সরিষাবাড়ীতে বন্যার পানির তোড়ে সেতুর সংযোগ সড়ক বিচ্ছিন্ন
জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার সাতপোয়া ইউপির শিশুয়া-বাঘমারা ব্রিজের সংযোগ সড়কের প্রায় ৩০ মিটার ঝিনাই নদীর স্রোতে ধসে গেছে। এতে সরিষাবাড়ী উপজেলার সঙ্গে পার্শ্ববর্তী মাদারগঞ্জ উপজেলার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। রোববার রাতে এ ঘটনা ঘটে।
এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছে গ্রামের মানুষ। সাতপোয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবু তাহের জানান, রোববার রাত ১১টার দিকে যমুনার শাখা ঝিনাই নদীর ওপর নির্মিত শিশুয়া-বাঘমারা ব্রিজ সংলগ্ন পশ্চিম পার্শ্বের সংযোগ সড়কে ভাঙন দেখা দেয়।
বানের পানির প্রবল স্রোতে মুহূর্তেই সড়কের প্রায় ৩০ মিটার অংশ নদীতে বিলীন হয়ে ব্রিজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এতে প্রায় ২০০ মিটার দৈর্ঘ্যের ব্রিজটি হুমকির মধ্যে পড়েছে।
.png)
সরিষাবাড়ী পৌরসভা ও সাতপোয়া ইউপির প্রায় ৩০টি গ্রামের মানুষের পার্শ্ববর্তী মাদারগঞ্জে যাতায়াতের মাধ্যম এ সড়কটি ভেঙে যাওয়ায় দুই উপজেলার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন গ্রামের মানুষ।
সোমবার দুপুর ২টার দিকে ইউএনও শিহাব উদ্দিন আহমদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট বিভাগের সঙ্গে কথা বলে শিগগিরই বালুর বস্তা ফেলে বা বাঁশের সাঁকো দিয়ে আপাতত জনসাধারণের চলাচলের ব্যবস্থা করা হবে।
অন্যদিকে ২৫ জুলাই দুপুরে বন্যার পানির তোড়ে ইসলামপুর উপজেলার গোয়ালের চর ইউপির সভারচর এলাকায় একটি সেতু ভেঙে গোয়ালের চর ইউপির সঙ্গে ইসলামপুর শহরের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। উপজেলা প্রকৌশলী সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালে ব্রিজটি প্রায় ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়।
মাদারগঞ্জে বাঁধ ভেঙে ১০ গ্রাম প্লাবিত হবার ঘটনায় ২৫ জুলাই সকালে পরিদর্শন করেন ডিসি মোহাম্মদ এনামুল হক। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের উদ্দেশে মোহাম্মদ এনামুল হক বলেন, বন্যাকবলিত মানুষের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হবে। যাতে একটি লোকেও না খেয়ে থাকে সেদিকে আমাদের নজর থাকবে। তিনি আরো বলেন, এই অঞ্চলের মানুষের জন্য একটি স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।
এদিকে বকশীগঞ্জ উপজেলায় নিলাক্ষিয়া ইউপিতে স্রোতের কারণে সাজিমারা থেকে নয়াপাড়া যাওয়ার রাস্তা ভেঙে যায়। এতে নিলাক্ষিয়া ইউপির পার্শ্ববর্তী ইসলামপুর থানার সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এতে হাজার হাজার মানুষ দুর্ভোগে পড়েছে।
জেলার ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. নায়েব আলী জানান, বন্যায় জেলার ২ লাখ ৪৮ হাজার ৬৩৪টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ৩৮৬টি বাড়ি সম্পূর্ণ ও ১৩ হাজার ৭৩৮টি বাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যায় ৫ হাজার ৯৭টি নলকূপ ডুবে গেছে। আর ১১ হাজার ৫৩০ হেক্টর ক্ষেতের ফসল নষ্ট হয়ে গেছে।
তিনি আরো জানান, বন্যার কারণে ৬৬ কিলোমিটার পাকা সড়ক ও ১৯৪ কিলোমিটার কাঁচা সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ৫টি ব্রিজ ও কালভার্ট, ২৬৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ৬৫৮টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যায় জেলার ৮৮টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৩ হাজার ৮৩৩টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে।