পুলিশের দুই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বরখাস্ত
অসদাচরণ ও ‘পলায়ন’-এর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় পুলিশের দুই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে সরকার। তারা হলেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-দক্ষিণ) এস এম মেহেদী হাসান এবং গাজীপুর ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-২-এর সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রহমত উল্লাহ চৌধুরী।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-১ শাখা থেকে পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপনে তাদের বরখাস্তের আদেশ জারি করা হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী এতে স্বাক্ষর করেন। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এস এম মেহেদী হাসানকে ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট এবং মো. রহমত উল্লাহ চৌধুরীকে ২০২৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
.png)
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-দক্ষিণ) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট থেকে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন মেহেদী হাসান। তাকে কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার জন্য একাধিকবার নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি সাড়া দেননি। পরে বিভাগীয় তদন্তে তার বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী ‘পলায়ন’-এর অভিযোগ প্রমাণিত হয়।
এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয় এবং কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি। তদন্ত শেষে বরখাস্তের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) পরামর্শ চাওয়া হয়। কমিশনও বরখাস্তের পক্ষে মত দেওয়ার পর তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
অন্যদিকে, গাজীপুর ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-২-এ কর্মরত থাকা অবস্থায় অসুস্থতার কারণে ২০২৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি চিকিৎসকের পরামর্শে বিশ্রামে যান রহমত উল্লাহ চৌধুরী। দুই মাসের বিশ্রাম শেষে ১১ এপ্রিল কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার কথা থাকলেও তিনি আর কাজে ফেরেননি। তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা এবং একাধিকবার নোটিশ দেওয়া হলেও তার অবস্থান নিশ্চিত করা যায়নি।
পরে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে রহমত উল্লাহর বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণ ও পলায়ন’-এর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। দ্বিতীয় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি। এরপর পিএসসির পরামর্শ নেওয়া হলে কমিশন বরখাস্তের পক্ষে মত দেয়।
সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী বিভাগীয় প্রক্রিয়া শেষে দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধেই চাকরি থেকে বরখাস্তকরণের গুরুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।