ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩

[ রাজনীতি ]

কূটনীতিকদের সম্মানে খেলাফত মজলিসের নৈশভোজ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৩:১৪, ৬ অক্টোবর ২০২৬
কূটনীতিকদের সম্মানে খেলাফত মজলিসের নৈশভোজ
কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের সম্মানে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস নৈশভোজের আয়োজন করে। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর শেরাটন ঢাকার গ্র্যান্ড বলরুমে বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের সম্মানে ‘এ ডিপ্লোম্যাটিক ইভনিং-২০২৬’ শীর্ষক নৈশভোজের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস।

সোমবার (৫ অক্টোবর) আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার ও কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের পাশাপাশি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নেতারা এবং দলের জাতীয় সংসদ সদস্যরা অংশ নেন।

দলটির প্রচার সম্পাদক ও মিডিয়া সমন্বয়ক হাসান জুনাইদের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

অনুষ্ঠানে জার্মানির রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লটজ, ইরানের রাষ্ট্রদূত ড. জালিল রহিমি জাহানাবাদি, সিঙ্গাপুর দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ফিলিপ ওং এবং ইরাকের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ড. ওয়িসাম হুসাইন আলী আল-ইথাওয়ি উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া মালদ্বীপের ডেপুটি হাইকমিশনার আলী শাহ, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ফার্স্ট কাউন্সেলর কামিলা পার্টিকা এবং মার্কিন দূতাবাসের রাজনৈতিক কর্মকর্তা অ্যালিস কেনেডিসহ রাশিয়া, জাপান, পাকিস্তান, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, আর্জেন্টিনা ও ব্রুনাইয়ের কূটনৈতিক প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ইতিহাস, ভিশন, মিশন, ভবিষ্যৎ অগ্রাধিকার এবং দেশের সামাজিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ে সংগঠনটির দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা হয়। এ সময় সংগঠনের পক্ষ থেকে একটি প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করা হয়।

সমাপনী বক্তব্যে দলটির আমির মাওলানা মামুনুল হক নৈতিক দর্শন, ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও নারীর অধিকার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, অর্থনীতি এবং পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে দলের অবস্থান তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ইসলামী মূল্যবোধের ভিত্তিতে পরিচালিত। সংগঠনটি কোনো জনগোষ্ঠী বা রাষ্ট্রের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে না। ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি ও মূল্যবোধকে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করে দলটি।

পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে মামুনুল হক বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ এ অঞ্চলের স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। তাই প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক সম্মান, ন্যায্য বাণিজ্য ও মানবিক সংলাপের ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস কোনো নির্দিষ্ট শক্তি বা বলয়ের পক্ষপাতী নয়। জাতীয় স্বার্থ, পারস্পরিক সম্মান ও ভারসাম্যের ভিত্তিতে উন্মুক্ত ও স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতিতে বিশ্বাসী দলটি।

সংখ্যালঘু ও নারীর অধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দলের সনদে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অধিকারের নিশ্চয়তার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে নারীর ন্যায্য অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় দলটি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

মামুনুল হক আরও বলেন, স্বাধীন বিচার বিভাগ ও মুক্ত গণমাধ্যম ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা এবং জবাবদিহিমূলক সরকারের অপরিহার্য পূর্বশর্ত।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ। পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন আন্তর্জাতিক ক্বারী মাওলানা আহমদ বিন ইউসুফ।

এ সময় সংগঠনের অভিভাবক পরিষদ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি, যুব মজলিস, খেলাফত ছাত্র মজলিস ও শ্রমিক মজলিসের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!