রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে স্থানীয় ইমামদের সঙ্গে মতবিনিময়
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তা, পরিবেশ সুরক্ষা এবং দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে এ প্রকল্পের ভূমিকা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও স্থানীয় জনগণের সম্পৃক্ততা জোরদার করতে ‘কমিউনিটি লিডার রাউন্ডটেবিল’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে ঈশ্বরদীর পারমাণবিক তথ্যকেন্দ্রে এ সভার আয়োজন করা হয়। ইসলামিক ফাউন্ডেশন, পাবনা এবং পারমাণবিক তথ্যকেন্দ্র, ঈশ্বরদীর সহযোগিতায় আয়োজিত সভায় উপজেলার পাকশী ও সাহাপুর ইউনিয়নের ইমামরা অংশ নেন।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক তথ্য কর্মকর্তা সৈকত আহমেদ স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ড. মো. জাহেদুল হাছান। এতে সভাপতিত্ব করেন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. মো. কবীর হোসেন।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রধান, মানবসম্পদ বিভাগ ও মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. আলিউজজামান। এ ছাড়া এনপিসিবিএলের ব্যবস্থাপক ও প্রকল্পের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা গোলাম শাহীনুর ইসলামসহ প্রকল্পের পাবলিক কমিউনিকেশন কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রক্রিয়া, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের আধুনিক নিরাপত্তাব্যবস্থা, বিকিরণ নিয়ন্ত্রণ ও পর্যবেক্ষণ, পরিবেশ সুরক্ষা এবং স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে এ প্রকল্পের আর্থসামাজিক অবদান নিয়ে সহজ ও তথ্যভিত্তিক আলোচনা করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মো. জাহেদুল হাছান বলেন, দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণ এবং দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কেন্দ্রটির দুটি ইউনিট থেকে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। নিরাপদ পরিচালনা ও পরিবেশ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আধুনিক প্রযুক্তি, একাধিক স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণের গুরুত্বও তুলে ধরেন তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে প্রকল্প পরিচালক ড. মো. কবীর হোসেন বলেন, স্থানীয় জনগণের কাছে ইমামরা অত্যন্ত শ্রদ্ধাভাজন ও বিশ্বস্ত ব্যক্তিত্ব। সমাজে তাঁদের গ্রহণযোগ্যতা ও প্রভাব রয়েছে। তাই রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র সম্পর্কে সঠিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক তথ্য প্রচার, প্রচলিত ভুল ধারণা দূরীকরণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে ইমামরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। এ ধরনের উদ্যোগে তাঁদের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রকল্প ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও আস্থা আরও সুদৃঢ় করবে।
মতবিনিময় পর্বে অংশগ্রহণকারী ইমামরা পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন, কেন্দ্রের নিরাপত্তা, বিকিরণের প্রভাব, পরিবেশ সুরক্ষা এবং স্থানীয় জনগণের কল্যাণে প্রকল্পটির ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন ও মতামত তুলে ধরেন। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও কর্মকর্তারা তাঁদের প্রশ্নের উত্তর দেন এবং প্রয়োজনীয় তথ্য ও ব্যাখ্যা প্রদান করেন।
আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও সামাজিক নেতৃত্বের সঙ্গে এ ধরনের সরাসরি মতবিনিময় পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ ব্যবহার সম্পর্কে সঠিক তথ্যের প্রসার ঘটাবে। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগণের মধ্যে সচেতনতা, ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ও আস্থা বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
উল্লেখ্য, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের পাওয়ার স্টার্ট-আপ পর্যায়ের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সবকিছু স্বাভাবিক নিয়মে এগোলে স্বল্প সময়ের মধ্যেই জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।