এসেড হবিগঞ্জের উদ্যোগে শান্তিগঞ্জে কৃষি মেলা
সুনামগঞ্জ জেলার শান্তিগঞ্জ উপজেলায় হাওরাঞ্চলের কৃষকদের জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সক্ষম করে তোলা এবং স্বল্প জীবনকালীন, আগাম ও উচ্চফলনশীল ধানের জাতের চাষ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে এসেড হবিগঞ্জের উদ্যোগে শুরু হয়েছে ১০ দিনব্যাপী কৃষি মেলা ২০২৬।
এসেড হবিগঞ্জ সূত্রে জানা গেছে, হাওরাঞ্চলের কৃষকদের জলবায়ু সহিষ্ণু ও আগাম উচ্চফলনশীল ধানের জাত চাষে উদ্বুদ্ধ করতে এই কৃষি মেলার আয়োজন করা হয়েছে।
জানা যায়, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এসেড হবিগঞ্জ কর্তৃক তিন বছর মেয়াদি বাস্তবায়নাধীন এনরিচ প্রকল্পের উদ্যোগে আয়োজিত এ কৃষি মেলা ৫ অক্টোবর ২০২৬ থেকে শুরু হয়ে আগামী ১৪ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত শান্তিগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের মোট ২০টি গ্রাম ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অনুষ্ঠিত হবে।

- প্রকল্পটি শেয়ার দ্যা প্লানেট এসোসিয়েশন, জাপান-এর মাধ্যমে জাপান ফান্ড ফর গ্লোবাল এনভায়রনমেন্ট (জেএফজিই)-এর আর্থিক সহযোগিতায় এসেড হবিগঞ্জ বাস্তবায়ন করছে।
কৃষি মেলার প্রধান লক্ষ্য হলো হাওরাঞ্চলের কৃষকদের জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় প্রস্তুত করা এবং বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) উদ্ভাবিত স্বল্প জীবনকালীন, আগাম ও জলবায়ু সহিষ্ণু উচ্চফলনশীল বিভিন্ন ধানের জাত সম্পর্কে কৃষকদের অবহিত করা।

একই সঙ্গে এসব জাতের ধান চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করা এবং স্থানীয় পর্যায়ে এর প্রচার ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে হাওরাঞ্চলের কৃষি উৎপাদনকে আরও টেকসই, উৎপাদনশীল ও ঝুঁকিসহিষ্ণু করে তোলাও এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।
কৃষি মেলার প্রথম দিনে, ৫ অক্টোবর ২০২৬, সোমবার, জয়কলস ইউনিয়নের ডুংরিয়া বাজারে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত এবং আস্তমা পয়েন্টে দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দুটি পৃথক কৃষি মেলা অনুষ্ঠিত হয়।
মেলায় বক্তব্য রাখেন এসেড হবিগঞ্জের প্রোগ্রাম ম্যানেজার নির্মল কুমার বিশ্বাস, প্রজেক্ট অফিসার এ. এইচ. এম. আনিসুজ্জামান এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রজেক্ট অফিসার সাজ্জাদুর রহমান। এছাড়াও ফিল্ড অ্যাসিস্ট্যান্ট জামিল হক, দিপলু সূত্রধর, জাকারিয়া এবং মেসাদ্দিক হোসেন সাকিবসহ প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

মেলায় হাওরাঞ্চলের পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে সক্ষম বিভিন্ন স্বল্পমেয়াদি, আগাম ও উচ্চফলনশীল ধানের জাতের বীজ প্রদর্শন করা হয়। পাশাপাশি এসব ধানের জাতের বৈশিষ্ট্য, চাষাবাদ পদ্ধতি, বীজ ব্যবস্থাপনা, উৎপাদন সম্ভাবনা এবং হাওরের আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি মোকাবিলায় আগাম জাতের গুরুত্ব সম্পর্কে কৃষকদের বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়।
মেলায় অংশগ্রহণকারী কৃষকরা বিভিন্ন ধানের জাত, চাষাবাদ পদ্ধতি, ফলন, বীজ সংরক্ষণ ও কৃষি প্রযুক্তি বিষয়ে নানা প্রশ্ন করেন। প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাঁদের প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেন। পাশাপাশি কৃষকদের অভিজ্ঞতা, মতামত ও পরামর্শ গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করা হয়, যা ভবিষ্যতে প্রকল্পের কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে সহায়ক হবে।