ঢাকা,  রোববার   ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

সুন্দরবনে শিকারি চক্রের বড় চালান আটক, অবমুক্ত ২২ চিত্রল হরিণ

শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৬:০৫, ৫ মে ২০২০
সুন্দরবনে শিকারি চক্রের বড় চালান আটক, অবমুক্ত ২২ চিত্রল হরিণ
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

সুন্দরবনে শিকারি চক্রের স্মরণকালের সবচেয়ে বড় চালান আটক করা হয়েছে। এ সময় ২২টি চিত্রল হরিণ উদ্ধার করে অবমুক্ত করা হয়।

এছাড়া ৩০ কেজি হরিণের মাংস, ৭০০ ফুট হরিণ ধরা নাইলনের দড়ির ফাঁদ, দুটি ইঞ্জিনচালিত ট্রলার, একটি ডিঙি নৌকা আটক করা হয়। সোমবার সকালে বন বিভাগের এ অভিযানে শিকারি চক্রের তিন সদস্যকেও আটক করা হয়।

জীবিত হরিণের বৃহত্তম এই চালান ধরা পড়ার পর বন বিভাগে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। 

পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের টিয়ারচরে অভিযান চালিয়ে বৃহত্তম এই হরিণের চালান আটক করা হয়। শিকারিচক্রের তিন সদস্য, মাংস ও অন্যান্য মালামাল মঙ্গলবার সকালে রেঞ্জ অফিসে আনার পর ওই শিকারিদের বিরুদ্ধে বন ও বন্যপ্রাণী আইনে মামলা দিয়ে দুপুরে বাগেরহাট আদালতে পাঠানো হয়েছে।

পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বনসংরক্ষক (এসিএফ) মো. জয়নাল আবেদীন জানান, করোনার লকডাউনে মধ্যে সম্প্রতি হরিণ শিকারিচক্রের অপতৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় সুন্দরবনে টহল জোরদার করা হয়। বন বিভাগের কোকিলমনি ও জ্ঞানপাড়া টহল ফাঁড়ির বনরক্ষীদের দুটি দল গত তিন-চার দিন ধরে সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় চিরুনি অভিযান চালায়। অভিযানের একপর্যায় সোমবার সকালে টিয়ারচর থেকে তিন শিকারিকে আটক করতে সক্ষম হন তারা। 

এ সময় ওই শিকারিদের স্বীকারোক্তিমতে গহীন বনের ভেতর ফাঁদে আটকে রাখা ২২টি জীবিত চিত্রল হরিণ উদ্ধার করা হয়। তাৎক্ষণিকভাবে ফাঁদ কেটে হরিণগুলো বনে অবমুক্ত করা হয়েছে। ফাঁদের মধ্যে থেকে একটি হরিণর অর্ধেকটা বন্য শুকরে খেয়ে ফেলেছে। 

তাদের কাছ থেকে উদ্ধারকৃত ৩০ কেজি হরিণের মাংস, সাত শ ফুট ফাঁদ, দুটি ট্রলার, একটি ডিঙি নৌকাসহ বিভিন্ন শিকারসরঞ্জাম জব্দ করা হয়। জব্দ করা ৩০ কেজি মাংস আদালতের অনুমতিতে রেঞ্জ অফিস চত্বরে মাটিচাপা দেয়া হয়েছে।

এসিএফ জয়নাল আবেদীন আরো জানান, শিকারিদলের মূলহোতা পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী গ্রামের এফরান গোমস্তার ছেলে মালেক গোমস্তা (৫৫) পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। তার বিরুদ্ধে বন বিভাগ ও বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে ৫০টিরও বেশি মামলা রয়েছে। দুই মাস আগে সে জেল থেকে বেরিয়ে এসে পুনরায় হরিণ শিকারের কাজে লিপ্ত হয়। এফরান গোমস্তাও সুন্দরবনেও কুখ্যাত কাঠ ও হরিণ শিকারি হিসেবে পরিচিত। 

সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, করোনার সুযোগ নিয়ে শিকারিচক্র তৎপর হয়ে উঠলে সুন্দরবনের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করে ১০ এপ্রিল থেকে টহল জোরদার করা হয়। 

সাম্প্রতিককালে এতবড় জীবিত হরিণের চালান আটক হয়নি। বিষয়টি বন বিভাগকে ভাবিয়ে তুলেছে। এ জন্য বনের সব ইউনিটকে নজরদারি বৃদ্ধির পাশাপাশি অভিযান অব্যাহত রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!