দণ্ডিত আসামিদের খোঁজ পেলেই গ্রেপ্তার করে দেশে আনা হবে: চিফ প্রসিকিউটর
জুলাই হত্যাযজ্ঞের মামলায় ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের মৃত্যুদণ্ডের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে পলাতক সবার অবস্থান শনাক্ত করে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) জুলাই হত্যাযজ্ঞের মামলায় ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের বিরুদ্ধে রায়ে সবার মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
.png)
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে আমিনুল ইসলাম বলেন, আসামিদের লোকেশন শনাক্ত করতে পারলে তাদের ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হবে। অপরাধ করেছেন বলেই তারা পলাতক, তাদের আইনগত অধিকার প্রতিষ্ঠা করে বিচার করা হয়েছে। কোনো আসামি ইচ্ছাকৃতভাবে পলাতক থাকলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুযায়ীই বিচার চলবে।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, যে রায় হলো, আজকের পর থেকে পরবর্তী ৩০ দিন পর্যন্ত আপিলের সুযোগ থাকবে। এই সময়ে সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা যাবে না। এই সময়ের পর সম্পদ বাজেয়াপ্ত করতে কোনো আইনি বাধা থাকবে না।
তিনি আরও বলেন, আইন অনুযায়ী ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত সম্পদ বাজেয়াপ্তের বিধান আছে। এরই ধারাবাহিকতায় আজকের রায়ে প্রত্যেক আসামির স্থাবর- অস্থাবর সম্পত্তির ৫০ শতাংশ বাজেয়াপ্ত হবে। সেগুলো জুলাই ফাউন্ডেশন বা বিধিবদ্ধ কোনো সংস্থা দ্বারা বিক্রি করে বিলি-বণ্টন করার ব্যবস্থা করা হবে।
মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামিরা হলেন- আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান। তারা সবাই বর্তমানে পলাতক আছেন।
মামলার কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় গত ১৮ আগস্ট যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। ওই দিন যুক্তিতর্ক শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এরপর গতকাল ১৪ সেপ্টেম্বর মামলাটির রায় ঘোষণার জন্য মঙ্গলবারের দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন। প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক এবং আসামিপক্ষের বক্তব্য উপস্থাপনের পর মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছিল। এরপর ট্রাইব্যুনাল রায়ের দিন নির্ধারণ করেন।