ভাড়া নিয়ে দ্বন্দ্বে ভাইকে পিটিয়ে হত্যা
বরিশালে সম্পত্তি নিয়ে দ্বন্দ্বে ভাইকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে অপর তিন ভাইয়ের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত দুই ভাইসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরিশাল নগরীর বগুরা রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মো. ফরিদ হোসেনর ওই এলাকার জেসমিন ভিলার বাসিন্দা এমএ মজিদ খানের ছেলে।
আটকরা হলেন, নিহতের আপন ভাই মো. শাহে আল খান, মফিজুল ইসলাম খান নান্নু ও তার ছেলে নবম শ্রেণির ছাত্র সিয়াম খান।
নিহতের অপর ভাই জিয়াউর রহমান খান জানান, তারা ১০ ভাই ও তিন বোন। তাদের মধ্যে মো. ফরিদ হোসেন খান তাদের বাড়ির সামনে থাকা কাতার থাই অ্যালুমিনিয়াম ফেব্রিকেটর নামক স্টল ভাড়া দিয়ে চলে।
সম্প্রতি স্টলের ভাড়া নিয়ে ভাইদের মধ্যে বিরোধ বাধিয়ে দেয় ওই স্টলের ভাড়াটিয়া এবং স্থানীয় বাসিন্দা কাজাজ। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কাজাজের কাছে স্টলের ভাড়া আনতে যান ফরিদ হোসেন।
এ নিয়ে দোকানের ভাড়াটিয়া কাজাজের সঙ্গে ফরিদের কথা কাটাকাটি হয়। তখন কাজাজ ফরিদের অপর ভাই মো. শাহ আলম খান, মফিজুল ইসলাম খান নান্নু, মজিবর রহমান ও ভাতিজা সিয়ামকে ডেকে নেয়।
সেখানে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে শাহ আলম, মফিজুল ইসলাম খান নান্না, মজিবর রহমান, সিয়াম এবং স্টলের ভাড়াটিয়া কাজাজ মিলে ফরিদ হোসের ওপর হামলা করেন।
এ সময় তারা ইট ও পাইপ দিয়ে পিটিয়ে ফরিদকে গুরুতর আহত করেন। বাধা দিতে গেলে তার অপর ভাই জিয়াউর রহমানকেও মারধর করেন অন্য ভাইয়েরা।
আহত ফরিদ হোসেনকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানার ওসি মো. নুরুল ইসলাম। তিনি বলেন, দোকানের ভাড়া নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
এ অভিযোগের ভিত্তিতে নিহতের ভাই অভিযুক্ত শাহ আলমকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া অপর ভাই মফিজুল ইসলাম খান নান্না ও তার ছেলে সিয়ামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি অভিযুক্ত দোকানের ভাড়াটিয়া কাজাজ ও অপর ভাই মজিবর রহমানকে আটকের চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।