ঢাকা,  শুক্রবার   ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

[ জাতীয় ]

কারাগারে নিরাপত্তা-শৃঙ্খলা নিশ্চিতে ৭ দফা নির্দেশনা

ডেইলি-বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:৩২, ৬ নভেম্বর ২০২৬
কারাগারে নিরাপত্তা-শৃঙ্খলা নিশ্চিতে ৭ দফা নির্দেশনা
ছবি: সংগৃহীত

দেশের কারাগারগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার, শৃঙ্খলা বজায় রাখা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সাত দফা নির্দেশনা বাস্তবায়নে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে কারা অধিদপ্তর। নির্দেশনার আওতায় লকআপের পরবর্তী কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ, সার্বক্ষণিক সিসিটিভি নজরদারি, দায়িত্বে অননুমোদিত অনুপস্থিতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং আকস্মিক পরিদর্শনসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) কারা অধিদপ্তর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে, তত্ত্বাবধায়ক কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, দায়িত্বে অবহেলাকারী কর্মীদের পুনঃপ্রশিক্ষণ, প্রতিকূল আবহাওয়ায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিয়মিত তদারকি। কারাগারে কর্তব্যে অবহেলা, শৃঙ্খলাহীনতা ও নিয়মকানুন যথাযথভাবে অনুসরণ না করার কারণে নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতেই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কারা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল মেসবাহুল আলম সেলিম বাসসকে বলেন, নির্দেশনাগুলোর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে দেশের প্রতিটি কারাগারে প্রতিদিন তদারকি করা হচ্ছে। পাশাপাশি সব কারাগারকে নিয়মিতভাবে অধিদপ্তরে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

তিনি বলেন, নির্দেশনাগুলো যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণে অধিদপ্তরের অপারেশনাল শাখাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ডেপুটি জেলারসহ অতিরিক্ত জনবল নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাদের দেশের বিভিন্ন কারাগারের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে নিয়োজিত করা হবে।

কর্নেল মেসবাহুল আলম সেলিম জানান, সাত দফা নির্দেশনার অন্তত ৯০ শতাংশ বাস্তবায়ন হয়েছে। আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে এসব উদ্যোগের সুফল দৃশ্যমান হবে বলে আশা করছে অধিদপ্তর। দায়িত্ব পালনে অবহেলার দায়ে অভিযুক্ত কারা কর্মীদের এক কারাগার থেকে অন্য কারাগারে বদলির নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া লকআপের পর কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে না। জরুরি প্রয়োজনে ব্যতিক্রমী ব্যবস্থা নিতে হলে জেলারের লিখিত অনুমোদন নিতে হবে। পাশাপাশি কার্যক্রমের নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ এবং সংশ্লিষ্ট রেজিস্টারে তা লিপিবদ্ধ করতে হবে।

প্রতিটি কারাগারে ২৪ ঘণ্টা সিসিটিভি নজরদারি নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সম্ভব হলে পৃথক পর্যবেক্ষণ কক্ষ স্থাপন এবং সেখানে প্রশিক্ষিত ও তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ কারারক্ষী নিয়োগ করতে হবে। পৃথক কক্ষের ব্যবস্থা না থাকলে উপযুক্ত স্থানে মনিটর স্থাপন করে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাতে হবে।

নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মীদের অননুমোদিত অনুপস্থিতির বিষয়ে শূন্য সহনশীলতার নীতি গ্রহণ করেছে অধিদপ্তর। কোনো প্রহরী বা নিরাপত্তাকর্মী অনুমতি ছাড়া নির্ধারিত স্থান ত্যাগ করলে তাৎক্ষণিকভাবে লিখিত প্রতিবেদন দিতে হবে। পরে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ছাড়া দায়িত্বে অবহেলা কিংবা অননুমোদিত অনুপস্থিতির ঘটনা গোপন করা, প্রতিবেদন দিতে বিলম্ব করা অথবা দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট তত্ত্বাবধায়ক কর্মকর্তাদেরও জবাবদিহি করতে হবে।

বারবার দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ ওঠা নিরাপত্তাকর্মীদের জন্য পুনঃপ্রশিক্ষণ, কাউন্সেলিং ও অনুপ্রেরণামূলক কর্মসূচির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী তাদের বদলি করা যাবে। পাশাপাশি প্রচলিত বিধি অনুসারে বিভাগীয় ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে।

প্রতিকূল আবহাওয়ায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বৃষ্টি ও বজ্রপাতের সময় নিরাপত্তাকর্মীদের নির্ধারিত স্থানে অবস্থান এবং দায়িত্ব পালনে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখতে বলা হয়েছে।

কারাগারের সুপারিনটেনডেন্ট, জেলার ও অন্যান্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিয়মিত তদারকির পাশাপাশি আকস্মিক পরিদর্শন করতে হবে। এ সময় নিরাপত্তা চৌকি, সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা, প্রহরীদের দায়িত্ব পালন এবং সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ত্রুটি সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত আগস্টে জারি করা সাত দফা নির্দেশনায় বলা হয়েছিল, কারাগারের অভ্যন্তরে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা কারা প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার পাশাপাশি জনমনে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।

কারাগারের নিরাপত্তাব্যবস্থায় ত্রুটি প্রতিরোধ, প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এসব নির্দেশনা দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছে কারা অধিদপ্তর।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!