আইনস্টাইন পাঁচ বছর কথাই বলেননি
একবার জাপানে মানুষ টানা রিকশায় আইনস্টাইনকে উঠতে বলা হল। ব্যথিত হয়ে তিনি বলেন, একজন মানুষ পশুর মতো টানবে, আমি নির্বিকার হয়ে বসে থাকবো তা কি করে হয়। সবাই অনেক অনুরোধ করেছিলেন তখন। কিন্তু এরপর তাকে ঐ রিকশায় উঠানো যায়নি।
তিনি অহংকারী ছিলেন না। নিজেকে কখনো বড় মাপের বিজ্ঞানী ভাবেননি। পদার্থ বিজ্ঞানের ছাত্র হিসেবেই ভাবতেন। একবার লন্ডনে এক অনুষ্ঠানে এক তরুণীর সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সময় আইনস্টাইন বলেছিলেন, ‘আমি পদার্থ বিজ্ঞানের ছাত্র। জবাবে তরুণী আইনস্টাইনকে না চিনেই বলেছিলেন ‘আমি পদার্থ বিজ্ঞানে মাস্টার্স শেষ করেছি।’
কিন্তু আত্মবিশ্বাসের অভাব ছিল না। জার্মানি শেষ বার ছাড়ার পর সে সময়কার একশো বিজ্ঞানী তার তত্ত্ব ভুল বলে মহা হইচই শুরু করেন। তখন আইনস্টাইন রাগ করেননি। ব্যাপারটা সহজভাবেই নিলেন। অসম্ভব আত্মবিশ্বাস নিয়ে বললেন, আরে এ সব কী, একশো জনের কি প্রয়োজন, মাত্র এক জন ভুল ধরিয়ে দিলেই তো হয়।
আইনস্টাইনের পাঁচ বছর বয়স পর্যন্ত কোনো কথা বলতেন না। সবাই মনে করতেন তিনি বাকপ্রতিবন্ধী হয়ে গেছেন। একরাতে তার বাবা-মায়ের এই ভুল ভাঙে। রাতে স্যুপ খাওয়ানোর সময় আইনস্টইন বলে ওঠেন- স্যুপটা বেশ গরম! বাবা জিজ্ঞেস করেন তুমি কথা বলতে পারো? আইনস্টাইন উত্তর দিলো- হ্যা, পারি। তার মা তাকে জিজ্ঞেস করলো- এতোদিন কথা বলোনি কেনো? আইনস্টাইন বললো- এতোদিন সব ঠিকঠাকই ছিল, কথা বলার প্রয়োজন হয়নি।
১৯২১ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন আইনস্টাইন। পুরো নাম আলবার্ট আইনস্টাইন। ১৮৭৯ সালের ১৪ মার্চ জার্মানির উল্ম শহরে আইনস্টাইন জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৯৯ সালে টাইম সাময়িকী আইনস্টাইনকে ‘শতাব্দীর সেরা ব্যক্তি’ হিসেবে ঘোষণা করে।
আইনস্টাইনের শৈশব কেটেছে জার্মানি, কৈশোর ইতালি, যৌবন সুইজারল্যান্ডে। প্রৌঢ়ত্ব জার্মানি আর বার্ধক্য আমেরিকায়।
ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম