ঢাকা,  বুধবার   ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ব্যবসায়ী হত্যা মামলায় বাবা ও দুই ছেলের যাবজ্জীবন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৮:১০, ৪ নভেম্বর ২০২৬
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ব্যবসায়ী হত্যা মামলায় বাবা ও দুই ছেলের যাবজ্জীবন
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় ব্যবসায়ী মানিক মিয়া হত্যা মামলায় বাবা ও তার দুই ছেলেকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় অপর ছয় আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

বুধবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক অসীম কুমার দে এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন কসবা উপজেলার নিমবাড়ি গ্রামের মোতাহার মিয়া ও তার দুই ছেলে মনির মিয়া ও কামাল মিয়া। রায় ঘোষণার সময় কামাল মিয়া আদালতে উপস্থিত ছিলেন। অপর দুই দণ্ডপ্রাপ্ত মোতাহার ও মনির পলাতক রয়েছেন।

খালাসপ্রাপ্ত ছয় আসামি হলেন কামাল মিয়ার ছেলে রুবেল মিয়া ও শরীফ মিয়া, স্ত্রী মনোয়ারা বেগম, নবীর হোসেনের স্ত্রী মোছা. জিয়াসমিন এবং মনির মিয়ার স্ত্রী খাদিজা বেগমসহ একই পরিবারের সদস্যরা।

মামলার এজাহার ও অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, নিমবাড়ি গ্রামের ব্যবসায়ী মানিক মিয়ার সঙ্গে প্রতিবেশী মনির মিয়ার আর্থিক লেনদেন নিয়ে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে প্রায়ই বাগ্‌বিতণ্ডা হতো।

২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর রাতে টাকা-পয়সার বিষয়ে আলোচনার কথা বলে মানিক মিয়াকে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে যাওয়ার পর মনিরসহ তার পরিবারের সদস্যরা মানিকের ওপর হামলা চালান। এ সময় তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী হেলেনা আক্তার বাদী হয়ে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২০১৯ সালের নভেম্বরে ১১ জনের মধ্যে ৯ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় অপর দুজনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

দীর্ঘ সাত বছর ধরে সাক্ষ্যগ্রহণ, যুক্তিতর্ক ও বিচারিক কার্যক্রম শেষে আদালত তিন আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় দেন। পাশাপাশি প্রত্যেককে এক লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বাকি ছয় আসামিকে খালাস দেওয়া হয়।

রায়ের পর আসামিপক্ষের আইনজীবী সারওয়ার ই আলম বলেন, তারা আশা করেছিলেন, সব আসামি বেকসুর খালাস পাবেন। এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন তারা।

অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফখরুদ্দিন আহমেদ বলেন, বাদীর সঙ্গে কথা হয়েছে। যাদের সাজা হয়েছে, তারাই মানিক মিয়াকে আঘাত করেছিলেন। এ রায়ে তারা সন্তুষ্ট। তাই আপিল করার পরিকল্পনা নেই।

ডেইলি-বাংলাদেশ/বি.বাড়িয়া/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!