ঢাকা,  বৃহস্পতিবার   ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

আটকের পর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বাড়ি ফিরলেন কুষ্টিয়ার শিক্ষক

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১১:২৮, ১ অক্টোবর ২০২৬
আটকের পর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বাড়ি ফিরলেন কুষ্টিয়ার শিক্ষক
ছবি: সংগৃহীত

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে প্রধানমন্ত্রীর বাংলা উচ্চারণ নিয়ে শ্রেণিকক্ষে মন্তব্য করার অভিযোগে পুলিশ হেফাজতে থাকা প্রাগপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক গোলাম কিবরিয়া লালনকে সম্মানের সাথে বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছে পুলিশ। 

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাকে নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। এ সময় দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রদীপ কুমার দাশ উপস্থিত ছিলেন।

দৌলতপুর থানার ওসি খালেদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি আমাকে জানানোর সাথে সাথেই ‘আমি নিজে পুলিশ ফোর্স নিয়ে তাকে সসম্মানের সাথে তার বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছি।’

Advertisement

শিক্ষককে আটকের বিষয়টি জানতে পেরে প্রধানমন্ত্রী তাকে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও উপদেষ্টা মাহ্‌দী আমিন। 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, বিষয়টি জানতে পেরে প্রধানমন্ত্রী সংক্ষুব্ধ হন। পরে সংশ্লিষ্ট থানাকে শিক্ষককে সসম্মানে ছেড়ে দিয়ে নিরাপদে তার বাসায় পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেন।

মাহ্‌দী আমিন আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, মতের ভিন্নতা থাকতেই পারে এবং প্রত্যেক মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি ও মতামত তার নিজস্ব। কারও মতের সঙ্গে একমত না হলেও তার মতপ্রকাশের অধিকারকে সম্মান করা উচিত। ভিন্নমত ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রতি সম্মানই গণতন্ত্রের শক্তি বলেও প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য তুলে ধরেন তিনি।

শিক্ষক গোলাম কিবরিয়া লালন বলেন, ‘রাতে জানতে পারি, বিষয়টি সরকার প্রধানের দৃষ্টিগোচর হওয়ার পর তিনি সরাসরি নির্দেশ দেন যেন আমাকে দ্রুত সসম্মানে ও নিরাপত্তার সঙ্গে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। তার নির্দেশের পর রাতেই প্রশাসনের কর্মকর্তারা আমাকে বাড়িতে দিয়ে আসেন এবং স্থানীয়ভাবে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেন। বিষয়টি জানার পর আমি অত্যন্ত আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ি। তার এই মহানুভবতা ও মানবিক সিদ্ধান্তে আমি ও আমার পরিবার চিরকৃতজ্ঞ।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাকে থানায় নিয়ে যেয়ে কোনো অসম্মান করিনি। তারা আমাকে চেয়ার দিয়েছে বসার জন্য। আমি বসতে না চাইলেও ওসি সাহেব আমাকে সম্মান জানিয়ে চেয়ারে বসিয়ে রাখেন। আমি সবার প্রতি কৃতজ্ঞ। পুলিশ কোনো ধরনের দুর্ব্যবহার করেনি। অত্যন্ত মানবিক ও সম্মানের সঙ্গে আমাকে বসিয়ে রেখেছিল।’

ঘটনার বিষয়ে শিক্ষক গোলাম কিবরিয়া লালন  বলেন, ‘দশম শ্রেণির বাংলা ক্লাসে কয়েকজন শিক্ষার্থী সঠিকভাবে রিডিং পড়তে পারছিল না। তখন কিছুটা ক্ষোভ থেকেই শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে বলেছিলাম, কয়েকদিন আগে আমাদের প্রধানমন্ত্রীও তো জাতিসংঘে বক্তব্য দেওয়ার সময় কিছুটা আটকে গিয়েছিলেন। উনি দীর্ঘদিন দেশের বাইরে থাকায় বাংলা চর্চার ঘাটতি থাকতে পারে। কিন্তু নিয়মিত ছাত্র হয়ে তোমরা কেন রিডিং পড়তে পারবে না?’

তিনি বলেন, ‘আমার কথার উদ্দেশ্য কটূক্তি ছিল না। তবে ক্লাসে ওনার প্রসঙ্গ টানাটা ভুল হয়েছিল। পরদিন কিছু স্থানীয় ব্যক্তি স্কুলে এসে বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ তোলেন এবং বাইরে চিৎকার-চেঁচামেচি করে একটি মব তৈরির পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তখন আমার প্রাথমিক নিরাপত্তার স্বার্থেই পুলিশ এসে আমাকে থানায় নিয়ে যায়। পুলিশ কোনো ধরনের দুর্ব্যবহার করেনি, বরং অত্যন্ত মানবিক ও সম্মানের সঙ্গে আমাকে বসিয়ে রেখেছিল।’

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাতেই শিক্ষককে সসম্মানে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক তোহিদ বিন হাসান জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা পাওয়ার পর দৌলতপুর থানা পুলিশ ও এসি ল্যান্ড শিক্ষককে সসম্মানে বাড়িতে পৌঁছে দেন। স্থানীয়ভাবে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে কি না, সে বিষয়েও প্রধানমন্ত্রী খোঁজ নিয়েছেন বলে জানান তিনি। 

প্রসঙ্গত, বুধবার বেলা ১১টার দিকে ভেড়ামারা-প্রাগপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের প্রাগপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে থেকে শিক্ষক গোলাম কিবরিয়া লালনকে পুলিশ হেফাজতে নেয়। তিনি দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর পশ্চিমপাড়া এলাকার মৃত সামছুদ্দিন আহমেদের ছেলে।

স্থানীয় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও বাসিন্দাদের অভিযোগ, মঙ্গলবার বিকেলে বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির বাংলা ক্লাসে জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া সাম্প্রতিক বাংলা ভাষণের প্রসঙ্গ ওঠে। এ সময় শিক্ষক লালন প্রধানমন্ত্রীর বাংলা উচ্চারণ নিয়ে মন্তব্য করেন। একপর্যায়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন বলেও অভিযোগ ওঠে।

বিষয়টি শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে অভিভাবকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে বুধবার সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে কয়েকজন অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দা জড়ো হয়ে শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। একপর্যায়ে সেখানে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং শিক্ষক লালনকে থানায় নিয়ে যায়।

ডেইলি-বাংলাদেশ/জেডআই
ট্যাগ: কুষ্টিয়া
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!