ঢাকা,  রোববার   ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

হবিগঞ্জে বাড়ছে কোরবানির পশু কেনা-বেচা

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৭:৩৫, ২৯ জুলাই ২০২০
হবিগঞ্জে বাড়ছে কোরবানির পশু কেনা-বেচা
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

হবিগঞ্জের প্রতিটি হাটে শেষ মুহূর্তে এসে বাড়ছে কোরবানির পশু কেনা-বেচা। যদিও বিক্রেতাদের দাবি, প্রতিটি গরুতে লোকসান গুণছেন তারা। বুধবার জেলার হাটগুলো ঘুরে এমন চিত্রই পাওয়া গেছে। 

বিক্রেতারা জানান, এবারের কোরবানির ঈদে লাভ নয়, আসল নিয়েই দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা। যদিও ক্রেতারা বলছেন, গত বছরের তুলনায় এবার কোরবানির পশুর দাম কিছুটা সহনীয়। তবে তা গরু প্রতি ৩ থেকে ৫ হাজার টাকার মধ্যে। 

কোরবানির হাট ঘুরে আরো দেখা যায়, বাজারে আসা ক্রেতা-বিক্রেতা কেউই স্বাস্থ্য বিধি মানছেন না। এমনকি হাটে আসা অনেকেরই মুখে মাস্কও নেই। 

অপরদিকে, জেলা প্রশাসন বলছে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই কোরবানির হাট বসাতে হবে। অন্যথায় কোনো হাট বসাতে দেয়া হবে না। এছাড়া স্বাস্ব্যবিধি নিশ্চিতে মাঠে কাজ করছে একাধিক ভ্রাম্যমাণ আদালতের টিম।

জেলা প্রশাসনের সূত্রমতে, এবার কোরবানির পশু কেনা বেচার জন্য জেলায় মোট ৬৩টি হাট বসেছে। এর মধ্যে ১৪টি স্থায়ী হাট। আর অপরগুলো কোরবানি উপলক্ষে বসানো ভ্রাম্যমাণ হাট। আর এসব হাটে জেলার খামারি ছাড়াও দূর-দূরান্ত থেকে ব্যবসায়ীরা গরু-ছাগল নিয়ে এসেছেন। কোনো কোনো বিক্রেতা একাধিক গরু বিক্রি করতে পারলেও অনেক বিক্রেতা এখনো বিক্রি শুরুই করতে পারেনি। তবে সময় যত যাচ্ছে পশু কেনা-বেচা বাড়ছে। 

এদিকে, এবার বাজারে বড় গরুর চেয়ে দেশীয় মাঝারি সাইজের গরুর প্রতি কদর বেশি ক্রেতাদের। মাঝারি সাইজের গরুই এখন পর্যন্ত হাটে বেশি কেনা-বেচা হচ্ছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের তথ্যমতে, এ বছর হবিগঞ্জ জেলায় প্রায় আড়াই হাজার খামারে কোরবানির পশু বিক্রির জন্য লালন পালন করা হয়েছে। সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে হাওরের ও পাহাড়ের সবুজ ঘাস খাওয়ানো হয়েছে এসব গরু-ছাগলকে। যে কারণে ক্রেতাদের কাছে দেশীয় এসব গরুর চাহিদা রয়েছে ব্যাপক।

এবারের কোরবানির ঈদে জেলায় ৩৫ হাজার গরু, ১৯৬টি মহিষ, ৭ হাজার ছাগল ও ৩ হাজার ৭৬৬টি ভেড়া নির্ধারণ করা হলেও তার চেয়ে বেশি পশু বাজারে উঠেছে। এছাড়া অনেক খামারি খামার থেকেও গরু বিক্রি করছেন।

সরেজমিনে শহরের যশোরআব্দা এলাকায় হবিগঞ্জ পৌর গরুর হাট ঘুরে দেখা যায়, হবিগঞ্জ শহরতলীর রামপুর এলাকার গরু ব্যবসায়ী তুহিন মিয়া ৬টি গরু নিয়ে হাটে এসেছেন। এর মধ্যে প্রায় সাড়ে ১৭ মণ ওজনের ১টি গরুর দাম হাঁকা হয়েছে ৫ লাখ টাকা। তিনি জানান, গরুটির দাম উঠেছে সাড়ে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত। 

শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার চরহামুয়া গ্রামের ব্যবসায়ী আরব আলী সাতক্ষীরা জেলা থেকে ২৫টি গরু নিয়ে এসেছেন। এর মধ্যে ১৩ মণ ওজনের একটি ষাঁড়ের দাম হাঁকা হয়েছে ৪ লাখ টাকা। তিনি জানান, গরুটির দাম উঠেছে ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা। 

বিক্রেতারা জানান, করোনা ও বন্যার কারণে এবার গরুর দাম কম। তাই তাদের ন্যায্য মূল্য পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন তারা।

হবিগঞ্জের সচেতন মহল মনে করছেন, হাটে যদি স্বাস্থ্যবিধি না মানা হয় তা হলে করোনা ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। তাই প্রশাসনকে এ বিষয়ে আরো তৎপর হয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

ইজারাদার মুকুল ভট্টাচার্য্য জানান, সময় ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে গরু বিক্রি কিছুটা বেড়েছে। তবে তা অন্য বছরের তুলনায় একেবারেই কম। গরু কেনা-বেচা যদি আরো না বাড়ে তা হলে তিনি হাটের ইজারার টাকা উঠানো নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন। এছাড়া হাটে সাধারণ মানুষ যাতে স্বাস্থ্য বিধি মানেন সে জন্য মাইকিংসহ হাত ধোয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. প্রকাশ রঞ্জন বিশ্বাস বলেন, প্রতিটি হাটে জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের মনিটরিং রয়েছে, যাতে রোগা বা কোনো রোগে আক্রান্ত পশু খামারিরা বিক্রি করতে না পারেন। সে জন্য হাটে সার্বক্ষণিক তদারকি করা হচ্ছে।

হবিগঞ্জের ডিসি মো. কামরুল হাসান বলেন, স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে জেলা প্রশাসন। কোরবানির হাটকে কেন্দ্র করে একাধিক ভ্রাম্যমাণ আদালত টিম মাঠে রয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি না মানলে জরিমানাসহ কারাদণ্ড দেয়া হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/জেএইচ/এমকেএ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!