ঢাকা,  বুধবার   ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]
১৫০ ভরি স্বর্ণ ডাকাতির পর ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধ

সাকের হত্যায় ২০ লাখ টাকার চুক্তি

মাগুরা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৭:১৭, ৪ নভেম্বর ২০২৬
সাকের হত্যায় ২০ লাখ টাকার চুক্তি
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

মাগুরায় স্বর্ণ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ১৫০ ভরি স্বর্ণ ডাকাতির ঘটনা এবং পৌর যুবদল নেতা সাকের হোসেন হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে জেলা পুলিশ। পৃথক দুই মামলায় মূল পরিকল্পনাকারীসহ ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে ডাকাতি হওয়া স্বর্ণের অংশবিশেষ, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বুলেট ও খালি কার্তুজসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে মাগুরা পুলিশ লাইনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন।

পুলিশ জানায়, গত ৬ অক্টোবর দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে মাগুরা সদর উপজেলার রামনগর বাজার এলাকায় গোল্ডেন লাইন পরিবহনের একটি বাসে পুলিশ পরিচয়ে ওঠে ১২ থেকে ১৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ চক্র। পরে স্বর্ণ ব্যবসায়ী মো. মজিবর রহমানকে বাস থেকে নামিয়ে হলিনগর গ্রামের নিখিল মাস্টারের মেহগনি বাগানে নিয়ে যায় তারা।

সেখানে ভয়ভীতি দেখিয়ে ও মারধর করে তার কাছ থেকে ১৫০ ভরি স্বর্ণ, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ২ কোটি ৯০ লাখ টাকা এবং নগদ ৬০ হাজার টাকা লুট করে দুর্বৃত্তরা।

এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সাতজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তারা হলেন মো. জুয়েল হোসেন (৪৭), তৌকির আহমেদ (২৫), মো. ফরিদ মণ্ডল (৫৯), মো. মিল্টন মোল্যা (৩৫), মারুফা আক্তার (৩২), মো. গোলাম জাহিদ (৪৫) ও মো. মারুফ হোসেন (৪৪)।

তাদের কাছ থেকে ৯ ভরি ৭ আনা ৫ রতি ওজনের একটি তেজাবি কাটা স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত ইয়ামাহা এক্সএসআর ও পালসার মডেলের দুটি মোটরসাইকেল এবং সিলভার রঙের একটি টয়োটা ভিটজ গাড়ি জব্দ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, গত ২১ অক্টোবর ভোর সাড়ে ৫টার দিকে মাগুরা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের রয়েল কাউন্টারের ভেতরে মোটরসাইকেলে এসে পৌর যুবদল নেতা সাকের হোসেনকে (৩৬) মাথায় গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় তার স্ত্রী শারমিনাহার রুমা বাদী হয়ে মাগুরা সদর থানায় হত্যা মামলা করেন।

হত্যাকাণ্ডের তদন্তে অভিযান চালিয়ে আরও ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা হলেন রনি শিকদার (৩৮), শামীমা তাবাসসুম (৩১), অনিমেষ মজুমদার (৫৫), মো. মারুফ হোসেন (৪৪), মো. গোলাম জাহিদ (৪৫) ও বশির আলী (৩৫)।

পুলিশের দাবি, স্বর্ণ ডাকাতির পর ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের জেরে সাকের হোসেনকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। এ হত্যাকাণ্ডের জন্য ২০ লাখ টাকার চুক্তি হয়েছিল। তবে চুক্তির অর্থ লেনদেন ও হত্যার পরিকল্পনায় প্রত্যেকের ভূমিকার বিস্তারিত পুলিশি বক্তব্যে স্পষ্ট করা হয়নি।

হত্যা মামলার আসামিদের কাছ থেকে বুলেট, খালি কার্তুজ এবং ৫১ দশমিক ৯ ভরি ওজনের পাঁচটি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, দুটি মামলায় সব মিলিয়ে ৬১ ভরি ৬ আনা স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে, যার ওজন ৭১৬ দশমিক ৪৬ গ্রাম।

পুলিশ আরও জানায়, দুই মামলায় গ্রেপ্তার মো. গোলাম জাহিদ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেনের নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খায়রুল হাসানের নেতৃত্বে অভিযানগুলো পরিচালিত হয়।

বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!