সুস্থ জীবন, সচেতন অভ্যাস—আগামীর সুন্দর পৃথিবী
ওয়ান হেলথ হল একটি সমন্বিত, ঐক্যবদ্ধ পদ্ধতি যার লক্ষ্য মানুষের, প্রাণীর এবং বাস্তুতন্ত্রের স্বাস্থ্যের টেকসই ভারসাম্য এবং এদের সর্বোত্তম ব্যবহারকে গুরুত্ব দেয়। এটি স্বীকৃতি দিয়েছে যে, মানুষের স্বাস্থ্য, গৃহপালিত এবং বন্য প্রাণী, গাছপালা, এবং বিস্তৃত পরিবেশ (বাস্তুতন্ত্র সহ) ঘনিষ্ঠভাবে সংযুক্ত এবং আন্তঃনির্ভরশীল।
বিশ্ব সমাজে ওয়ান হেলথকে এগিয়ে নেয়ার জন্য, ২০১৬ সাল থেকে ৩রা নভেম্বর আন্তর্জাতিকভাবে ওয়ান হেল্থ দিবস উদযাপন করছে। এর সাথে সঙ্গতি রেখে বাংলাদেশেও প্রতি বছর ওয়ান হেল্থ দিবস পালন করা হচ্ছে।
পরস্পর বিচ্ছিন্ন পেশা ও সেক্টরের নিজ নিজ পৃথক কর্মকান্ডের অকার্যকরতাকে প্রত্যক্ষ করে একদল দূরদর্শী বিজ্ঞানী এবং পেশাজীবীবর্গ ২০০৪ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ”ওয়ান হেলথ” ধারণাটি প্রস্তাব করেছিলেন যা এখন ব্যাপকভাবে ’ম্যানহাটন প্রিন্সিপল’ নামে পরিচিত। এটি মানুষের জন্য তথা একটি নিরাপদ গ্রহের জন্য মানব, গৃহপালিত প্রাণী, বন্যপ্রাণী এবং পরিবেশের অপরিহার্য যোগসূত্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
এই পদ্ধতি সমাজের বিভিন্ন স্তরের একাধিক সেক্টর, পেশাজীবী শাখা এবং সম্প্রদায়কে একত্রিত করে চালিত হয়ে সুস্বাস্থ্য বজায় রেখে স্বাস্থ্য ও বাস্তুতন্ত্রের জন্য হুমকি মোকাবেলা করতে উদ্বুদ্ধ করে। এর পাশাপাশি একইসাথে বিশুদ্ধ পানি, শক্তি এবং বায়ু, নিরাপদ এবং পুষ্টিকর খাবার, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা করে এবং টেকসই উন্নয়নে অবদান রাখাও এই পদ্ধতির অন্তর্ভুক্ত।”
পেশাজীবীদের একটি দল ২০০৮ সালে “ওয়ান হেলথ বাংলাদেশ” নামে একটি সংগঠন স্থাপন করে। পেশাগত বিভিন্ন শাখা এবং বিভিন্ন সেক্টরের প্রায় ১৫০০ সদস্য নিয়ে এখন এটি একটি প্রাণবন্ত নাগরিক সংগঠনে পরিণত হয়েছে। সংগঠনটি বাংলাদেশে ওয়ান হেলথ বিষয়টিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য ক্রমাগত কাজ করে যাচ্ছে।
২০১২ সালে, বাংলাদেশ একটি জাতীয় ওয়ান হেল্থ কর্মকৌশল এবং কর্মপরিকল্পনা তৈরি করে এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় দ্বারা যথাযথভাবে অনুমোদিত।
কর্মকৌশল অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকার “ওয়ান হেল্থ টেকনিক্যাল এডভাইজরি গ্রুপ” এবং “ওয়ান হেল্থ আন্তঃমন্ত্রণালয় স্টিয়ারিং কমিটি” গঠন করে। ২০১৭ সালে আর একটি সভায়, সরকারের মধ্যে ওয়ান হেল্থকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার জন্য একটি “ওয়ান হেলথ সেক্রেটারিয়েট” গঠন করে। এটি “ওয়ান হেলথ বাংলাদেশ” এর সাথে একযোগে কাজ করছে।
ওয়ান হেলথ বাংলাদেশ এবং ওয়ান হেলথ সেক্রেটারিয়েট যৌথভাবে দুই বছর পর পর “ওয়ান হেলথ কনফারেন্স” এর আয়োজন করে। সর্বশেষ ওয়ান হেলথ কনফারেন্সটি ২০২৩ সালের জুন মাসে অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যেখানে দেশ—বিদেশের প্রায় এক হাজার বিজ্ঞানী অংশগ্রহণ করেছিলেন।