বৃহস্পতিবার মোংলা বন্দর সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
দায়িত্ব গ্রহণের পর দ্বিতীয়বারের মতো মোংলা বন্দর সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে তাঁর এ সফরকে কেন্দ্র করে বন্দরের অবকাঠামো উন্নয়নে নেওয়া হয়েছে একাধিক উদ্যোগ। এদিন নতুন দুটি কনটেইনার জেটি নির্মাণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে মোংলা বন্দরের পণ্য ওঠানামা ও কনটেইনার পরিবহনের সক্ষমতা বাড়বে। এতে দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।
এর আগে গত ২২ অক্টোবর মোংলা বন্দর ও সুন্দরবন পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহম্মেদ মোস্তফা জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী বন্দরে পৌঁছাবেন।
পরে বন্দরের সুবিধাদি সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নতুন দুটি কনটেইনার জেটি নির্মাণ এবং আনুষঙ্গিক অবকাঠামো উন্নয়নকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন তিনি।
বন্দর চেয়ারম্যান জানান, প্রধানমন্ত্রীর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মধ্য দিয়ে প্রকল্পটির নির্মাণকাজ শুরু হবে। গত ১০ অক্টোবর বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে এ প্রকল্প বাস্তবায়নে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকার ৪৭৫ কোটি টাকা দেবে। বাকি ৩ হাজার ৫৯৩ কোটি টাকা অর্থায়ন করবে চীন।
প্রকল্পের আওতায় ৩৬৮ মিটার দৈর্ঘ্যের কনটেইনার টার্মিনাল ও ইয়ার্ড নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি বিপজ্জনক পণ্য (ডেঞ্জারাস কার্গো) ওঠানামার ব্যবস্থাও থাকবে। নতুন কনটেইনার ইয়ার্ডে যুক্ত করা হবে ৪৯টি যন্ত্রপাতি।
এ প্রকল্পের মাধ্যমে ঘণ্টায় ৩০টির বেশি কনটেইনার খালাস করা সম্ভব হবে। সব মিলিয়ে বছরে চার লাখ টিইইউ (২০ ফুট সমমানের কনটেইনার) হ্যান্ডলিংয়ের সক্ষমতা অর্জন করবে মোংলা বন্দর।
এদিকে একই দিন প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বন্দরের ৯ নম্বর জেটিতে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের কথা রয়েছে।
এ বিষয়ে বাগেরহাট-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, চীনের সঙ্গে এ সমঝোতার মাধ্যমে মোংলা বন্দরের সঙ্গে রেলওয়ের সংযোগ স্থাপনের সুযোগ তৈরি হবে। এতে আইসিডি থেকে রেলপথে পণ্য মোংলা বন্দরে আনা যাবে। পরে সেসব পণ্য বন্দরের জেটি থেকে জাহাজে পরিবহন করা সম্ভব হবে।
বৃহস্পতিবার সকালে মোংলা বন্দরের কর্মসূচি শেষে সড়কপথে বাগেরহাটে যাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে হযরত খানজাহান আলীর মাজার জিয়ারত করবেন তিনি। এরপর খুলনায় গিয়ে ‘নতুন কুঁড়ি সিজন-২’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। কর্মসূচি শেষে তাঁর ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের আশা, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে মোংলা বন্দরের কনটেইনার পরিবহন সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য ও রেলভিত্তিক পণ্য পরিবহনে নতুন গতি আসবে।