ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩

[ আইন-আদালত ]

ট্রাইব্যুনালে আজ জিয়াউলের মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য

আদালত প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১০:০৪, ৬ অক্টোবর ২০২৬
ট্রাইব্যুনালে আজ জিয়াউলের মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য
সংগৃহীত ছবি

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত শতাধিক গুম ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আজ মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) অবশিষ্ট জবানবন্দি দেবেন মামলার মূল তদন্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে তার জবানবন্দি গ্রহণ করা হবে।

প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ সেপ্টেম্বর মামলার ১৫তম সাক্ষী হিসেবে রফিকুল ইসলামের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। ওই দিন তিনি আংশিক জবানবন্দি দেন। পরে অবশিষ্ট অংশের জন্য ৪ অক্টোবর দিন ধার্য করা হলেও সাক্ষ্যগ্রহণ না হওয়ায় আজকের দিন নির্ধারণ করেন ট্রাইব্যুনাল।

রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, এ মামলায় ১৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যের মাধ্যমে জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করা হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তার জবানবন্দি শেষ হলে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শেষ হবে এবং মামলাটি যুক্তিতর্কের পর্যায়ে এগোবে। তবে আসামিপক্ষ চাইলে সাফাই সাক্ষী উপস্থাপনের সুযোগ পাবে।

এর আগে ২৭ সেপ্টেম্বর মামলায় জব্দ করা আলামতের তথ্য তুলে ধরে সাক্ষ্য দেন কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম। একই দিনে মামলার ১৩তম সাক্ষী র‍্যাবের সাবেক কর্মকর্তা মেজর (অব.) সাব্বির রহমানের জেরা শেষ হয়। তিনি এ মামলার সর্বশেষ চাক্ষুষ সাক্ষী ছিলেন।

মামলায় জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রথম অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১১ সালের ১১ জুলাই রাতে গাজীপুর সদর থানার পুবাইল এলাকায় সড়কের পাশে জিয়াউলের সরাসরি উপস্থিতিতে সজলসহ তিনজনকে হত্যা করা হয়।

দ্বিতীয় অভিযোগের সময়কাল ২০১০ থেকে ২০১৩ সাল। এ সময়ে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী ইউনিয়নের চরদুয়ানী খালসংলগ্ন বলেশ্বর নদীর মোহনায় নজরুল, মল্লিকসহ ৫০ জনকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।

তৃতীয় অভিযোগে একই সময়কালে বরগুনার বলেশ্বর নদী ও বাগেরহাটের শরণখোলার সুন্দরবন এলাকায় তথাকথিত বনদস্যু দমনের নামে মাসুদসহ আরও ৫০ জনকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে।

এসব হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করে প্রসিকিউশন। পরে ২৩ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনাল-১ তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!