ঢাকা,  শনিবার   ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

[ মতামত ]

কারাবন্দি শৈশব

দীপু মাহমুদ
প্রকাশিত: ১২:০৪, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
কারাবন্দি শৈশব
কারাগার মূলত দণ্ড কার্যকরের প্রতিষ্ঠান। শিশুর স্বাভাবিক বেড়ে ওঠার উপযুক্ত পরিবেশ নয়

মায়ের অপরাধের দায় বহন করছে শিশু। কারাগারে মায়ের সঙ্গে থাকা শিশুর নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও স্বাভাবিক বিকাশ নিশ্চিত করতে প্রয়োজন শিশুকেন্দ্রিক নীতি, বিশেষ পরিচর্যা এবং বিকল্প আবাসনের কার্যকর ব্যবস্থা।

কারাগারে সাজা ভোগ করছেন মা, অথচ সেই সাজা ভোগ করছে তার সন্তানও। কোনো আদালত শিশুকে দোষী সাব্যস্ত করেনি, তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই, তবু জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় কাটছে কারাগারের সীমাবদ্ধ পরিবেশে।

মায়ের সান্নিধ্য পাওয়ার অধিকার এবং স্বাভাবিক পরিবেশে বেড়ে ওঠার প্রয়োজন- দুটোর মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। কিন্তু কারাগারে মায়ের সঙ্গে থাকা শিশুর ক্ষেত্রে সেই দায়িত্ব কতটা যথাযথভাবে পালিত হচ্ছে, তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন আছে।

সম্প্রতি প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের কারাগারগুলোতে মায়ের সঙ্গে আছে তিন শতাধিক শিশু। তাদের মধ্যে ১৭৮ জন ছেলে, ১৭২ জন মেয়ে। শিশুরা মায়ের অপরাধের অংশীদার নয়। তাদের স্বাধীনতা সীমিত হওয়া, স্বাভাবিক সামাজিক পরিবেশ থেকে দূরে থাকা কিংবা বয়স অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরিচর্যা না পাওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। 

জীবনের প্রথম পাঁচ বছর: বিকাশের ভিত্তি

  • শৈশবের প্রথম কয়েক বছর মানুষের মস্তিষ্ক, আবেগ, ভাষা, আচরণ ও সামাজিক দক্ষতা গঠনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়। গর্ভধারণ থেকে শিশুর দ্বিতীয় জন্মদিন পর্যন্ত সময়কে বলা হয় ‘প্রথম এক হাজার দিন’।

এই সময়ে মস্তিষ্কের দ্রুত বিকাশ ঘটে। জন্মের পর প্রথম কয়েক বছরে স্নায়ুকোষগুলোর মধ্যে বিপুলসংখ্যক সংযোগ তৈরি হয়। পাঁচ বছর বয়সে মস্তিষ্কের আকার প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মস্তিষ্কের প্রায় ৯০ শতাংশে পৌঁছায়। তবে শেখা, আবেগ নিয়ন্ত্রণ, সম্পর্ক তৈরি এবং সামাজিক দক্ষতা অর্জনের প্রক্রিয়া দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকে। 

শিশুর এই বিকাশের জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত পুষ্টি, নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপত্তা, সাড়া দেয় এমন যত্নশীল মানুষের সান্নিধ্য এবং বয়সোপযোগী শেখা ও খেলার সুযোগ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ‘নারচারিং কেয়ার’ কাঠামোতেও শিশুর সুস্থ বিকাশের এই পাঁচটি উপাদানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ শিশুকে শুধু খাবার ও আশ্রয় দিলেই দায়িত্ব শেষ হয় না, তার শারীরিক, মানসিক, আবেগীয় ও সামাজিক বিকাশের অনুকূল পরিবেশও নিশ্চিত করতে হয়। 

কারাগারের পরিবেশে এই প্রয়োজনগুলো পূরণ করা কতটা সম্ভব, তা নির্ভর করে আবাসন, পরিচর্যা, স্বাস্থ্যসেবা, পুষ্টি, খেলার জায়গা এবং প্রশিক্ষিত কর্মীর উপস্থিতির ওপর। এসবের ঘাটতি থাকলে শিশুর বিকাশ বাধাগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। কারাগারে শিশুর স্বাভাবিক বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় শর্তগুলো কতটা নিশ্চিত করা যায়! 

মায়ের সান্নিধ্য বনাম শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থ
মায়ের সঙ্গে শিশুর সম্পর্ক তার নিরাপত্তাবোধ ও আবেগীয় বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষত জীবনের প্রথম দিকে মায়ের কাছ থেকে শিশুকে সরিয়ে নিলে তা শিশুর জন্য কষ্টকর হবে।

এ কারণে মায়ের কারাবাসের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার সময় শিশুর সঙ্গে মায়ের সম্পর্ককে উপেক্ষা করা যায় না। কিন্তু মায়ের সান্নিধ্য নিশ্চিত করার নামে শিশুকে অনুপযুক্ত পরিবেশে রাখাও সমাধান নয়। 

এখানে নীতিনির্ধারণের মূল প্রশ্ন হওয়া উচিত- কোন ব্যবস্থায় শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থ রক্ষা পাবে? মায়ের সঙ্গে থাকলে যদি শিশুর নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা, পুষ্টি ও বিকাশের প্রয়োজন পূরণ করা যায়, তাহলে উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করে তাদের একসঙ্গে রাখার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

  • অন্যদিকে, কারাগারের পরিবেশ শিশুর জন্য অনুপযুক্ত হলে নিরাপদ বিকল্প পরিচর্যার ব্যবস্থা বিবেচনা করতে হবে। সে ক্ষেত্রে বিশ্বস্ত আত্মীয়, উপযুক্ত পালক পরিবার কিংবা শিশু সুরক্ষাব্যবস্থার আওতায় বিকল্প আবাসনের সুযোগ যাচাই করা প্রয়োজন।

তবে বিকল্প পরিচর্যার অর্থ মায়ের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা নয়। শিশুর নিরাপত্তা ও সর্বোত্তম স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মায়ের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের সুযোগ রাখতে হবে। মায়ের কাছ থেকে শিশুকে সরিয়ে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে

শিশুর বয়স, মানসিক অবস্থা, মায়ের সঙ্গে সম্পর্ক, বিকল্প পরিচর্যাকারীর সক্ষমতা এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বিবেচনায় রাখা জরুরি। সব শিশুর জন্য একই সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া যেমন অনুচিত, তেমনি কেবল প্রশাসনিক সুবিধার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়াও সঠিক নয়। 

আইন আছে, বাস্তবায়ন কতটা কার্যকর

  • শিশুর অধিকার সুরক্ষায় বাংলাদেশের আইনি কাঠামোয় গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি আছে। শিশু আইন, ২০১৩-এর ৮৯ ধারায় কারাবন্দি অভিভাবকের ওপর নির্ভরশীল এবং কারাগারে মায়ের সঙ্গে থাকা শিশুর মতো সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের বিষয়ে বিধান আছে।

অন্যদিকে, কারাবিধিতে মায়ের সঙ্গে শিশুর কারাগারে থাকার বয়সসীমা ও সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থার বিষয় উল্লেখ আছে। এসব বিধানের উদ্দেশ্য কেবল কারাগারে শিশুর অবস্থানকে বৈধতা দেওয়া নয়, তার পরিচর্যা ও সুরক্ষার প্রয়োজন বিবেচনায় নেওয়াও জরুরি। 

কিন্তু আইন ও বিধান থাকা আর কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা এক বিষয় নয়। কারাগারে শিশুদের জন্য উপযুক্ত আবাসন, পুষ্টিকর খাবার, নিয়মিত চিকিৎসা, টিকাদান, বিকাশ পর্যবেক্ষণ, খেলা ও প্রাক্‌-প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ কতটা আছে- এসব বিষয়ে স্বচ্ছ তথ্য প্রয়োজন।

একই সঙ্গে শিশুর বয়স, স্বাস্থ্য, পরিচর্যার অবস্থা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে নিয়মিত মূল্যায়ন থাকা উচিত। কেবল মোট শিশুর সংখ্যা প্রকাশ করে দায়িত্ব শেষ করা যায় না। তাদের জীবনযাপনের মান সম্পর্কেও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। 

জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদে শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থকে অন্যতম প্রধান বিবেচনা হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। সনদ শিশুর স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বিশ্রাম, খেলাধুলা এবং নিরাপদ বিকাশের অধিকারও স্বীকার করে। জাতিসংঘের ব্যাংকক রুলসেও বলা হয়েছে, মায়ের সঙ্গে কারাগারে থাকা শিশুকে কখনো বন্দি হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।

তার স্বাস্থ্যসেবা ও বিকাশের প্রয়োজন নিশ্চিত করতে হবে এবং পরিবেশ যতটা সম্ভব কারাগারের বাইরের শিশুর উপযোগী করতে হবে। মায়ের কাছ থেকে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্তও নিতে হবে শিশুর স্বার্থের ভিত্তিতে, ব্যক্তিগত পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে। 

উন্নত বিশ্বে কী ব্যবস্থা আছে

  • আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতায় একক কোনো মডেল নেই। কোথাও মা ও শিশুর জন্য বিশেষ ইউনিট আছে, কোথাও শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থে বিকল্প পারিবারিক পরিচর্যা ও কারাবাসের বিকল্পকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

তবে মূলনীতি একটাই- শিশুকে মায়ের সঙ্গে রাখা হবে কিনা, তা কারাগারের প্রশাসনিক সুবিধার ভিত্তিতে নয়- শিশুর নিরাপত্তা, বিকাশ ও সর্বোত্তম স্বার্থের ভিত্তিতে নির্ধারণ করতে হবে। 

যুক্তরাজ্যে মা সাধারণভাবে শিশুর ১৮ মাস বয়স পর্যন্ত মা-শিশু ইউনিটে রাখার আবেদন করতে পারেন। ভর্তির আগে শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থ, মায়ের সাজা এবং কারাগারের পরিবেশ মূল্যায়ন করা হয়।

উপযুক্ত ইউনিট না থাকলে বিকল্প কারাগার বা শিশুর বাইরের পরিচর্যার ব্যবস্থা করা হয়। শিশুর বয়স ১৮ মাস হওয়ার আগে মায়ের সাজা শেষ না হলে আত্মীয় বা পালক পরিবারের কাছে রাখার মতো বিচ্ছেদ পরিকল্পনাও আগেভাগে করা হয়। 

এই ব্যবস্থায় বুঝা যায়, বিশেষ ইউনিট থাকাই যথেষ্ট নয়। প্রত্যেক শিশুর পরিস্থিতি যাচাই, নিরাপদ বিকল্প এবং সম্ভাব্য বিচ্ছেদের আগাম পরিকল্পনাও জরুরি। 

শিশুকে নীতির কেন্দ্রে রাখতে হবে
বাংলাদেশের কারাগারে মায়ের সঙ্গে থাকা শিশুর জন্য সমন্বিত ও শিশুকেন্দ্রিক নীতি প্রণয়ন অতিজরুরি। এ ক্ষেত্রে কয়েকটি পদক্ষেপ বিশেষ গুরুত্বের দাবি রাখে। 

প্রথমত, প্রত্যেকটি কারাগারে শিশুর জন্য নিরাপদ ও বয়সোপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। আবাসন, পুষ্টি, নিরাপদ পানি, স্বাস্থ্যসেবা, টিকাদান, খেলার জায়গা এবং প্রাক্‌-প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগকে ন্যূনতম মানদণ্ডের আওতায় আনতে হবে। কারাগারে শিশুর উপস্থিতিকে কেবল বন্দি মায়ের পারিবারিক বিষয় হিসেবে দেখলে চলবে না। এটা শিশুর অধিকার ও জনকল্যাণের প্রশ্ন।

দ্বিতীয়ত, সমাজসেবা অধিদপ্তর, কারা কর্তৃপক্ষ, স্বাস্থ্য বিভাগ এবং শিশু সুরক্ষায় নিয়োজিত সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তুলতে হবে। প্রত্যেক শিশুর জন্য ব্যক্তিগত পরিচর্যা পরিকল্পনা থাকা দরকার। সেখানে তার স্বাস্থ্য, পুষ্টি, বিকাশ, শিক্ষার প্রস্তুতি, মায়ের সঙ্গে সম্পর্ক এবং ভবিষ্যৎ আবাসনের বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে। নিয়মিত মূল্যায়নের মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে, শিশুর প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা বদলানো হচ্ছে কিনা। 

তৃতীয়ত, কারাবন্দি মায়ের ক্ষেত্রে জামিন, সাজা স্থগিত, বিকল্প দণ্ড বা অকারাবাসী ব্যবস্থার আইনগত সুযোগ যেখানে প্রযোজ্য, সেখানে তা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা দরকার। বিশেষ করে অহিংস অপরাধে অভিযুক্ত বা দণ্ডিত গর্ভবতী নারী এবং ছোট শিশুর মায়ের ক্ষেত্রে কারাবাসের বিকল্পের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা যেতে পারে। অবশ্যই তা অপরাধের প্রকৃতি, জননিরাপত্তা, ন্যায়বিচার এবং প্রযোজ্য আইন বিবেচনায় রেখে করতে হবে। মায়ের কারাবাস এড়ানো সম্ভব হলে অনেক ক্ষেত্রে শিশুকে কারাগারের পরিবেশে রাখার প্রয়োজনও কমতে পারে। 

চতুর্থত, শিশুকে মায়ের কাছ থেকে আলাদা করার প্রয়োজন দেখা দিলে সিদ্ধান্তটি যেন তাড়াহুড়ো করে বা কেবল বয়সসীমার ভিত্তিতে না নেওয়া হয়। নিরাপদ আত্মীয় বা বিকল্প পরিচর্যাকারীর সক্ষমতা যাচাই করতে হবে। মায়ের কাছ থেকে শিশুকে সরিয়ে নেওয়ার আগে শিশুকে তৈরি করা, পরবর্তী যোগাযোগ বজায় রাখা এবং পরিচর্যার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা থাকতে হবে। কোনো বিকল্পই যেন শিশুকে অবহেলা, অনিরাপত্তা বা নতুন ঝুঁকির মুখে না ফেলে দেয়। 

পঞ্চমত, কারাগারে থাকা শিশুর সংখ্যা, বয়স, স্বাস্থ্য, পরিচর্যা ও পুনর্বাসনের তথ্য নিয়মিত প্রকাশ করা প্রয়োজন। তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে শিশুর পরিচয় ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা অবশ্যই সুরক্ষিত রাখতে হবে। পাশাপাশি স্বাধীন পরিদর্শন ও মূল্যায়নের ব্যবস্থা থাকলে নীতির ঘাটতি শনাক্ত করা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা সহজ হবে। 

শিশুর দায় নয়, রাষ্ট্রের দায়িত্ব
কারাবন্দি মায়ের সন্তান হওয়ার কারণে কোনো শিশুর শৈশব সংকুচিত হতে পারে না। তার জন্মপরিস্থিতি, পারিবারিক অবস্থা কিংবা মায়ের অপরাধের অভিযোগ তার অধিকার নির্ধারণ করবে না। আবার মায়ের সঙ্গে থাকার অধিকারকে এমনভাবে প্রয়োগ করাও চলবে না, যাতে শিশুর স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও বিকাশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রয়োজন এমন ব্যবস্থা, যেখানে মায়ের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা এবং শিশুর স্বাধীন বিকাশ- দুটোকেই গুরুত্ব দেওয়া হবে। 

  • কারাগার মূলত দণ্ড কার্যকরের প্রতিষ্ঠান। শিশুর স্বাভাবিক বেড়ে ওঠার উপযুক্ত পরিবেশ নয়। বাস্তবতার কারণে কোনো শিশুকে সেখানে থাকতে হলে তার জন্য আলাদা সুরক্ষা ও পরিচর্যার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের বাধ্যবাধকতা।

আর সেখানে থাকা শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থ রক্ষা করা সম্ভব না হলে নিরাপদ বিকল্পের পথ তৈরি করতে হবে। নীতি, বাজেট, প্রশিক্ষিত জনবল এবং আন্তপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় ছাড়া এই দায়িত্ব পালন করা সম্ভব নয়। 

মায়ের অপরাধের দায় শিশুর নয়। অথচ সেই অপরাধের পরিণতিতে তার জীবন, স্বাধীনতা ও বিকাশের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়লে তা ন্যায়বিচার ও শিশুর অধিকারের মৌলিক ধারণার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়ে যায়। কারাবন্দি শৈশবের অবসান ঘটাতে প্রয়োজন সহানুভূতির পাশাপাশি প্রমাণভিত্তিক নীতি, কার্যকর আইন প্রয়োগ এবং নিরবচ্ছিন্ন জবাবদিহি। রাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থা অপরাধের দায় নির্ধারণ করবে, কিন্তু কোনো শিশুকে জন্মের পর থেকেই সেই দণ্ডের অংশীদার হতে দেওয়া যাবে না।

লেখক : দীপু মাহমুদ, কথাসাহিত্যিক ও সমাজ চিন্তক 

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসএমএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!