শিশুকে শিকলে বেঁধে সৎমায়ের নির্যাতন
জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে ১০ বছরের এক শিশুকে শিকলে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে সৎমা ও সৎভাইয়ের বিরুদ্ধে।
উপজেলার পোগলদিঘা ইউপির একুশের মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার শিকলসহ পালিয়ে ফুফুর বাড়িতে আশ্রয় নেয় ভুক্তভোগী শিশু।
স্থানীয়রা জানায়, একুশের মোড় এলাকার ছলিম উদ্দিনের ছেলে রফিকুল ইসলাম দুইটি বিয়ে করেন। কয়েক বছর আগে তার দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়। কিন্তু ওই ঘরের ১০ বছর বয়সী একটি মেয়ে বাবার কাছেই থাকে। বুধবার বিকেলে ওই শিশুকে রান্নার লাকড়ি কুড়িয়ে আনতে বলেন রফিকুলের প্রথম স্ত্রী বকুল বেগম। এ নিয়ে সৎমা ও মেয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়।
.png)
একপর্যায়ে তাকে লোহার শিকল দিয়ে বেঁধে মারধর শুরু করেন সৎমা বকুল, ভাই রতন, মনি ও বিপুল। পরে বৃহস্পতিবার ভোরে শিকলসহ পালিয়ে ডোয়াইল ইউপির ডিক্রিরবন্দ ফুফু সেলিনা বেগমের বাড়িতে আশ্রয় নেয় শিশুটি।
ভুক্তভোগী শিশু জানায়, তার ওপর রেগে গলা চেপে ধরেন সৎমা। কান্নাকাটি করলে লোহার শিকল দিয়ে হাত-পা বাঁধেন। এরপর সবাই মিলে মারধর করেন। সারারাত কিছু খেতেও দেননি। এছাড়া তাকে বস্তায় ভরে পানিতে ফেলে দেয়ার ভয় দেখান তারা।
শিশুটির ফুফা আব্দুল বারিক জানান, তার বাড়িতে আসার পর শিশুটির হাত-পায়ের শিকল কেটে দিয়ে খাবার দেয়া হয়। বর্তমানে সে এখানেই রয়েছে।
এ বিষয়ে কথা বলতে শিশুটির বাড়িতে গিয়ে বাবার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। সৎমা বকুল বেগম নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মেয়েটি পাগল, তাই তাকে একটু গালাগাল করা হয়েছে।
তারাকান্দি তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মোহব্বত কবীর বলেন, শিশু নির্যাতনের কোনো অভিযোগ পাইনি। পেলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।