‘অসহযোগিতার খবর ভিত্তিহীন’, শিশু জিসানকে উদ্ধারের তথ্য জানাল বংশাল থানা
রাজধানীর বংশাল এলাকা থেকে নিখোঁজ হওয়া ১১ বছরের মাদরাসাছাত্র জিসানকে উদ্ধার করার মাধ্যমে পুলিশের বিরুদ্ধে প্রকাশিত ‘অসহযোগিতার অভিযোগ’ সম্পর্কিত সংবাদটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য বলে দাবি করা হয়েছে বংশাল থানার পক্ষ থেকে।
বংশাল থানা পুলিশ ও গাজীপুরের শ্রীপুর থানা পুলিশের যৌথ প্রচেষ্টায় শিশুটিকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানায় বংশাল থানা।
.png)
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় “মুক্তিপণ দেওয়ার পরও শিশুকে ছাড়েনি অপহরণকারীরা, পুলিশের অসহযোগিতার অভিযোগ” শিরোনামে যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল, তা সঠিক নয়।
বিজ্ঞপ্তির তথ্যমতে, গত ২১ সেপ্টেম্বর বংশাল থানাধীন সাতরওজা খাজে নেহাল জামে মসজিদের মাদরাসা থেকে নিখোঁজ হয় গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শিশু জিসান (১১)। জিসান মাদরাসার এক সহপাঠীর মোবাইল ফোন ও টাকা সরানোর অভিযোগে ধরা পড়ার ভয়ে নিজেই আত্মগোপনে চলে যায়। সে প্রথমে লঞ্চযোগে চাঁদপুর এবং পরবর্তীতে ঢাকার কেরানীগঞ্জের এক গ্যারেজ মেকানিকের সহায়তায় সেখানে অবস্থান করছিল।
এদিকে জিসানের নিখোঁজ হওয়ার তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে একটি প্রতারক চক্র শিশুটির বাবার কাছে ইমো অ্যাপের মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। চক্রটি জিসানকে অপহরণ করা হয়েছে বলে মিথ্যা দাবি জানিয়ে ১০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়।
জিডি হওয়ার পর থেকেই তদন্তকারী কর্মকর্তা বংশাল থানার এসআই রাশেদুল ইসলাম তৎপর ভূমিকা পালন করেন। তিনি সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করেন এবং প্রতারক চক্রের ব্যবহৃত বিকাশ নম্বরের সূত্র ধরে শ্রীপুর থানা পুলিশের সহায়তায় অনুসন্ধান চালান। পরবর্তীতে জিসানের খালার মাধ্যমে তার অবস্থান নিশ্চিত হয়ে ২৭ সেপ্টেম্বর এসআই রাশেদুল ইসলাম গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে অভিভাবকের জিম্মায় বুঝিয়ে দেন।
বংশাল থানা জানায়, বিভ্রান্তিকর সংবাদটিতে পুলিশের অসহযোগিতার যে দাবি করা হয়েছিল তা সত্য নয়। পুলিশ শুরু থেকেই গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত চালিয়ে নিখোঁজ শিশুকে উদ্ধার করেছে। একই সঙ্গে জিসানের বাবার কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়া অনলাইন প্রতারক চক্রটিকে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।