জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস: শ্রীপুরে আলোচনা সভা
দীর্ঘ ১৬ বছর পর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পালিত হচ্ছে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস। দিবসটি উপলক্ষে গাজীপুরের শ্রীপুরে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলা পরিষদের হলরুম ‘ক্ষণিকা’য় আয়োজিত এ সভায় ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহ, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভূমিকা এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তাঁর অবদান নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাহিদ ভূঞা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা মো. স্বপন মিয়া।
সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতি লিমিটেডের (ইউসিসিএ) চেয়ারম্যান এস এম মাহফুল হাসান হান্নান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ, পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জিয়াউর রহমানের ভূমিকা ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ সময় তিনি ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক ঘটনাপ্রবাহ ও জাতীয় জীবনে দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকৌশলী মো. তৌহিদ, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আব্দুল আলিম, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ফাতেমা নাসরিন, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা বাহা উদ্দিনসহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হওয়ার পর দেশের রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতিতে অস্থিরতা তৈরি হয়। একই বছরের ৩ নভেম্বর ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে সেনাবাহিনীতে অভ্যুত্থান ঘটে। ওই সময় তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দী করা হয়।
এরপর ৬ নভেম্বর রাত থেকে ৭ নভেম্বরের প্রথম প্রহরে সেনাবাহিনীর সাধারণ সৈনিকদের একটি অংশের মধ্যে পাল্টা অভ্যুত্থান শুরু হয়। এতে কর্নেল (অব.) আবু তাহেরের নেতৃত্বাধীন বিপ্লবী সৈনিক সংস্থারও ভূমিকা ছিল। একপর্যায়ে সৈনিকেরা জিয়াউর রহমানকে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি দেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কেন্দ্রে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে আসেন। ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি। ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠা করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
বিএনপি ৭ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহকে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে পালন করে আসছে। তবে দিনটির ঐতিহাসিক তাৎপর্য নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন মূল্যায়ন রয়েছে। বিএনপি একে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস, জাসদ সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থান হিসেবে আখ্যায়িত করে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ দিনটিকে মুক্তিযোদ্ধা ও সেনা কর্মকর্তা হত্যার প্রেক্ষাপটে ব্যাখ্যা করে।
রাষ্ট্রীয় মর্যাদা পুনর্বহাল
বিএনপি নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার ৭ নভেম্বরকে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে রাষ্ট্রীয়ভাবে পালনের সিদ্ধান্ত পুনর্বহাল করেছে। গত ১৬ এপ্রিল মন্ত্রিসভার বৈঠকে দিনটিকে পুনরায় জাতীয় দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত জাতীয় দিবসের মর্যাদা দিয়ে সাধারণ ছুটি ঘোষণার সিদ্ধান্ত হয়। পরে ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এ বিষয়ে পরিপত্র জারি করে।
দীর্ঘ ১৬ বছর পর এ বছর দিবসটি রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পালিত হচ্ছে। দিবসটি উপলক্ষে দেশব্যাপী জাতীয় পতাকা উত্তোলন, ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আলোচনা সভা ও রচনা প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।