ঢাকা,  রোববার   ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩

[ অর্থনীতি ]

বাংলাদেশ-রাশিয়ার বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে সমঝোতা স্মারক সই

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১:৫৮, ৮ নভেম্বর ২০২৬
বাংলাদেশ-রাশিয়ার বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে সমঝোতা স্মারক সই
সংগৃহীত ছবি

দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়াতে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে। দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক সম্প্রসারণ এবং বিদ্যমান বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতা দূর করার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

গত ৫ নভেম্বর ঢাকায় বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশন (এফবিসিসিআই) এবং রাশিয়া-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের মধ্যে এ সমঝোতা স্মারক সই হয়। বর্তমানে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ২০০ কোটি মার্কিন ডলার।

বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার খোজিন বলেন, দুই দেশের নিজস্ব সক্ষমতা, সম্পদ ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো গেলে পারস্পরিক স্বার্থে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। তবে এ লক্ষ্য অর্জনে বিদ্যমান নিয়ন্ত্রক কাঠামো এবং সরবরাহব্যবস্থার প্রতিবন্ধকতা দূর করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশ-রাশিয়া আন্তঃসরকার কমিশনের বৈঠকের সাইডলাইনে এ সমঝোতা স্মারক সই হয়। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে সরকারি পর্যায়ে কাজ করে এ কমিশন।

ঢাকায় সফররত রুশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন রাশিয়ার ফেডারেল এজেন্সি ফর ফিশারিজের প্রধান ইলিয়া শেস্তাকভ। তিনি বলেন, দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা কাজে লাগাতে কার্যকর অর্থ পরিশোধব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।

পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়া আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থায় বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার মুখে রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে দুই দেশের বাণিজ্যিক লেনদেনের জন্য বিকল্প অর্থ পরিশোধ অবকাঠামো গড়ে তোলার গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি।

ইলিয়া শেস্তাকভ আরও বলেন, জ্বালানি তেল ও গ্যাস সরবরাহের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার সহযোগিতা সম্প্রসারণের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) চাহিদা পূরণে সহায়তার পাশাপাশি দেশের তেল-গ্যাসক্ষেত্র উন্নয়নের বিভিন্ন প্রকল্পে অংশ নিতে রাশিয়া প্রস্তুত।

এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক ফজলুল হকও দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের ব্যাপক সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। তবে এ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতাগুলো যৌথভাবে চিহ্নিত করে সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে রাশিয়ায় তৈরি পোশাকের পাশাপাশি পাট ও পাটজাত পণ্য, চামড়াজাত পণ্য, ওষুধ, টুপি, আসবাবপত্র ও খাদ্যপণ্য রপ্তানি করা হয়। অন্যদিকে রাশিয়া থেকে বাংলাদেশে গম, সার, কৃষিপণ্য, শিল্পকারখানার যন্ত্রপাতি এবং পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সরঞ্জাম আমদানি করা হয়।

বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুর প্রকল্প নির্মাণে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দিয়েছে রাশিয়া। প্রায় ১ হাজার ২৬৫ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এ প্রকল্প দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। চলতি নভেম্বর মাসের শেষ দিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক যোগাযোগ, বিনিয়োগ, জ্বালানি নিরাপত্তা ও কৃষি খাতে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে। তবে এসব সম্ভাবনা বাস্তবায়নে কার্যকর অর্থ পরিশোধব্যবস্থা, পরিবহন ও সরবরাহ অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতা দূর করা জরুরি।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!