সব দেশকে চীনের মতো মৃত্যুর গণনা সংশোধন করতে হতে পারে
করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে আসা শুরু হলে সব দেশকেই চীনের মতো মৃত্যুর গণনা সংশোধন করতে হতে পারে। জেনেভায় একটি সাংবাদ সম্মেলনে এমনটাই জানালেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ মারিয়া ফন কারখোভ।
শুক্রবার কোভিড-১৯ এর কেন্দ্রস্থল উহান সংক্রমণের তিন মাস পর নতুন করে মৃত্যুর হিসেব করেছে। সংশোধিত তালিকায় শহরটিতে মৃত্যুর হার বেড়েছে ৫০ শতাংশ। এর ফলে সে দেশের মোট মৃতের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে ৩৯ শতাংশ। এই ঘটনায় চীনের বিরুদ্ধে তথ্য গোপন করার যে অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো এনেছে, তাতেই সিলমোহর পড়ল বলে অনেকে মনে করছেন।
ডব্লিউএইচও বলছে, ডিসেম্বরে ভাইরাস সংক্রমণের পর উহান এতটাই তটস্থ ছিল যে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সঠিক হিসেব করা কর্তৃপক্ষের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছিল। তারা শুরুতে মহামারি সামাল দেয়াতেই বেশি নজর দিয়েছিল। অনলাইনে সতর্কবার্তা দেয়া চিকিৎসককে শাস্তির পর সংক্রমণের সরকারি হিসেব মাঝেমধ্যেই পাল্টানোয় প্রশ্ন উঠেছিল এই গণনা নিয়ে।
.png)
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ মারিয়া ফন কারখোভ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, চলমান মহামারির মধ্যে এটা একটা চ্যালেঞ্জের বিষয়- আক্রান্ত ও মৃতের হিসেব নথিভুক্ত করা। তবে আমি অনুমান করছি যে চীন একা নয়, এই পরিস্থিতির মুখে পড়তে হতে পারে অন্য সব দেশগুলোকেই। করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর প্রাথমিকভাবে মৃতের যে সংখ্যা বলা হয়েছিল তা বাড়াতে হতে পারে সব দেশকেই। করোনাভাইরাসের মতো মহামারির ক্ষেত্রে এটি খুব একটা অস্বাভাবিক নয়। এজন্য আমাদের আবার নতুন করে হিসেবের খাতা খুলতে হবে এবং দেখতে হবে আমরা সঠিক গণণা করেছি কিনা।
ফন কারখোভ জানান, উহান কর্তৃপক্ষ ডাটাবেসগুলো পর্যালোচনা করেছে এবং ত্রুটিগুলো আরেকবার যাচাই করেছে। সংশোধিত তালিকা অনুযায়ী উহানে আরো ১ হাজার ২৯০ জনের প্রাণহানি যুক্ত হয়েছে, সব মিলিয়ে ৩ হাজার ৮৬৯ জন। এছাড়া আক্রান্তের সংখ্যা আরো ৩২৫ জনে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০ হাজার ৩৩৩।