প্রধান নালা এখন ভাগাড়
টাঙ্গাইল শহরের প্রধান নালা (সেন্ট্রাল ড্রেন) পাঁচ বছর ধরে পরিষ্কার করা হচ্ছে না। এরইমধ্যে আবর্জনা ফেলে নালাটিকে ভাগাড়ে পরিণত করেছেন অসচেতন নাগরিক। এতে নালাতে জমে থাকা পানি থেকে মশার বংশবিস্তার হচ্ছে। ফলে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছেন নগরবাসী।
বৃটিশ আমলে শহরের পশ্চিম দিকের প্যারাডাইস পাড়ার লৌহজং নদী থেকে একটি খাল খনন করা হয়। খালটি ভিক্টোরিয়া রোডের পাশ দিয়ে শহরের পশ্চিম পাশের বুড়াই বিল পর্যন্ত নেয়া হয়। শহরের পয়ঃনিষ্কাশনের জন্য খালটি খনন করা হয়েছিল। পরে ১৯৯৬ সালে খালটিকে দুই মিটার প্রশস্ত করে পাকা নালায় পরিণত করা হয়। যা এখন শহরের কেন্দ্রীয় নালা হিসেবে পরিচিত। পাকা নালা তৈরির পর বিভিন্ন অংশে পৌরসভার দোকান নির্মাণ হয়। ফলে দোকানের নিচের অংশে আবর্জনা ফেলায় স্তুপে পরিণত হয়। এতে সহজে আবর্জনা পরিষ্কার করা যায় না। নালাটি নির্মাণের পর দুবার পরিষ্কার করেছে পৌরসভা। সর্বশেষ ২০১৪ সালে এটি পরিষ্কার করা হয়।
প্রায় দুই কিলোমিটার নালাটি আবর্জনা, পলিথিনে সম্পূর্ণ ভরে গেছে। এতে পার্ক বাজার, নিরালার মোড় এলাকায় হোটেলগুলোর ফেলা আবর্জনায় দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এছাড়া আবর্জনার মধ্যে জমে থাকা পানিতে মশার লার্ভা দেখা যায়। পুরো নালাটি দেখে মনে হয় যেন মশক প্রজনন ক্ষেত্র।
.png)
টাঙ্গাইল নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব মীর মেহেদী জানান, নিয়মিত পরিষ্কার না করায় নালাটি শহরবাসীর দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটি এখন মশা বংশবিস্তারের অভয়ারণ্য।
ভিক্টোরিয়া রোডের ব্যবসায়ী শহীদুল ইসলাম জানান, এ নালা থেকে নানা রোগ ও জীবাণু ছড়াচ্ছে। এটি জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই দ্রুত নালাটি পরিষ্কার করে নাগরিকদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি থেকে রক্ষা করা উচিত।
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) টাঙ্গাইল অঞ্চলের জ্যেষ্ঠ গবেষণা কর্মকর্তা সোমনাথ লাহিড়ী জানান, নালাটি নিয়মিত পরিষ্কার না করায় জনস্বাস্থ্যের জন্য শতভাগ হুমকি। তাই এটি পরিষ্কারের উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন।
টাঙ্গাইল পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মির্জা আরিফ জানান, নালাটি পরিষ্কার করতে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকা ব্যয় হবে।
টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র জামিলুর রহমান জানান, কেন্দ্রীয় নালাটি আবর্জনায় ভরে গেছে। খুব দ্রুত এটি পরিস্কারের উদ্যোগ নেয়া হবে। এছাড়া নালার মধ্যে আবর্জনা ফেলা রোধে পৌর নাগরিকদের সচেতনের উদ্যোগ নেয়া হবে।
ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ