বাঁশ নিয়ে তিনটি ছড়া
বাঁশ
চাঁদবাগানে মাথার ভেতর বাঁশ ঢুকেছে ঐ,
কীসব বকি উল্টাপাল্টা! নেই তো পাঠ্যবই।
পড়ার সাথে বলো কোথায় বাস্তবতার মিল?
মিষ্টিকথা বইয়ে থাকুক এঁটে দিলাম খিল।
.png)
ইলেক্ট্রিকের খুঁটি, সেতু, রেলের লাইনে, আর—
সরকারি প্রায় কাজগুলোতে বাঁশের ব্যবহার।
বাঁশ ঢুকেছে শহর-নগর, মফস্বল ও গাঁয়,
আমজনতা পাচ্ছে সেসব আমজনতাই খায়।
দেশচোষাদের পেছনে ঠিক দিতে পারলে বাঁশ,
সাধারণের হবে না আর কোনো সর্বনাশ।
নোবেল দেওয়া হোক
ফিরে আসো বাস্তবতায় রাখো পাঠ্যবই,
চাঁদ ওঠে রোজ দূর আকাশে বাঁশবাগানটা কই!
বাগান খুঁজে লাভ কী বলো! হারাচ্ছে যে বন,
এসব কেটে হচ্ছে দেশের তুমুল উন্নয়ন।
ভবন-বাড়ি নির্মাণে রড নেই প্রয়োজন আর,
বেড়ে গেছে রডের জাগায় বাঁশের ব্যবহার।
রাস্তা, সেতু, খুঁটি এবং লম্বা রেলের পথ,
বাঁশ লাগিয়ে হচ্ছে কী যে দারুণ মেরামত!
সুখ-শান্তি ও উন্নতিতে বাড়ছে দেশের মান!
ভালো ভালো কাজগুলোতে বাঁশের অবদান।
কমে গেছে খর্চাপাতি, দুঃখ, কষ্ট, শোক!
বাঁশকে এবার 'শান্তি'তে তাই নোবেল দেওয়া হোক।
বাঁশির করুণ সুর
'ও বাঁশি তোর সুরে কেন বিষাদমাখা গান,
বুকে এত কষ্ট কীসের, কীসের অভিমান?'
'হরেক রকম কষ্ট মনে, পাব কোথায় সুখ,
পড়লে মনে সেসব কথা ভেঙে আসে বুক।
বলতে গেলে লজ্জা লাগে, বলব কী ভাই আর,
কমে গেছে সঠিক জাগায় বাঁশের ব্যবহার।
বাঁশের লাঠি দিয়ে আগে বাঁশির হতো ঢল,
সাঁকোতেও লাগত এটি থাকত নিচে জল।
আসত কাজে দারুণ দারুণ পণ্যসামগ্রীর,
মা-খালারা বানাত তা, জমাত যে ভিড়।
কোনোকিছু পাড়তে বাঁশের জুড়ি ছিল বেশ,
বদলে গেছে সময় এখন, বদলে গেছে দেশ।
রডের কাজে বাঁশকে এখন জীবন দিতে হয়,
দেখলে এমন অধঃপতন মনে কি আর সয়?
পিচঢালা ঐ রাস্তা এবং লম্বা রেলের পথ—
বাঁশ দিয়ে ক্যান হচ্ছে করা এসব মেরামত?
ইলেক্ট্রিকের খুঁটি কিংবা সেতুর কাজে, তাও;
বলতে পারো কী কারণে বাঁশকে তোমরা দাও?
আরো কত অনিয়মে বাঁশে সারো কাজ,
ফলে প্রায়ই হচ্ছে ক্ষতি, হয় না কারো লাজ।
চোখ থেকেও অন্ধ সবাই নেই তো প্রতিবাদ,
বুকভরা তাই বিষাদ পুষি, সুরে করুণ স্বাদ।'