ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের অভিযানে অস্ত্র-গুলিসহ ৫ জেলে উদ্ধার

খুলনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৭:৫৩, ৩ নভেম্বর ২০২৬
সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের অভিযানে অস্ত্র-গুলিসহ ৫ জেলে উদ্ধার
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের পৃথক দুটি অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ডাকাত সাত্তার বাহিনীর কবল থেকে মুক্তিপণের জন্য জিম্মি করে রাখা পাঁচ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করেছে কোস্ট গার্ড। তবে অভিযানের সময় বনদস্যুরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানান।

উদ্ধার হওয়া পাঁচ জেলে হলেন জহুরুল ইসলাম (২৭), ফারুক গাজী (৪২), রেজাউল করিম (২৬), নুরুল হুদা (২৩) ও হাসান গাজী (২৭)। তারা সবাই খুলনার কয়রা উপজেলার বাসিন্দা।

কোস্ট গার্ড জানায়, সুন্দরবনের বনদস্যু নির্মূল ও উপকূলীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার ভোর চারটার দিকে খুলনার কয়রা থানার সুন্দরবনের আড়শীপসা নদীর গানধার খাল এলাকায় অভিযান চালায় কোস্ট গার্ড স্টেশন কয়রা ও দোবেকী।

কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাত সাত্তার বাহিনীর সদস্যরা জিম্মি জেলেদের রেখে বনের গভীরে পালিয়ে যায়। পরে ওই এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে একটি ডিঙি নৌকা থেকে চারটি দেশীয় ওয়ান শুটারগান, ছয় রাউন্ড তাজা কার্তুজ ও ১৩ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। এ সময় জিম্মি থাকা পাঁচ জেলেকেও জীবিত উদ্ধার করা হয়।

অন্যদিকে, সকাল ১১টার দিকে দাকোপ থানার সুন্দরবনের কুমড়োখালী খালসংলগ্ন এলাকায় আরেকটি অভিযান চালায় কোস্ট গার্ড বেইস মোংলা ও স্টেশন নলিয়ান। সেখানে ডাকাতির উদ্দেশ্যে একটি দল অবস্থান করছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ওই দলের সদস্যরাও বনের গভীরে পালিয়ে যায়।

পরে তল্লাশি চালিয়ে অভিনব কায়দায় লুকিয়ে রাখা চারটি একনলা বন্দুক, একটি শূন্য দশমিক ২২ ক্যালিবারের বন্দুক, ২০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, শূন্য দশমিক ২২ ক্যালিবারের বন্দুকের ৫২টি গুলি এবং দুটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়।

কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া জেলেদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। জব্দ করা অস্ত্র ও গোলাবারুদের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সরকারের নির্দেশনা, স্থানীয় মানুষের সহযোগিতা এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টায় সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত করার ব্যাপারে তারা আশাবাদী।

ডেইলি-বাংলাদেশ/খুলনা
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!