ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩

[ ধর্ম ]
রয়েছে আরো কিছু অজানা তথ্য...

প্রথম যে রঙের ছিল মসজিদে নববীর সবুজ গম্বুজ

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৫:৩৭, ১ সেপ্টেম্বর ২০২০
প্রথম যে রঙের ছিল মসজিদে নববীর সবুজ গম্বুজ
মসজিদে নববীর এ বড় সবুজ গম্বুজটির এমন অনেক তথ্য রয়েছে, যা অনেকেরই অজানা।

মুসলিম উম্মাহর হৃদয়ে ঝড়তোলা একটি স্থাপনা সবুজ গম্বুজ। যা বিশ্বনবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাহি ওয়াসাল্লামের রওজা পাকের ওপর নির্মিত মসজিদে নববীর সবচেয়ে বড় সবুজটি। 

মসজিদে নববীর এ বড় সবুজ গম্বুজটির এমন অনেক তথ্য রয়েছে, যা অনেকেরই অজানা। যা সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো-

গম্বুজ বিহীন প্রিয় নবীর সমাধিস্থল: ৬৭৮ হিজরির আগে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সমাধির ওপর কোনো গম্বুজ ছিল না। ৬৭৮ হিজরি সনে আল-নাসির হাসান ইবনে মুহাম্মদ কালায়ুন সর্ব প্রথম প্রিয় নবীর সমাধিস্থলের ওপর গম্বুজ নির্মাণ করেন। যা কাঠ দ্বারা নির্মিত ছিল।

গামবাদ ই খাজরা বা সবুজ গম্বুজ: প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সমাধিস্থলের ওপর নির্মিত গম্বুজটি গামবাদ ই খাজরা নামেও পরিচিত। আগের যুগের সম্ভ্রান্ত শ্রেণির মানুষ নিজেদের কিংবা নিজেদের প্রিয়জনদের সমাধিস্থল সোনা-রূপা, হিরা-জহরতের সমন্বয়ে কারুকার্য করে সাজিয়ে রাখতো।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সমাধি স্থলের ওপর নির্মিত গম্বুজ সে অর্থে সাধারণ গম্বুজ হিসেবে নির্মিত। তাতে সেভাবে কোনো কারুকার্য করা হয়নি।

সবুজ গম্বুজের নিচে অবস্থিত প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সমাধিটি ২ হাত প্রশস্ত ও ৪১ ইঞ্জি উচ্চতা।

এ জানালাটি গম্বুজের প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই রাখা হয়েছে

গম্বুজে অগ্নিকাণ্ড: ১৪৮১ সালে ৯০০ হিজরির শুরুর দিকে মসজিদে নববীর এ গম্বুজটিতে অগ্নিকাণ্ড ঘটে। সে সময় পুরো গম্বুজটিই পুড়ে যায়। যার ফলে মসজিদের ভেতরের প্রাচীরগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যা পরে পুনর্গঠন করা হয়।

গম্বুজে জানালা: বিশ্বনবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সমাধিস্থল বরাবর মসজিদে নববীর এ গম্বুজে একটি জানালা রয়েছে। অনেকে গম্বুজের এ স্থানটির বা চিহ্নটি সম্পর্কে ভিত্তিহীন গল্প বলে থাকে যে, কেউ গম্বুজটি ভেঙে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল। মূলত এ জানালাটি গম্বুজের প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই রাখা হয়েছে।

গম্বুজের পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা: অনেকেই হয়ত মনে করে থাকনে যে, সাধারণ লোকদের দিয়েই মসজিদে নববীর বড় গম্বুজটি পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করা হয়। আসলে তা সত্য নয়। বরং এ গম্বুজটি পরিস্কার ও পরিচ্ছন্নতার কাজে সুনির্দিষ্ট বিশেষ কিছু লোক রয়েছে যারা, রাসূলুল্লাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রওজা পাকের ওপর অবস্থিত বড় গম্বুজটি পরিস্কার করে থাকেন। এ লোকদেরকে ‘ইউনুস’ বলা হয়। এ গম্বুজ পরিচ্ছন্নতায় এখনো পাঁচ জন ইউনুস নির্ধারিত রয়েছে।

গম্বুজের রং: মসজিদে নবাবীর গম্বুজটি শুরুতে থেকে সবুজ ছিল না। কাঠ দ্বারা নির্মিত গম্বুজটি প্রথমে বাদামি রঙের ছিল। কিছুকাল পরে এটি সাদা রঙে পরিবর্তন করা হয়। তারপর গম্বুজটিতে নীল ও বেগুনি রঙ ব্যবহার করা হয়।

১২৫৩ হিজরিতে অটোমান সুলতানের নির্দেশে বিশ্বনবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রওজা পাকের ওপর নির্মিত বড় গম্বুজটিতে সবুজ রঙ ব্যবহার করা হয়। যা আজো বিদ্যমান।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএজে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!