ঢাকা,  সোমবার   ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

পা হারানো রায়হানের পড়ালেখার দায়িত্ব নিলেন লোহাগাড়ার ইউএনও

লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২১:০৬, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পা হারানো রায়হানের পড়ালেখার দায়িত্ব নিলেন লোহাগাড়ার ইউএনও
লোহাগাড়ায় চুনতিতে পা হারানো সেই রায়হান

ঢাকায় নির্যাতনের ঘটনায় ডান পা হারানো চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি সাতগড় নয়াপাড়ার ১২ বছর বয়সী শিশু রায়হানের পাশে দাঁড়িয়েছে উপজেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে তার ভবিষ্যৎ পড়ালেখার দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বায়েজিদ-বিন-আখন্দ।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে রায়হানকে নগদ অর্থসহায়তা দেওয়া হয়। এ সময় ইউএনও জানান, অঙ্গহানির কারণে রায়হানের জন্য প্রতিবন্ধী ভাতার ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে তার ১৮ বছর বয়স পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত পড়ালেখাসহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এ সময় উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রিদুয়ানুল করিম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের বিধান মিত্র ও সিএ মো. হেলাল এবং লোহাগাড়া উপজেলা ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা কায়ছার উদ্দিন আরিফসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

Advertisement

ইউএনও মো. বায়েজিদ-বিন-আখন্দ বলেন, গণমাধ্যমকর্মীর মাধ্যমে রায়হানের বিষয়ে জানতে পেরে তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের ব্যবস্থা করা হয়। পরে রায়হানের বাবা তাকে নিয়ে ইউএনওর কার্যালয়ে আসেন।

তিনি বলেন, ‘পা হারানো রায়হানের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পেরে এবং তাকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে পেরে মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। বিষয়টি শুনে আমি খুবই ব্যথিত হয়েছি। ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে রায়হানকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।’

ইউএনও আরও বলেন, ‘উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে রায়হানের জন্য স্থায়ীভাবে কিছু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অঙ্গহানির কারণে তার প্রতিবন্ধী ভাতার ব্যবস্থা করা হবে। সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে ১৮ বছর বয়স পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত তার পড়ালেখার জন্য সব ধরনের সহযোগিতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

রায়হান যাতে মানসিকভাবে ভেঙে না পড়ে, সে বিষয়েও নিয়মিত নজরদারি করা হবে বলে জানান ইউএনও। তিনি বলেন, পারিবারিকভাবে যাতে কোনো ধরনের হয়রানি বা নিরাপত্তাহীনতার শিকার না হয়, সে বিষয়েও উপজেলা প্রশাসন খোঁজ রাখবে। প্রয়োজনে রায়হান ও তার পরিবারের পাশে সব সময় উপজেলা প্রশাসন থাকবে।

রায়হানের বাবা দিনমজুর নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘সকালে ইউএনও স্যার আমাকে ফোন দিলে আমি তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করি। সন্ধ্যায় ছেলেকে নিয়ে তাঁর কাছে আসি। ইউএনও স্যার আমার ছেলেকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন এবং তার পড়ালেখার খরচ বহন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।’

তিনি ইউএনওসহ উপজেলা প্রশাসনের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

ডেইলি-বাংলাদেশ//এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!