১৮ কোটি মানুষের দাবি আদায়ের এই লংমার্চ: গাইবান্ধায় শফিকুর রহমান
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ১১ দলীয় ঐক্যজোটের এই লংমার্চ কোনো দলের কর্মসূচি নয়, এটি দেশের ১৮ কোটি মানুষের দাবি আদায়ের লংমার্চ। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করা হলে এই লংমার্চের প্রয়োজন হতো না।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে ১১ দলীয় ঐক্যজোটের আট দফা দাবিতে আয়োজিত ঢাকা থেকে রংপুর লংমার্চের গাইবান্ধার পলাশবাড়ী চৌমাথা এলাকায় আয়োজিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা হলে লংমার্চ করতাম না। চাঁদাবাজি বন্ধ হলে লংমার্চ করতাম না। দেশে দুর্নীতি বন্ধ হলে লংমার্চ করতাম না। মানুষ বিদ্যুৎ পেলে লংমার্চ করতাম না। ন্যায্য মূল্যে পর্যাপ্ত সার পেলে লংমার্চ করতাম না। মানুষ যদি ঘরে ঘরে নিরাপত্তা পেত, তাহলেও লংমার্চ করতাম না।’
.png)
কুমিল্লায় এক কলেজ শিক্ষকের সন্তানের মরদেহ উদ্ধারের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘একজন শিক্ষকের সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া সন্তান নিখোঁজ হলো। দুই দিন পর তার মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। এভাবে আর কত মায়ের বুক খালি হবে? আমরা কি নীরবে বসে বসে তা দেখব? বিবেকের কাছে আমরা পরাজিত। এই জুলুম ও অন্যায় আর সহ্য করতে পারছি না। সে কারণেই আমাদের এই লংমার্চ।’
জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, ‘প্রিয় দেশবাসী, আমাদের এসব দাবি যদি সরকার মেনে নেয়, আল্লাহর কসম, লংমার্চের প্রয়োজন হতো না। এই দাবিগুলো আমাদের দলের কোনো দাবি নয়। প্রত্যেকটি দাবি দেশের ১৮ কোটি মানুষের দাবি।’
তিনি বলেন, ‘সরকার যদি এসব দাবি মেনে না নেয়, তাহলে আজ আট দফা, কাল নয় দফা, পরে ১০ দফা এবং শেষ পর্যন্ত এক দফা হবে।’
প্রয়োজনে এক দফা দাবি আদায়ে আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা সরকারকে সময় দিচ্ছি। শুভবুদ্ধির উদয় হোক। অন্যায় যে করে এবং অন্যায় যে সহে, দুজনই সমান অপরাধী।’
তিনি আরও বলেন, ‘দাবি আদায় না হলে ঢাকায় বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে। আপনারা রাজি আছেন? আপনারা প্রস্তুত থাকবেন। আপনারা তো যাবেনই। সারা দেশের মুক্তিকামী মানুষকে সঙ্গে নিয়ে নারী-পুরুষ সবাই ঢাকায় আসবেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা ঘরে ফিরব না, ইনশাআল্লাহ।’
এর আগে পথসভায় বক্তব্য দেন ১১ দলীয় ঐক্যজোটের লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসিরুদ্দীন পাটোয়ারী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিপি সাদিক কায়েম, জিএস ফরহাদ হোসেনসহ জোটের কেন্দ্রীয় নেতারা।
গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট দূর করা, দলীয়করণ, দখলদারত্ব, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে শনিবার সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউ থেকে ঢাকা থেকে রংপুর লংমার্চ শুরু হয়।
লংমার্চের প্রথম পথসভা হয় গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাস সড়কে। এরপর টাঙ্গাইল নগর জালফৈ বাইপাস সড়কে দ্বিতীয়, সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল মোড়ে তৃতীয়, বগুড়ার মাটিডালি বিমান মোড়ে চতুর্থ এবং গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পঞ্চম পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। এসব পথসভায় জামায়াতে ইসলামীর আমিরসহ ১১ দলীয় ঐক্যজোটের কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য দেন।
পরে বাদ এশা রংপুর জিলা স্কুল মাঠে লংমার্চের সমাপনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।