এক করোনায় ধুঁকছে পৃথিবী, আসছে আরো প্রাণঘাতী ভাইরাস

ঢাকা, বুধবার   ২৭ মে ২০২০,   জ্যৈষ্ঠ ১৩ ১৪২৭,   ০৩ শাওয়াল ১৪৪১

Beximco LPG Gas

এক করোনায় ধুঁকছে পৃথিবী, আসছে আরো প্রাণঘাতী ভাইরাস

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:২০ ১ এপ্রিল ২০২০  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

এক করোনায় ধুঁকছে পৃথিবী এরইমধ্যে আরো প্রাণঘাতী ভাইরাসের আগমনী বার্তা জানাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। বিজ্ঞানীদের মতে, বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলেই বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া প্রাণঘাতী অতীতের অনেক মাইক্রোবস ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে।

পৃথিবীর দুই প্রান্তে বছরের পর বছর ধরে যে বরফের আস্তরণ জমা হয়ে রয়েছে, তাপমাত্রা বাড়ার কারণে তা প্রতিদিনই গলতে শুরু করেছে। ফলে বরফ স্তূপের গভীরে চাপা পড়ে থাকা এই সমস্ত প্রাণঘাতী ভাইরাস-ব্যাকটেরিয়াও ফের সক্রিয় হয়ে ওঠার আশঙ্কা করছেন বিজ্ঞানীরা।

২০১৬ সালে সাইবেরিয়ার এক ১২ বছরের শিশু অ্যান্থ্রাক্সে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। পরে গবেষণায় বিজ্ঞানীরা জানতে পারেন, বহু বছর আগে ওই এলাকায় অ্যান্থ্রাক্সের কবলে প্রচুর রেনডিয়ারের মৃত্যু হয়েছিল। সেই দেহগুলো বরফের নীচে চাপা পড়েছিল। পানি এবং খাবারের সঙ্গে মিশে  বা অন্যকোনোভাবে জীবাণুগুলো ওই শিশুর সংক্রমণ ঘটায়।

শুধু এই একটা ঘটনাই নয়, গবেষণা চালিয়ে বিজ্ঞানীরা বরফের নীচে চাপা পড়ে থাকা একাধিক প্রাণঘাতী জীবাণুর খোঁজ পেয়েছেন। যেমন ২০০৫ সালে নাসার বিজ্ঞানীরা আলাস্কার একটি বরফ হ্রদ থেকে ৩২ হাজার বছরের পুরনো এক ব্যাকটেরিয়া খোঁজ পেয়েছেন। এর দুই বছর পর ২০০৭ সালে  অ্যান্টার্কটিকার বরফে চাপা পড়ে থাকা ৮০ লাখ বছরের পুরনো এক ব্যাকটেরিয়ার সন্ধানও পেয়েছেন।

১৯১৮ সালে সারাবিশ্বের জন্য ত্রাস হয়ে উঠেছিল স্প্যানিস ফ্লু। এর সংক্রমণের ফলে প্রচুর মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। আলাস্কার তুন্দ্রায় বরফের তলার গণকবর দেয়া হয়েছিল মানুষদের। সেই জায়গা থেকেই স্প্যানিস ফ্লু ভাইরাসের জেনেটিক অংশ পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

এমনকি একইভাবে সাইবেরিয়ায় বরফের নিচ থেকে গুটি বসন্ত এবং বিউবোনিক প্লেগ-এর ভাইরাসও মিলেছে। ১৮৯০ সালে সাইবেরিয়াতে মহামারি আকার নিয়েছিল গুটি বসন্ত। ৪০ শতাংশ জনবসতি সাফ হয়ে গিয়েছিল এই রোগে।

ফ্রান্সের এইক্স-মারসেলি ইউনিভার্সিটি বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, বিভিন্ন ধরনের মাইক্রোবসের জন্য খুব ভাল সংরক্ষকের কাজ করে বরফের স্তূপ। কারণ অত্যন্ত ঠান্ডা, কোনও অক্সিজেন নেই এবং সূর্যের আলোও পৌঁছয় না। ফলে যুগ যুগ ধরে বরফের তলায় নিষ্ক্রিয় অবস্থায় বেঁচে থাকতে পারে এরা।

এখন প্রশ্ন হলো সেসব প্রাণঘাতী মাইক্রোবসের সঙ্গে যুদ্ধে জয়ী হতে পারব আমরা? নাকি আরো একবার মৃত্যু-মিছিল শুরু হবে বিশ্বে?

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএস