ঢাকা,  রোববার   ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩

[ পেশা ও জীবন ]

বিদেশে খরচার জীবন !

অপূর্ব চৌধুরী
প্রকাশিত: ১১:০৪, ১ নভেম্বর ২০২৬
বিদেশে খরচার জীবন !
২ লাখ টাকা খরচ করে দেড়শ টাকার আলু ভাজা খাইতে খাইতে বাড়ি আসলাম ।

লোকজন ভাবে, বিদেশে অনেক টাকা । কিন্তু ভাবে না যে খরচা কেমন । আয়-ব্যয়ের হিসাবের পরে ইউরোপে থাকা লোকজন হাই প্রফেশনাল জব না করলে পয়সা জমাইতে পারে না ।

কারণ, পয়সা থাকে না । আজকে একটা খরচার উদাহরণ দেই । তখন বুঝতে পারবেন, দেশে কত কম টাকায় কত ভালো থাকে লোকেরা । 

ইংল্যান্ডে চোখের এবং দাঁতের খরচ অনেক বেশি । বিশেষ করে দাঁতের কোন প্রাইভেট ট্রিটমেন্ট এবং চশমা । পয়সা কম থাকা লোকজনের জন্য বিশেষ কিছু সুবিধা আছে, সস্তার সুযোগ আছে, সেটা ভিন্ন গল্প ।

কিন্তু যাদের সামর্থ্য আছে, তাদেরকে তো আর সেই সুযোগ দেবে না, অথবা তারা সেটা নেয়ও না । 

প্রতি দুই বছর অন্তর চোখ দেখাই, আহামরি তেমন কোন পরিবর্তন না হলেও ডাইনে বাঁয়ে করে লেন্সের হালকা পরিবর্তন করে দেয়, যাতে করে তাদের চশমা বিক্রি হয় । তা না হলে তো ব্যবসা লাটে উঠবে !

গত সপ্তাহে চোখ দেখিয়ে চশমা কিনতে গেলাম । বরাবরের মতো আমার প্রিয় রিমলেস ফ্রেম । আগেরটা ছিল Burberry, এবার পছন্দ করলাম Prada । দুটাই ডিজাইনা ব্র্যান্ড ।

প্রেসক্রিপশন সানগ্লাস এর জন্য নিলাম Hugo Boss এর  ফ্রেম। যদিও হুগো বসের বেল্ট, ওয়ালেট আর পারফিউম অনেকদিন থেকে প্রিয় । এবার লেন্সের পালা । একেক লেন্সের একেক দাম । মোটামুটি ভালো কোয়ালিটির বেছে নিলাম । বর্ণনার গল্প শেষ ।

এবার আসল গল্পে আসি । 

চশমার নরমাল ফ্রেমের জন্য নিলো ৩২০ পাউন্ড, প্রতিটা লেন্সের জন্য ১০০ পাউন্ড করে সাথে আরো ২০০ পাউন্ড । সানগ্লাস ফ্রেম নিলো ৩৭০ পাউন্ড, তাতে আবার প্রেসক্রিপশন লেন্স লাগানোর জন্য প্রতিটা ১২০ পাউন্ড করে ২৪০ পাউন্ড । ক্যালকুলেট করেন । 
মোট দাঁড়ালো ১১৩০ পাউন্ড । বাংলা টাকায় ১৬৫ টাকায় ১ পাউন্ড করে এক লক্ষ ৮৬ হাজার ৪৫০ টাকা । 

চশমা কিন্তু মাত্র দুইটা । দুইটা চশমার খরচ এক লক্ষ ৮৬ হাজার টাকা । তার মানে গড়ে একটা চশমার দাম পড়ল ৯০ হাজার টাকার মতো । অথচ চোখ পরীক্ষা করতে খরচ হলো মাত্র ৫০ পাউন্ড । 

প্রতি দুই বছর পর পর চশমা কেনার পরে আমি কিছুক্ষণ আউলা-ঝাউলা থাকি শকে এবং শোকে । 

রিসিট নিয়ে দোকান থেকে বের হয়ে এমন ভাবে হাঁটতে লাগলাম, মনে হলো প্রেমিকা ছেড়ে চলে গেছে আমায়, আমি জানিনা আমার বাড়ি কোথায়  ! 

একটু হাঁটার পরে মনে হল ক্ষুধা লেগেছে । শেষে ঢুকলাম ম্যাকডোনাল্ডসে । প্রায় দুই লাখ টাকায় দুইটা চশমা কিনে পাঁচ পাউন্ডের একটা বার্গারও আমার কাছে মনে হলো অনেক দামি ।

বার্গারের চিন্তা বাদ দিয়া পয়সা বাঁচাতে এক পাউন্ড দিয়ে সবচেয়ে কম দামি ফ্রেঞ্চ ফ্রাইজ এর এক ঠোঙ্গা কিনলাম । শোকে দুঃখে কেচাপ নিতে ভুলে গেলাম । 

কি আর করা ! ২ লাখ টাকা খরচ করে দেড়শ টাকার আলু ভাজা খাইতে খাইতে বাড়ি আসলাম । 
এই হইলো এখানে খরচার জীবন ! 

লেখক : প্রবাসী চিকিৎসক, প্রাবন্ধিক ও বিজ্ঞান-ত্বাত্ত্বিক গবেষক,  ইংল্যান্ড।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসএমএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!