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে তালিকা তৈরি করেছি। সিন্ডিকেটের অভিযোগ আমরা গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছি এবং প্রয়োজনে তালিকা পুনর্বিবেচনা করা হবে। বাংলাদেশি কর্মীদের সুরক্ষা আমাদের অগ্রাধিকার। কোনো ধরনের অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
মালয়েশিয়ার শ্রম দূত এক বিবৃতিতে বলেছেন, “আমরা চাই স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত নিয়োগ প্রক্রিয়া। সিন্ডিকেটের কোনো প্রভাব যেন না থাকে, সেজন্য আমরা নজরদারি বাড়াচ্ছি। বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।”
এ বিষয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতির অন্যতম উৎস। শুধু তালিকা বড় করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সকল বৈধ এজেন্সির অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় সাধারণ শ্রমিকরাই ভুক্তভোগী হবেন। সরকারকে কঠোর নজরদারি বাড়াতে হবে এবং সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।”
অভিবাসন বিশেষজ্ঞ ড. সি আর আবরার বলেন, “সিন্ডিকেট ভাঙতে হলে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে হবে। সহযোগী এজেন্সিগুলো যদি সরাসরি এফডব্লিউসিএমএস সিস্টেমে কাজের ছাড়পত্র না পায়, তাহলে নতুন করে প্রতারণার ঝুঁকি তৈরি হবে। আগামী ৩১ ডিসেম্বর বর্তমান সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে, যা বাংলাদেশকে একটি বড় নীতিগত সুযোগ এনে দেবে। নতুন চুক্তিতে কোনো বিশেষ শর্ত ছাড়াই সব নিবন্ধিত এজেন্সির জন্য উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার নীতি বাস্তবায়ন করা উচিত।” অভিবাসন বিশ্লেষক শরিফুল হাসান বলেন, “এছাড়া মালয়েশিয়ায় কর্মীদের বেতন, আবাসন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর মনিটরিং জরুরি। সিন্ডিকেটের কারণে বাজার বারবার বন্ধ হয়েছে—এই চক্র ভাঙতে না পারলে লাখো শ্রমিকের স্বপ্ন আবার ভেঙে যাবে।”
আরেক অভিবাসন বিশেষজ্ঞ ড. তাসনিম সিদ্দিকী বলেন, “অভিজ্ঞতাহীন এজেন্সিকে প্রাধান্য দিলে শ্রমিকরা আরও ঝুঁকির মুখে পড়বে। সরকারকে এখনই স্পষ্ট নীতিমালা তৈরি করতে হবে। অধরা সিন্ডিকেটের কালো ছায়া দূর করতে হলে কেবল কূটনৈতিক তৎপরতা নয়, অভ্যন্তরীণ সংস্কারও জরুরি।”
বিশেষজ্ঞরা একমত, আন্তর্জাতিক শ্রম অভিবাসনে মধ্যস্বত্বভোগী ও ছায়া সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বন্ধ না করতে পারলে সাধারণ শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত খরচের বোঝা চেপে বসা রোধ করা কঠিন হবে। নতুন চুক্তি স্বাক্ষরের সময় কোনো বিশেষ শর্ত ছাড়াই দেশের সকল বৈধ ও নিবন্ধিত রিক্রুটিং এজেন্সির জন্য উন্মুক্ত এবং অবাধ প্রতিযোগিতার নীতি বাস্তবায়ন করাই হবে দীর্ঘমেয়াদী একমাত্র টেকসই সমাধান। এছাড়া বিদেশে যাওয়ার পর মালয়েশিয়ার স্থানীয় শ্রম আইন অনুযায়ী কর্মীদের নিয়মিত বেতন-ভাতা প্রদান, বিমানবন্দর থেকে সরাসরি নিজ কোম্পানিতে যোগদান নিশ্চিত করা এবং পর্যাপ্ত আবাসন ব্যবস্থা দেওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর মনিটরিং বজায় রাখা জরুরি।
আগামী কয়েক মাসে বোয়েসেলের মাধ্যমে জিরো কস্টে কর্মী পাঠানো এবং নতুন চুক্তির আলোচনায় বাংলাদেশ কতটা সফল হয়, তার ওপর নির্ভর করবে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার সত্যিই সিন্ডিকেটমুক্ত হয়েছে কি না। লাখো শ্রমিকের স্বপ্ন ও দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহের স্বার্থে এখন স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা ছাড়া বিকল্প নেই। অধরা সিন্ডিকেটের কালো ছায়া যদি এবারও কাটানো না যায়, তাহলে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে—এমন আশঙ্কাই এখন খাত সংশ্লিষ্টদের মধ্যে প্রবল।