চবির হীরকজয়ন্তী আয়োজনে ১২ দফা দাবি ছাত্রশিবিরের
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) হীরক জয়ন্তী উদযাপনকে সার্বজনীন, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সুশৃঙ্খল করতে ১২ দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে মতবিনিময় করে এসব দাবি সংবলিত স্মারকলিপি দেন সংগঠনটির নেতারা। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এতে ছাত্রশিবিরের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সেক্রেটারি হাবিব উল্লাহ খালেদ, বায়তুলমাল সম্পাদক ইসহাক ভূঞা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক হারেস মাতাব্বর, প্রচার সম্পাদক মেহেদী হাসান সোহান, বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি সম্পাদক আবিদুর রহমান, এইচআরডি সম্পাদক হারুনুর রশিদ এবং প্রকাশনা ও দাওয়াহ সম্পাদক রিয়াদ হোসাইন উপস্থিত ছিলেন।
স্মারকলিপিতে হীরক জয়ন্তীর আয়োজন নির্বিঘ্ন করতে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানানো হয়। এ জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন, সিসিটিভি ক্যামেরা সচল, ক্যাম্পাসে আলোকসজ্জা এবং বহিরাগতদের অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশ ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, পরিচ্ছন্ন গণশৌচাগার, প্রাথমিক চিকিৎসাকেন্দ্র ও সার্বক্ষণিক অ্যাম্বুলেন্স সেবা নিশ্চিত করার দাবি জানায় সংগঠনটি।
অ্যালামনাই, শিক্ষার্থী ও আমন্ত্রিত অতিথিদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে পর্যাপ্ত শাটল ট্রেন ও বাসের ব্যবস্থা এবং ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে যানবাহন চলাচল ও পার্কিংয়ের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার কথাও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবার ও আহত ব্যক্তিদের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো এবং তাঁদের সম্মানজনক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে ছাত্রশিবির।
এ ছাড়া গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. ফরহাদ হোসেন ও হৃদয় চন্দ্র তরুয়ার সংক্ষিপ্ত জীবনী, আত্মত্যাগের ইতিহাস এবং আন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অবদান হীরক জয়ন্তীর স্মারক গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
স্মারক গ্রন্থে চাকসু, হল ও হোস্টেল সংসদ নির্বাচন ২০২৫-এর সংক্ষিপ্ত ইতিহাস, চাকসুর সপ্তম ক্যাবিনেটের পরিচিতি ও গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম তুলে ধরার দাবিও জানানো হয়। একই সঙ্গে চাকসুর সাবেক ভিপি, জিএস ও সর্বশেষ ক্যাবিনেটের প্রতিনিধিদের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানিয়ে তাঁদের সম্মানজনক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।
এ ছাড়া আগামী ১৮ নভেম্বরের আগে প্রস্তাবিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ দৃশ্যমান করা, চট্টগ্রাম জেলার সব সংসদ সদস্যকে অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ এবং আমন্ত্রিত সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে সরকার ও বিরোধী দলের একজন করে প্রতিনিধিকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ রাখার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। সাংস্কৃতিক আয়োজনে দেশাত্মবোধক ও ইসলামী সংগীত অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়।
স্মারকলিপির শেষ দাবিতে অতীতে বিশ্ববিদ্যালয়ে হল দখল, খুন, চাঁদাবাজি ও অস্ত্রবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের এবং নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের হীরক জয়ন্তীর অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
মতবিনিময় সভায় ছাত্রশিবিরের নেতারা হীরক জয়ন্তী উদযাপনের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং আয়োজন সফল করতে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, উত্থাপিত দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য।