কয়রায় হিন্দু শিক্ষক পড়াচ্ছেন ইসলাম শিক্ষা!
খুলনার কয়রা উপজেলা সদর থেকে ৫ কিলোমিটার দুরে গড়িয়াবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।এই বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ১৪৩ জন। এর মধ্যে মুসলিম ৮৭ জন।
বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের পড়ানোর জন্য ছয়জন শিক্ষক থাকলেও মুসলিম শিক্ষক নেই। সবাই হিন্দু ধর্মাবলম্বী। হিন্দু শিক্ষক দিয়ে পড়ানো হচ্ছে ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা বই।
অপরদিকে হয়াতখালি নদীর পাশে বাবুরাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এ বিদ্যালয়ে পাঠদানের জন্য কর্মরত আছে ৫ জন শিক্ষক। এখানেও সকল শিক্ষক হিন্দু সম্প্রদায়ের। এ বিদ্যালয়েও ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা পড়ানো হচ্ছে হিন্দু শিক্ষক দিয়ে।
উপজেলার শেষ ইউনিয়ন দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়ন। এই ইউনিয়নের দক্ষিণ বেদকাশী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবস্হা আরও শোচনীয়। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ১৯ বছর ধরে বিদ্যালয়টিতে নেই কোনো মুসলিম শিক্ষক।
শুধু গড়িয়াবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,বাবুরাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বা দক্ষিণ বেদকাশী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নয় সুন্দরবনসংলগ্ন খুলনার কয়রা উপজেলার এরক ২০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে কোনো মুসলিম শিক্ষক নেই। এসব বিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থী মুসলিম হলেও ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা পড়ানোর দায়িত্ব পালন করছেন হিন্দু শিক্ষকরা। এতে আরবি ভাষা, সূরা ও কেরাত শেখানোর ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন অভিভাবকরা।
উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, হিন্দু শিক্ষক দিয়ে পাঠদান করানো বিদ্যালয়গুলো হলো—হাতিয়ারডাঙ্গা প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাঁশখালী প্রাথমিক বিদ্যালয়, হড্ডা ডিএম প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর মহেশ্বরীপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়, হড্ডা প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাবুরাবাদ প্রাথমিক বিদ্যালয়, হরিয়ারপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়, বানিয়াখালি সুন্দরবন প্রাথমিক বিদ্যালয়, তালবাড়িয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ ভাগবা প্রাথমিক বিদ্যালয়, আংটিহারা প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ বেদকাশী প্রাথমিক বিদ্যালয়, গাংরকি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পশ্চিম হড্ডা প্রাথমিক বিদ্যালয়, গড়িয়াবাড়ী প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাউলিয়াঘাটা প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঠাকুরের চর প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ হাতিয়ারডাঙ্গা প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ হড্ডা পল্লী উন্নয়ন প্রাথমিক বিদ্যালয় ও হাতিয়ারডাঙ্গা পূর্বচক প্রাথমিক বিদ্যালয়।
গড়িয়াবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অভিভাবক মো. সাহেব আলী সানা বলেন, শিক্ষকরা হিন্দু ধর্মাবলম্বী হওয়ায় তাদের পক্ষে আরবি সূরা ও কেরাত শুদ্ধভাবে শেখানো সম্ভব হচ্ছে না। এতে শিশুদের বুনিয়াদি ধর্মীয় শিক্ষা অপূর্ণ থেকে যাচ্ছে।
বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক বিজন বিহারী বর্মন বলেন, ভৌগোলিক দূরত্বের কারণে নতুন শিক্ষকরা এখানে পদায়ন পেলেও দ্রুত বদলি হয়ে চলে যান। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হচ্ছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে বলে তিনি আশা করেন।
কয়রা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তপন কুমার কর্মকার বলেন, সরকারি শিক্ষক নিয়োগের নীতিমালায় ধর্মের ভিত্তিতে শিক্ষক পদায়নের নিয়ম নেই। ফলে এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হবে।
খুলনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শেখ মো. নূরুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আলাদাভাবে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ দেয় না। আমরা নীতিমালার আলোকে শিক্ষক দিয়ে থাকি। এবিষয়ে অধিদপ্তরে আগেই জানানো আছে। আলাদাভাবে ধর্মীও শিক্ষক নিয়োগ দিলে তখন এ সমস্যা সমাধান হবে।