হুমকির মুখে টাঙ্গাইলের তাঁতশিল্প, প্রণোদনা চান মালিক-শ্রমিকরা
টাঙ্গাইলে হুমকির মুখে পড়েছে তাঁত শিল্প। করোনা পরিস্থিতি আর ভয়াবহ বন্যার কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বন্যায় তাঁত ঘর তলিয়ে তাঁতের মূল্যবান যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
তাঁত মালিকদের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি কয়েক হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। এ অবস্থায় সরকারি সহায়তা চান তাঁত মালিকরা।
টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার বাথুলী সাদী এলাকার তাঁত মালিক বাদল মিয়া। বিভিন্ন এনজিও এবং ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে বাড়িতে ২৫টি তাঁত গড়ে তুলেন। গত ৪ মাস ধরে করোনা পরিস্থিতিতে কাপড় উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।
এরমধ্যেই ভয়াবহ বন্যায় ১ মাস ধরে তাঁতগুলো পানিতে তলিয়ে নষ্ট হচ্ছে মূল্যবান যন্ত্রাংশ। তার দাবি, পুনরায় কাপড় উৎপাদন করতে প্রতিটি তাঁতে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা খরচ করতে হবে।
তাঁত মালিক বাদল মিয়া বলেন, ২৫টা তাঁতে কমপক্ষে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা মেরামত করতে লাগবে।
বাদল মিয়ার মতো টাঙ্গাইলের বাসাইল, কালিহাতি,দেলদুয়ার ও টাঙ্গাইল সদর উপজেলার হাজার হাজার তাঁত মালিকেরও একই অবস্থা। বেশিরভাগ তাঁতঘরই পানিতে তলিয়ে। এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সরকারি প্রণোদনার দাবি তাঁত মালিকদের।
এ ব্যাপারে বিভিন্ন তাঁত মালিকরা বলেন, গরিব তাঁতিরা কাজ করতে পারছে না, ঘরে পানি উঠে গেছে। টাঙ্গাইলের তাঁতশিল্পকে আবার আগের জায়গায় ফিরিয়ে আনতে হলে এখানে সরকারি প্রণোদনা ছাড়া তাঁতশিল্পকে আমরা বাঁচিয়ে তুলতে পারবো না।
এদিকে শ্রমিকরা গত ৫ মাস ধরে কর্মহীন হওয়ায় পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন।
কর্মহীন একজন শ্রমিক বলেন, রুজি-রোজগার করে যা আয় উপার্জন ছিলো সেটুকু সব শেষ হয়ে গেছে। এখন টাকা নেই, আমরা না খেয়ে থাকি। যেখানে আমরা ৩ বেলা খেতাম সেখানে আমরা এখন ১ বেলা অথবা ২ বেলা খেয়ে বেঁচে আছি।
টাঙ্গাইল তাঁত বোর্ডের লিয়াঁজো অফিসার জানান, জেলায় মোট ২৫ হাজার তাঁত রয়েছে আর এতে প্রায় ১ লাখ শ্রমিক কাজ করেন। এরমধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত তাঁত মালিকদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে।
বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড, টাঙ্গাইলের লিয়াজো অফিসার রবিউল ইসলাম বলেন, যারা তাঁতিগণ রয়েছেন তারা বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড থেকে ঋণ নিয়ে যদি খুব দ্রুতই আবারো ঘুরে দাঁড়াতে পারেন সেক্ষেত্রে আমাদের সব রকমের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।